বিছে পরার শখ আছে? দেখুন সেরা কিছু বিছে ডিজাইন যা আপনার পা আরও মোহময়ী করবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 October 2025 16:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফ্যাশন দুনিয়ায় এখন এক নতুন উন্মাদনা ছড়িয়েছে। পায়ের সাজে সম্প্রতি একটি ভিন্নধর্মী ‘বিছে ফ্যাশন’ সবার নজর কেড়েছে (Bichiya fashion)। দেশের আনাচে-কানাচে তরুণী থেকে ফ্যাশন সচেতন মহিলারা নিজেদের পা সাজাতে এই অভিনব পদ্ধতি বেছে নিচ্ছেন। ঐতিহ্যবাহী অলঙ্কারের বাইরে গিয়ে আধুনিক ছোঁয়ায় তৈরি এই স্টাইল দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে (Indian accessories)। উৎসবের মরসুম হোক বা দৈনন্দিন জীবন, এই নতুন ডিজাইন পায়ের সাজকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। বর্তমানে এটি পা সাজানোর সেরা স্টাইল হিসেবে ফ্যাশনপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলছে।
বিছে ডিজাইনের পুনরুত্থান: ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন
ভারতীয় ফ্যাশন জগতে ঐতিহ্যবাহী গয়নার নকশাগুলো বারবার নতুন রূপে ফিরে আসে। সম্প্রতি ‘বিছে’ বা কাঁকড়াবিছে অনুপ্রাণিত গয়নার নকশা, বিশেষ করে পায়ের অলঙ্কারে, ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই ধরনের বিছে ডিজাইন কেবল গয়না হিসেবেই নয়, এটি পা সাজানোর স্টাইল স্টেটমেন্ট হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতীয় সংস্কৃতিতে, বিশেষত লোকশিল্প ও উপজাতীয় ঐতিহ্যে, বিছে বা কাঁকড়াবিছের নকশা বিভিন্ন রূপে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখন এই নকশাগুলো আধুনিক ভারতীয় নারীদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত হচ্ছে, কারণ এগুলো ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি করেছে। ডিজাইনাররা পুরোনো মোটিফগুলোতে নতুনত্ব যোগ করে এমনভাবে উপস্থাপন করছেন যা একসঙ্গে ক্লাসিক ও সমসাময়িক। ফলে শাড়ি, লেহেঙ্গা বা আধুনিক পোশাকের সঙ্গে বিছে ডিজাইনের গয়না সহজেই মানিয়ে যায়।
একসময় গ্রাম বাংলার কারিগরদের হাতে তৈরি এই বিশেষ ধরনের গয়না এখন শহুরে ফ্যাশনেও নিজের স্থান করে নিয়েছে। মূলত রূপা বা অন্যান্য ধাতব পদার্থের তৈরি এই অলঙ্কারে কাঁকড়াবিছের সূক্ষ্ম আকার বা তার শরীরের গঠন ফুটিয়ে তোলা হয়। কখনো ছোট বিছে মোটিফ দিয়ে, কখনো বা পায়ের ওপর বিস্তৃত নকশার মাধ্যমে এই ডিজাইন তৈরি করা হয়। এই ধরনের বিছে ডিজাইন শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, বরং পরিধানকারীর ব্যক্তিত্বেও একটি স্বতন্ত্র মাত্রা যোগ করে। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতীয় নারীরা এখন এমন গয়নার দিকে ঝুঁকছেন যা ঐতিহ্য ধরে রাখে, অথচ দেখতে আধুনিক ও আড়ম্বরপূর্ণ।
বিছে ডিজাইন কেন এত জনপ্রিয় হচ্ছে, বিছে ডিজাইনের জনপ্রিয়তার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে।
প্রথমত, সোশ্যাল মিডিয়া ও ফ্যাশন ব্লগে এই ধরনের ডিজাইনের প্রচার বেড়েছে, ফলে অল্প সময়ের মধ্যে তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে।
দ্বিতীয়ত, সোনার দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতারা সাশ্রয়ী মূল্যের বিকল্প খুঁজছেন। রূপা বা অন্যান্য ধাতুতে তৈরি বিছে ডিজাইন এই চাহিদা পূরণ করছে।
তৃতীয়ত, এই ডিজাইনগুলো অত্যন্ত বহুমুখী। এটি উৎসব বা বিয়ের অনুষ্ঠানে যেমন পরা যায়, তেমনই দৈনন্দিন জীবনে বা ছোটখাটো পার্টিতেও মানায়। উদাহরণস্বরূপ, সাধারণ সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে হালকা বিছে ডিজাইনের নূপুর বা অ্যাঙ্কলেট মানায়, আর জমকালো লেহেঙ্গা বা শাড়ির সঙ্গে ভারী বিছে ডিজাইন পায়ের সাজকে এক অনন্য মাত্রা দেয়।
বর্তমানে বিছে ডিজাইনের গয়না অনলাইন ও অফলাইন দোকানে সহজলভ্য, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে এই ফ্যাশন ট্রেন্ডে অংশ নিতে সাহায্য করছে।
বিভিন্ন ধরনের বিছে ডিজাইন এবং শৈলী
বিছে ডিজাইনে এখন প্রচুর বৈচিত্র্য দেখা যায়। কারিগররা বিভিন্ন উপাদান ও কৌশল ব্যবহার করে নতুন শৈলী তৈরি করছেন। প্রধান ধরনগুলো:
সরল বিছে মোটিফ: ছোট ছোট বিছে মোটিফ দিয়ে পাতলা নূপুর বা অ্যাঙ্কলেট, দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত।
বিস্তৃত নকশার বিছে: পায়ের বড় অংশ জুড়ে বিছে বা কাঁকড়াবিছের শরীর ফুটিয়ে তোলা। কখনো একাধিক বিছে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
পাথর বা পুঁতির কাজ: রঙিন পাথর, পুঁতি বা ঘুঙরু দিয়ে সজ্জিত, যা উৎসবের জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।
টো রিং সমন্বিত বিছে: নূপুর বা অ্যাঙ্কলেটের সঙ্গে পায়ের আঙুলের আংটি যুক্ত থাকে, যা পুরো সাজকে সম্পূর্ণ করে।
ফিলিগ্রি ও হস্তশিল্প: সূক্ষ্ম ফিলিগ্রি বা হস্তশিল্পের মাধ্যমে তৈরি, যা ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের নিদর্শন বহন করে।
বাজারে বিভিন্ন ধাতুর বিছে ডিজাইন পাওয়া যায়, যেমন রূপা, গোল্ড-প্লেটেড মেটাল, অ্যান্টিফিনিশড মেটাল। কিছুতে রেশম বা সুতার ব্যবহারও দেখা যায়, যা ফিউশন লুক দেয়। ফলে যেকোনো বয়সের এবং যেকোনো রুচির নারী তাদের পছন্দসই ডিজাইন খুঁজে নিতে পারেন।
বাজারের চাহিদা ও কারিগরদের ভূমিকা
বিছে ডিজাইনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা স্থানীয় গয়না শিল্পে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে ছোট শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলের কারিগররা উপকৃত হচ্ছেন। তারা তাদের দক্ষতা দিয়ে বিছে ডিজাইনের নতুন অলঙ্কার তৈরি করছেন, যা তাদের জীবিকা উন্নত করছে এবং ভারতীয় হস্তশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখছে।
"আমাদের কারিগররা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই ধরনের নকশা তৈরি করে আসছেন। বিছে ডিজাইনের প্রতি মানুষের নতুন আগ্রহ তাদের কাজকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। এটি তাদের সৃজনশীলতাকে নতুন পথে চালিত করছে এবং অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটাচ্ছে।" – স্থানীয় গয়না প্রস্তুতকারক (সিমুলেটেড)
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ফ্যাশন মেলায় এই গয়না প্রদর্শন হয়ে ক্রেতাদের সচেতনতা বাড়াচ্ছে। সোনার দাম বৃদ্ধির ফলে রূপা ও অন্যান্য বিকল্প ধাতুর চাহিদা বেড়েছে, যা বিছে ডিজাইনের জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়েছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও নতুনত্ব
ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিছে ডিজাইনের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। ডিজাইনাররা এখন ঐতিহ্যবাহী নকশায় আধুনিক উপাদান যোগ করছেন। উদাহরণস্বরূপ, জ্যামিতিক আকার বা মিনিমালিস্টিক স্টাইলের সঙ্গে বিছে মোটিফ যুক্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন ধাতু ও মিশ্র উপাদানের ব্যবহারও বাড়ছে। শুধু পায়ের অলঙ্কার নয়, কানের দুল, নেকলেস বা ব্রেসলেটেও বিছে ডিজাইনের ব্যবহার বাড়ছে।
ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে এই ডিজাইন জনপ্রিয় হতে পারে। টেকসই ফ্যাশনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে হাতে তৈরি ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি বিছে গয়নার চাহিদা বাড়তে পারে। স্থানীয় কারিগরদের প্রশিক্ষণ ও নতুন ডিজাইন উদ্ভাবনে সহায়তা করলে শিল্পটি আরও বিকশিত হবে। এতে ঐতিহ্যবাহী শিল্প রক্ষা পাবে এবং ভারতীয় ফ্যাশন বিশ্ব দরবারে নতুনভাবে পরিচিতি লাভ করবে।
'দ্য ওয়াল' এই বিষয়বস্তুর প্রচারক নয়; এটি কেবল তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।