
শেষ আপডেট: 4 November 2023 15:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার ৫২ বছরে পা দিলেন বলিউড অভিনেত্রী তবষ্যুম ফতিমা হাশমি! নাম শুনে অচেনা লাগতে পারে অনেকেরই। লাগারই কথা। আসলে এই নামে হাতেগোনা ক’জনই তো চেনে তাঁকে। সিনেমাজগতে তাঁর পরিচিতি একটাই নামে—তব্বু। একসময়ের গ্ল্যামার গার্ল আজ বি টাউনের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেত্রী। যিনি একার কাঁধে একটা গোটা সিনেমা টেনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তবে যে অভিনেত্রী ছিলেন পুরুষদের স্বপ্নসুন্দরী, তিনি অবিবাহিত থেকে গেলেন কেন? ফ্যানদের মধ্যে এই প্রশ্ন বহুদিনের।
চিরকাল আইবুড়ো থাকা তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত ‘চয়েজ’ হতেই পারে। কিন্তু অনুরাগীরা সে কথা মানবেন কেন? তাঁরাও জানতে চান, কেন তব্বু বিয়ে করলেন না কাউকে! প্রেম যে করেননি, এমন নয়। সিনেমাজগতে পা রাখার পর তিনজনের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে তাঁর। এরমধ্যে দু’জন নায়ক, এবং একজন প্রযোজক। কিন্তু কারও সঙ্গেই শেষ অবধি গাঁটছড়া বাঁধেননি অভিনেত্রী। কাউকেই কি বিয়ের যোগ্য মনে হয়নি তব্বুর? এই নিয়ে সংবাদমাধ্যম থেকে সাধারণ মানুষ, সবারই অশেষ কৌতূহল। তবে কোনওদিনই সেই কারণ খোলসা করেননি।
বলিউডে তাঁর প্রথম প্রেম সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার সঙ্গে। বিয়ের ১০ মাসের মাথায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় সাজিদের বৌ অভিনেত্রী দিব্যা ভারতীর। স্ত্রীকে হারিয়ে রীতিমতো ভেঙে পড়েছিলেন সাজিদ। সেইসময় অবসাদে ডুবতে থাকা সাজিদের পাশে দাঁড়ান তব্বু। একসময় দু’জনের বন্ধুত্ব বেশ গভীর হয়। সেই বন্ধুত্ব প্রেমের সম্পর্কে মোড় নিতে বেশি সময় নেয়নি। তবে কেউই কোনওদিন প্রকাশ্যে এই প্রেমের কথা স্বীকার করেননি। শোনা যায়, দু’জন লুকিয়ে এনগেজমেন্টও করে ফেলেছিলেন। কিন্তু বিয়েটা শেষ অবধি হয়নি।
এরপর অভিনেতা সঞ্জয় কাপুরের সঙ্গে সম্পর্ক হয় তব্বুর। এই প্রেমের কথা দু’জনেই প্রকাশ্যে এনেছিলেন সেসময়। সঞ্জয় কাপুরের কেরিয়ার তেমন পোক্ত না হলেও তাঁর রূপে রীতিমতো পাগল ছিলেন মহিলা অনুরাগীরা। ঠিক তেমনই তব্বুও সেসময় অনবদ্য সুন্দরী ছিলেন। দু’জনের প্রেম হতে বেশি সময় লাগেনি। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া সঞ্জয়ের প্রথম ছবি ‘প্রেম’-এ তিনি জুটি বেঁধেছিলেন তব্বুর সঙ্গে। সেখান থেকেই প্রেমের সূত্রপাত। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির বেশ কিছু অনুষ্ঠানে তাঁরা একসঙ্গেই হাজির হতেন। কিন্তু এই সম্পর্কও চিরস্থায়ী হয়নি।
এর পরপরই তব্বু মুম্বই ছেড়ে হায়দরাবাদে চলে যান। হঠাৎ করে হায়দরাবাদ গেলেন কেন অভিনেত্রী? এই প্রশ্ন অনেকের মনেই উঁকি দিয়েছিল। সেসময়ই জানা যায়, তিনি নাগার্জুনার সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করছেন। এদিকে তেলুগু অভিনেতা তখন বিবাহিত। ভরা সংসার তাঁর। তবে সেসব কিছুই প্রেমের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। নাগার্জুনা হায়দরাবাদে তব্বুকে একটি বাড়ি উপহার দিয়েছেন, এমনও শোনা গিয়েছিল। কিন্তু শেষ অবধি অভিনেত্রীর এই সম্পর্কটিও পূর্ণতা পায়নি। স্ত্রীকে ডিভোর্স দেননি তেলুগু তারকা। এরপরই সম্পর্কে দাড়ি টানেন তব্বু।
২০১০ সাল নাগাদ আবার তিনি পাকাপাকিভাবে ফিরে আসেন মুম্বইয়ে। পুরোপুরি কাজে মন দেন। এরপর আর কোনওদিন তব্বুর সঙ্গে কারও প্রেমের খবর শোনা যায়নি। তখন থেকেই অভিনেত্রী স্থির করে নেন তিনি একাই কাটাবেন বাকি জীবনটা। তবে কেউ কেউ এখনও বলেন, তব্বুর একা থাকার কারণ অজয় দেবগণ। ছোটবেলার বন্ধু অজয় তব্বুর কাছে কোনও ছেলেকে ঘেঁষতে দিতেন না। তখন থেকেই নাকি তব্বু অজয়কে ভালবেসেছেন। কিন্তু অভিনেতা বন্ধুত্বের বেশি কিছু ভাবেননি। তাই তব্বুও আর কাউকে আপন করে নেননি।