
সিল্ক স্মিতা।
শেষ আপডেট: 2 December 2024 14:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিনেমাপ্রেমীদের এমন কেউ নেই, যিনি কমল হাসান-শ্রীদেবী অভিনীত ক্লাসিক ছবি 'সাদমা' দেখেননি। সেই ছবিতে সোনি নামে ছোট্ট কিন্তু ব্লোহট একটি চরিত্র করেছিলেন যিনি, তাঁর সেই দাগ কাটা অভিনয়ের কথাও নিশ্চই মনে আছে সকলের। ঠিক তাই, সিল্ক স্মিতা। এদেশের প্রথম 'সেক্স বম্ব' অভিনেত্রী। যিনি দুঃসাহসিক সব দৃশ্যে নগ্নতা ও যৌনতার সব লক্ষ্মণগণ্ডি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। হিন্দি ছবির ভ্যাম্প-রানি হেলেনের থেকেও কয়েকগুণ এগিয়ে ছিল তাঁর নগ্ন সৌন্দর্যের আবেদন।
সিল্ক স্মিতা মালয়ালম, তামিল, তেলুগু, কন্নড় এবং হিন্দি ভাষায় ৪৫০-র বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। সিল্ক স্মিতা তাঁর পর্দার নাম। আসল নাম বিজয়লক্ষ্মী বদলাপতি। জন্ম ২ ডিসেম্বর, ১৯৬০। মৃত্যু ২৩শে সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬। ১৯৭৯ সালের তামিল ছবি ভান্দিচক্রমে 'সিল্ক' নামে একটি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রথম নজরে পড়েছিলেন। তাঁ অভিনয় জীবন দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ছিল।
স্মিতার জন্ম তেলুগু পরিবারে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি চতুর্থ শ্রেণিতে (যখন তার বয়স প্রায় ১০ বছর) থাকাকালে স্কুল ছাড়তে হয়েছিল। তাঁর আকর্ষণীয় চেহারার কারণে কেউ তাঁর থেকে চোখ সরাতে পারত না। এই কারণে তাঁর পরিবার তাঁকে খুব অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেন। কিন্তু, স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সংসার তাঁর উপর অত্যাচার চালাত। তার ফলে সেখান থেকে পালিয়ে আসেন।
এক অভিনেত্রীর মেকআপ সহযোগী হিসাবে ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে স্মিতা তাঁর অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন। পরে, এভিএম স্টুডিওর কাছে একটি ময়দা মিলের পরিচালক বিনু চক্রবর্তী তাঁকে আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি তাঁর নাম বদলে স্মিতা রাখেন এবং তাঁকে বাড়ি নিয়ে যান। তাঁর স্ত্রী তাকে ইংরেজি শিখিয়েছিলেন এবং নাচ শেখানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই কালে সিল্ক স্মিতা কেবল ক্যাবারে নৃত্যশিল্পী এবং ভ্যাম্পের ভূমিকা পেতে থাকেন।
১৯৭৯ সালে সালে তামিল ছবি ভান্দিচক্রমে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের পর তিনি প্রচুর প্রশংসা পেয়েছিলেন, তাই স্মিতা এই ছবির চরিত্রের নাম অনুসারে তাঁর পর্দার নাম সিল্ক স্মিতা করেছিলেন। এই ছবি জনপ্রিয় হওয়ার পরেও, তিনি যৌন আবেদনময়ী চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব থেকে বাঁচতে পারেননি, তাঁর পুরো অভিনয় জীবন জুড়ে তিনি এক সীমার মধ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।
এত সাফল্যের পরেও অন্তর্মুখী এই অভিনেত্রী ব্যক্তিগত জীবনে খুব একা ছিলেন। ২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬ সালের সকালে তিনি তাঁর বন্ধু, নৃত্যশিল্পী অনুরাধার সাথে যোগাযোগ করে বলেছিলেন যে একটা বিষয় নিয়ে তিনি আলোচনা করতে চান যা তাঁকে বিব্রত করছে। বলেছিলেন তাঁর বাচ্চাকে স্কুলে রেখে এসেই তিনি দেখা করবেন। পরে ওই সকালেই স্মিতাকে তাঁর চেন্নাইয়ের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর মৃত্যুর পিছনের কারণটি এখনও রহস্যই রয়ে গিয়েছে।
সিল্ক স্মিতা ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে কিংবদন্তি হয়ে রয়ে গিয়েছেন তাঁর যৌন আবেদনের জন্য। আটের দশক এবং নয়ের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত নুন শো আইডল হিসেবেই তাঁকে দেখেছে যুব সমাজ। তাই তাঁর মৃত্যুর পরেও সিল্ক স্মিতার জীবনের উপর তৈরি হয়েছে একাধিক সিনেমা। এখনও হয়ে চলেছে। ২০১১ সালে, দ্য ডার্টি পিকচার নামে সিল্ক স্মিতার জীবন থেকে অনুপ্রাণিত একটি চলচ্চিত্র হিন্দিতে একতা কাপুর প্রযোজনা করেছিলেন। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন মিলান লুথরিয়া এবং অভিনয় করেছেন বিদ্যা বালন (যিনি পরে সেরা অভিনেত্রীর জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছিলেন)। সিনেমাটি তামিল ও তেলুগু ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল ২ ডিসেম্বর, ২০১১ সালে। ২০১৩ সালে, ডার্টি পিকচার: সিল্ক সাক্কাথ হট নামে একটি কন্নড় চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছিল, পাকিস্তানি অভিনেত্রী বীণা মালিক অভিনীত। ছবিটি সিল্ক স্মিতার জীবন অবলম্বনে ছিল এবং বীণা মালিক ছবিতে অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হয়েছিলেন। ২৪ মে, ২০১৩ সালে সিল্ক স্মিতা চরিত্রে সানা খান অভিনীত ক্লাইম্যাক্স নামে একটি মালয়ালম ছবি মুক্তি পায়।
এ বছর এসটিআরআই সিনেমা কোম্পানি সিল্ক স্মিতার জন্মদিন উপলক্ষে এদিন আরও একটি চলচ্চিত্রের ঘোষণা করেছে। তার নাম হতে চলেছে সিল্ক স্মিতা-কুইন অফ দি সাউথ। এই ছবিতে স্মিতার চরিত্রে অভিনয় করছেন চন্দ্রিকা রবি। ছবিটি প্রযোজনা করছেন বিজয় অমৃতরাজ।