
শেষ আপডেট: 30 December 2023 19:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বন্যা নয়, হরপা বানও নয়। স্রেফ ‘জামাল জামালেক জামালু জামালকুডু’ ভাসিয়ে নিয়ে গেল ২০২৩-এর শেষটা। এমনটা বললে খুব একটা যে বাড়াবাড়ি হবে, তা বোধহয় নয়। আসলে চারপাশ দেখেশুনে এটা যে আম-আদমিরই উপলব্ধি।
ডিসেম্বরের ১ তারিখ মুক্তি পায় সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার ছবি ‘অ্যানিম্যাল’। ছবি বেশ ভালই ব্যবসা করেছে। তবে গল্প নিয়ে নানা মুনির নানা মত। কারও কাছে ‘চলে যায়’, আবার কারও কাছে ‘খুব বিরক্তিকর’। সে যাই হোক, ছবিতে ববি দেওলের এন্ট্রি সং নিয়ে কিন্তু উদ্বেল গোটা দেশ। ‘জামাল জামালেক জামালু জামালকুডু’। গানের ভাষা ইরানি কবির লেখা। তাই গানের কথা বুঝতে পারার প্রশ্ন শুরুতে আসেনি। কিন্তু সুর! তাতেই যে বাজিমাত। আসলে সা-রে-গা-মা-পা-ধা-নি-সাই হোক আর ডো-রে-মি-ফা-সো-লা-টি-ডো, এই সাত সুরেই যে বাঁধা গোটা বিশ্ব তা যেন আরও একবার প্রমাণ হল। না হলে রুখা-সুখা ইরানের মাটির সুরে কেন এমন দোলা লাগবে শস্য-শ্যামলা ভারতবাসীর মনে!
তবে এটাই প্রথম নয়। এর আগে পারসিয়ান গানের সুরে গোটা দেশকে মাতিয়ে দিয়েছিলেন রাহুল দেব বর্মণ। মনে পড়ে 'শোলে' ছবির ‘যব তক হ্যায় জান’ গানটি। ১৯৭১ সালে মুক্তি পেয়েছিল 'শোলে'। পারসিয়ান গান ‘জোহমে’ শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন রাহুল। তারপরেই জন্ম ‘যব তক হ্যায় জান’-এর। ১৯৭৭ এ আবার ধামাকা। এবার পারসিয়ান সুরকার জিয়া অ্যাটাবের হেলে মালির সুরে ঘায়েল হন পঞ্চম। পাঁচ দশক পর লতা মঙ্গেশকরের গলায় ‘যব তক হ্যায় জান’ এখনও সজীব। ওই বছরেই মানুষের মন কেড়েছিল ‘চাঁদি-সোনা’ ছবির গান 'আপ সা কোই হাসিন'।
সেই পঞ্চমের সুরেই আবার বাজিমাত। ১৯৭২ সালে মুক্তি পাওয়া পারসিয়ান গানের অ্যালবাম ‘দউ মাহি’র একটি গান ‘ঘারিবে আসহেনা’ ছুঁয়ে গিয়েছিল রাহুল দেব বর্মণকে। ভারতবাসী পেয়েছিল ‘আপ সা কোই হাসিন’-এর সেই অমর সুর।
২০২৩ এ প্রাপ্তি ‘জামাল জামালেক জামালু জামালকুডু’। ‘আমার প্রেম-আমার ভালবাসা-আমার মিষ্টি ভালবাসা’। ইরানের বিশিষ্ট কবি বিজান স্মানদার লিখেছিলেন কবিতাটি। পরবর্তীতে গানের জন্ম। ১৯৫০ সালে খারাজেমি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে গান শুনিয়েছিলেন ‘খাতারে’ নামের একটি ব্যান্ড। ভাল লেগেছিল সবার। ইরানের মাটিতে একসময় বিয়ের গান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল ‘জামাল জামালেক জামালু জামালকুডু’।
সেই মাটির সুরে অনুপ্রাণিত হয়ে এবার সঙ্গীত পরিচালক হর্ষবর্ধন রামেশ্বর ‘অ্যানিমাল’ ছবির জন্য একেবারে নতুন করে উপস্থাপন করেন গানটি। সেই গান ভারতের মানুষের মন ছুঁতে সময় নেয়নি মোটে। ডিসেম্বরের ১ তারিখ ছবি মুক্তির পর ৭ তারিখ ইউটিউবে গানটির অফিসিয়াল ভিডিও রিলিজ করে ‘টি-সিরিজ’। তিন সপ্তাহেই ৪৬ মিলিয়ন ভিউ। মানুষের মুখে মুখে ফিরছে ‘জামাল জামালেক জামালু জামালকুডু’।
বিদেশি সুর ভারতের সাত সুরে মিশেছে বারবার। জন্ম হয়েছে নতুন নতুন সুর আর গানের। তারমধ্যে বলিউডি ছবির কত গানই তো কালজয়ী। 'শোলে'-র ‘মেহবুবা-মেহবুবা’, ডিস্কো ড্যান্সারের ‘কোই ইঁহা নাচে নাচে’, কুরবানির ‘ল্যায়লা ম্যায় ল্যায়লা’। এই গানগুলির প্রত্যেকটার সুরেই ইংরেজি গানের ছায়া। কোনও একটা নির্দিষ্ট প্রজন্মে বাঁধা থাকেনি গানগুলির কোনওটাই। এমনকী রবি ঠাকুরের কত গানেও বিদেশি সুরের প্রভাব। ‘কতবারও ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া’ বা ‘আজি শুভদিনে পিতারও ভবনে অমৃত সদনে চল যাই’- সুর দেওয়া হয়েছিল পাশ্চাত্যের সুরের ছায়াতেই। ‘জামাল জামালেক জামালু জামালকুডু’-সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি, যা বছর শেষে মাতিয়ে দিল আসমুদ্র হিমাচল।