SIR অভিযানে প্রবীণ নাগরিকদের হেনস্থার অভিযোগ ওঠে গত কয়েকদিন ধরে। প্রতিবাদে মঙ্গলবার ১১ জানুয়ারি সিইও অফিসে দাঁড়িয়ে বাংলার একতা মঞ্চের সদস্যরা সওয়াল তোলেন। সেখানেই দেখা গেল পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কে।

শেষ আপডেট: 14 January 2026 13:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টলিপাড়ার অন্দরমহল মানেই নিত্য নতুন সমীকরণ। যে ক্যানভাস থেকে রাজনীতির রঙও বাদ পড়ে না। কে কার পক্ষে, কে কার বিপক্ষে, খেলা ঘুরতে সময় নেয় না খুব একটা। তবে ন্যায়-নীতির বিচারে বাংলা ছবির স্বার্থে এমন অনেক ছবি সামনে উঠে আসতে দেখা যায়, যা নিয়ে প্রশ্ন হাজার থাকলেও, উত্তর একটাই- ছন্দে ফেরা। টলিপাড়ায় এবার তেমনই এক নাম হল পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। বিবাদ মিটিয়ে এবার কি রাজনীতির ময়দানে পা রাখতে চলেছেন তিনি? ভোটের আবহে তাঁর সম্প্রতি পদক্ষেপ তেমনই প্রশ্ন উস্কে দিচ্ছে অনুরাগীদের মনে। সরকারের সঙ্গে দূরত্ব মিটিয়ে মাত্র একমাসেই তিনি পৌঁছে গেলেন সোজা সিইও অফিসে বাংলা একতা মঞ্চে। SIR প্রক্রিয়া নিয়ে হলেন সরব।
বাংলার একতা মঞ্চে পরমের বক্তব্য
SIR অভিযানে প্রবীণ নাগরিকদের হেনস্থার অভিযোগ ওঠে গত কয়েকদিন ধরে। প্রতিবাদে মঙ্গলবার ১১ জানুয়ারি সিইও অফিসে দাঁড়িয়ে বাংলার একতা মঞ্চের সদস্যরা সওয়াল তোলেন। সেখানেই দেখা গেল পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কে। পরমের বক্তব্য, বিশেষ করে বাংলার প্রান্তিক মানুষেরা, বা যাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ততটা নেই, তাঁদের মধ্যে ভয়ের সৃষ্টি হচ্ছে বেশি। তাঁদের মনে প্রশ্ন জাগছে, ‘তাহলে কি আমি ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হলাম?’ পাশাপাশি এই প্রক্রিয়াতে এটাও প্রতিষ্ঠা করা হয়, ‘আপনি যে ভারতের নাগরিক, আপনাকে আরও একবার তা প্রমাণ করতে হবে।’ ফলে অনেকের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে, ‘তাহলে কি আমি আর ভারতের নাগরিক থাকলাম না? যা থেকে মানুষ অসুস্থ হচ্ছেন, তাঁদের হয়রানিও হচ্ছে।’
ফেডারেশন বনাম পরমব্রত
এই পরমব্রতই ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে একটা সময় রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে দায়ের করা মামলার পক্ষে ছিলেন পরম। পরিচালক গিল্ডের পক্ষে তুলেছিলেন সওয়াল। তবে সেই বিবাদ মিটিয়ে ২০২৫-এর শেষেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন অভিনেতা তথা পরিচালক। ফেডারেশনের বিরুদ্ধে করা মামলাকে নিজের ‘হটকারি’ সিদ্ধান্ত বলে বিবাদ মিটিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন সচেতনভাবেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো বার্তার মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন।
এরপর থেকেই দ্রুত পাল্টাটে থাকে এক বছরের ছবিটা। কিছুদিনের মধ্যে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে সঞ্চালনার দায়িত্ব সামলাতে দেখা যায় তাঁকে। ফেডারেশনের অভিমান যে তখনও পরেনি, সেদিনের ছবিটা স্পষ্ট করে দিয়েছিল। অনুষ্ঠানে সেদিন দেখা যায়নি ফেডারেশনের সদস্যদের। তবে অভিমানের বরফ যে গলছে তা সম্প্রতিতে খানিক স্পষ্ট।
এবার কি রাজনীতির ময়দানে অভিনেতা?
অন্যদিকে পরমব্রতও ফিরেছেন মূলস্রোতে। কাজ নিয়ে ব্যস্ত। পাশাপাশি এবার রাজ্য সরকারের হয়ে মুখও খুলতে দেখা গেল তাঁকে। টিকে থাকার এই লড়াইয়ে কি তবে এবার পরমের গায়ে লাগতে চলেছে রাজনীতির রঙ? ২০২৬-এ বিধানসভা নির্বাচন। কোন কোন তারকা এবার টিকিট পেতে চলেছেন, সেই দিকে তাকিয়ে গোটা বাংলা। টলিপাড়ার সঙ্গে রাজনীতির সমীকরণ নতুন নয়। তৃণমূল সরকারের ডাকে টলিপাড়ার সিনেপাড়ার অনেকেই সাড়া দিয়েছেন। এবার সেই তালিকাতে কি পরমব্রতর নাম থাকতে চলেছে? মঙ্গলবার বিকেলে পরমব্রতর পদক্ষেপ এবার সেই প্রশ্নই উস্কে দিল। এখন দেখার, রাজ্যসরকারের সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠতা পরমব্রতকে রাজনীতির ময়দানে দাঁড় করায় কি না...