
ফয়জল মালিক এবং অমিতাভ বচ্চন
শেষ আপডেট: 5 June 2024 21:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা নির্বাচনের আঁচে যখন দেশ টগবগ করে ফুটছে, তার ঠিক আগেই আরও এক ভোটযুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছিল আমজনার ফোনের স্ক্রিনে। 'পঞ্চায়েত' সিরিজের তৃতীয় সিজন নিয়ে চলছিল উন্মাদনা। আগের দুই সিজনের মতোই এই সিজনও মানুষকে হাসিয়েছে, কাঁদিয়েছে, ভাবিয়েছে। এককথায় সুপারহিট। তবে বেশিরভাগ দর্শকই বলছেন, এই সিজনে সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছেন ফুলেরার উপপ্রধান প্রহ্লাদ পাণ্ডে। সবার চোখের মণি হয়ে উঠেছেন পর্দায় পুত্রহারা এই মানুষটি। তাই জিতেন্দ্র কুমার, রঘুবীর যাদব, নীনা গুপ্তার পাশেই বসছে প্রহ্লাদচা, তথা ফয়জল মালিকের নাম।
সম্প্রতি ফয়জলের একটি পুরনো সাক্ষাৎকার সামনে এসেছে। তাতে ফয়জল জানিয়েছেন, কীভাবে তিনি একসময় কাজ হারিয়েছিলেন, নিজের সততার জন্য। তাও আবার অমিতাভ বচ্চনের কাছে! আদতে, পর্দার প্রহ্লাদের মতোই ফয়জল মালিক বাস্তব জীবনেও অত্যন্ত খাঁটি একজন মানুষ। কী হয়েছিল এ হেন ফয়জলের সঙ্গে?
ওই সাক্ষাৎকারে ফয়জল বলেন, একবার তিনি এবং অনুরাগ কাশ্যপ অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন একটি শো'তে। তাঁর কথায়, ‘আমি খুবই উত্তেজিত ছিলাম। কারণ বচ্চন সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলাম আমি। তো তাঁকে প্রথম দেখামাত্রই কাজকর্মের কথা ভুলে গিয়ে আমি অটোগ্রাফ চেয়ে বসলাম।'
ফয়জল জানান, তার পরেই শুরু হয়েছিল একের পর এক খাবার আসা। খেতে খেতে তিনি কথায় কথায় বচ্চনদিকে জানান, তিনি এলাহাবাদের ছেলে, তাই শুনে অমিতাভজি তিলের নাড়ু অফার করেন, যা কিনা এলাহাবাদের সিগনেচার খাবার। ফয়জলের কথায়, 'আমি ভেবেছিলাম বয়সের কারণে উনি তিলের নাড়ু খেতে পারবেন না, কিন্তু আমার তা ভাবা উচিত হয়নি। কারণ নাড়ু আসার পরেই তিনি আমার আগেই দু'টো খেয়ে ফেললেন। আমি তো ভাবলাম, অমিতজি বুঝি বয়স বাড়িয়ে বলেন, আসলে তিনি এখনও তরুণ!'
এর পরেই তাঁরা আলোচনা করেন চিত্রনাট্য নিয়ে। সেকথা জানিয়ে ফয়জল বলেন, '১২০ পাতার চিত্রনাট্যের সবটাই তাঁর মুখস্থ ছিল! একবারও চিত্রনাট্যের দিকে তাকাতেও হয়নি তাঁকে! এর পরেই তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কখন আমাদের এই শ্যুটিং করা উচিত? তখনই আমি সৎ ভাবে তাঁকে বলি, আমাদের এখন এটা শ্যুট করা উচিত হবে না, ছ'মাস পরে শ্যুটিং করলে ভাল হবে।'
এইখানেই ঘটে যায় গন্ডগোল। ফয়জল জানান, মিটিং শেষ করে নীচে নেমে আসার পরেই তাঁকে জানানো হয়, তিনি আর এই প্রোজেক্টে কাজ করবেন না। কারণ, তিনি সাত-পাঁচ না ভেবেই মনের কথা বলে ফেলেছিলেন, যে ছ'মাস পরে শ্যুটিং করা উচিত। স্পষ্ট করে কেউ বলে না দিলেও, সম্ভবত এই কারণেই কাজ হারান তিনি।