Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
অ্যাপল ওয়াচ থেকে ওউরা রিং, কেন একসঙ্গে ৩টি ডিভাইস পরেন মুখ্যমন্ত্রী? নেপথ্যে রয়েছে বড় কারণপ্রসবের তাড়াহুড়োয় ভয়াবহ পরিণতি! আশাকর্মীর গাফিলতিতে দু'টুকরো হল শিশুর দেহ, মাথা রয়ে গেল গর্ভেইনীতীশ জমানার অবসান! বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা ‘সুশাসন বাবু’র, কালই কি উত্তরসূরির শপথমুম্বইয়ের কনসার্টে নিষিদ্ধ মাদকের ছড়াছড়ি! 'ওভারডোজে' মৃত্যু ২ এমবিএ পড়ুয়ার, গ্রেফতার ৫IPL 2026: ‘টাইগার জিন্টা হ্যায়!’ পাঞ্জাবকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভাইরাল মিমের স্মৃতি উসকে দিলেন সলমন আইপ্যাকের ডিরেক্টর গ্রেফতারের পর এবার পরিবারের পালা! ইডির নজরে প্রতীক জৈনের স্ত্রী ও ভাই, তলব দিল্লিতেSakib Hussain: গয়না বেচে জুতো কিনেছিলেন মা, সেই ছেলেই আজ ৪ উইকেট ছিনিয়ে আইপিএলের নতুন তারকা হয় গ্রেফতার, নয় কৈফিয়ত! অমীমাংসিত পরোয়ানা নিয়ে কলকাতার থানাগুলোকে নির্দেশ লালবাজারের‘মমতা দুর্নীতিগ্রস্ত! বাংলায় শুধু সিন্ডিকেট চলে, কাজই বেকারের সংখ্যা বাড়ানো’, মালদহে রাহুল‘আমার মতো নয়’! সন্দেহের বশে ৬ বছরের ছেলেকে নদীতে ফেলে খুন, দেহ ভেসে উঠতেই ফাঁস বাবার কীর্তি

টিভিকে সরিয়ে নতুন কৌশল—সিনেমার স্যাটেলাইট রাইটস কিনছে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম

এক দশক আগে যখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উত্থান শুরু হয়, তখন থেকেই সিনেমার ব্যবসায় একটি নির্দিষ্ট ধারা তৈরি হয়েছিল।

টিভিকে সরিয়ে নতুন কৌশল—সিনেমার স্যাটেলাইট রাইটস কিনছে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম

শুভঙ্কর চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: 7 March 2026 16:02

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক দশক আগে যখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উত্থান শুরু হয়, তখন থেকেই সিনেমার ব্যবসায় একটি নির্দিষ্ট ধারা তৈরি হয়েছিল। প্রযোজকরা ছবির স্যাটেলাইট অধিকার বিক্রি করতেন টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর কাছে, আর ডিজিটাল স্ট্রিমিংয়ের জন্য দরজা খোলা থাকত বড়-বড় ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কাছে। দুই আলাদা বাজার, দুই আলাদা ক্রেতা—এই হিসেবেই চলছিল গোটা ইন্ডাস্ট্রি।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। এখন দেখা যাচ্ছে একেবারে উল্টো ছবি—স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোই কিনে নিচ্ছে সিনেমার স্যাটেলাইট অধিকার। অর্থাৎ যে অধিকার এতদিন টেলিভিশনের দখলে ছিল, সেটিও ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে ওটিটির ঝুলিতে।

২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতের একটি শীর্ষ আইন সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে গত দু’মাসে একাধিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম—বিশেষ করে পিওর ও হাইব্রিড ওটিটি—সরাসরি সিনেমার স্যাটেলাইট অধিকার কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে দুটি ছবির নাম—‘কিস কিসকো পেয়ার কঁরু-২ ’(Kis Kisko Pyaar Karoon 2) এবং ‘মন শঙ্করা ভারা প্রসাদ গারু’ (Mana Shankara Vara Prasad Garu)। এই দুই ছবিরই স্যাটেলাইট ও ডিজিটাল অধিকার একসঙ্গে কিনে নিয়েছে যথাক্রমে JioHotstar এবং Zee5।

ওটিটি ইন্ডাস্ট্রির এক অভ্যন্তরীণ সূত্র একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, “এই প্রবণতার সূচনা করেছে মূলত জিও স্টার এবং জি ফাইভ । শুরুতে ‘মন শঙ্করা ভারা প্রসাদ গারু’  ছবিটি ছিল অ্যামাজন প্রাইম ভিডিয়ো (Amazon Prime Video)–র সঙ্গে, কিন্তু পরে তারা সরে দাঁড়ায়। তখন জি-এর কাছে ছিল ছবির স্যাটেলাইট অধিকার, পরে তারা ডিজিটাল অধিকারও কিনে নেয়।

অন্যদিকে ‘কিস কিসকো পেয়ার কঁরু-২ ’ আগেভাগেই জিও হটস্টার-এর কাছে বিক্রি হয়ে যায় স্যাটেলাইট ও ডিজিটাল—দুটো অধিকারসহ, কারণ প্রথম ছবির অধিকারও তাদের কাছেই ছিল। আগের ছবির টিআরপি-র ডেটা তাদের হাতে ছিল, সেই হিসেবেই তারা মোটা অঙ্কের প্রস্তাব দেয়।”

ফিল্ম প্রযোজনা ও পরিবেশন সংস্থা কার্মিক ফিল্মসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সুনীল ওয়াধহা এই নতুন প্রবণতার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর কথায়, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর স্যাটেলাইট অধিকার কেনার পিছনে রয়েছে অন্তত দুটি বড় কারণ।
তিনি বলেন, “প্রথম কারণটি হল ‘স্যাটেলাইট ব্লক’ করা। অর্থাৎ টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরের দর্শকরা যারা সাধারণত টেলিভিশনে সিনেমা দেখতে অভ্যস্ত, তারা যদি টিভিতে সেই ছবি না পান, তাহলে বাধ্য হয়েই স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। ফলে প্ল্যাটফর্মের গ্রাহকসংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।”

এর পাশাপাশি আরেকটি ব্যবসায়িক কৌশলের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ব্যাখ্যা, “যখন একটি প্ল্যাটফর্মের কাছে ৫০-৬০টি ছবির লাইব্রেরি তৈরি হয়ে যাবে, তখন তারা হয় নিজেদের টিভি চ্যানেল চালু করতে পারে, অথবা পরে সুবিধাজনক সময়ে সেই ছবিগুলোর অধিকার আবার কোনও টেলিভিশন চ্যানেলকে দিয়ে আয় করতে পারে।”

ইন্ডাস্ট্রির আরেক শীর্ষ প্রযোজকও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই এই পথে হাঁটার কথা ভাবছে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিয়ো এবং নেটফ্লিক্স–ও। তাঁর মতে, এই ব্যবস্থাকে অনেকেই এখন ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি হিসেবে দেখছেন।

তিনি বলেন, “বর্তমানে স্যাটেলাইট অধিকার বিক্রির দাম প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। ফলে ডিজিটাল অধিকার সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে স্যাটেলাইট বিক্রি করতে পারলে প্রযোজকদের জন্য খরচ তোলাটা অনেক সহজ হয়, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি বাজেটের ছবির ক্ষেত্রে যেগুলো আলাদা করে টিভি ক্রেতা খুঁজে পায় না। পাশাপাশি, যদি টিভিতে ছবিটি ‘ফ্রি’ দেখানো বন্ধ থাকে, তাহলে দর্শকদের অনেকেই বাধ্য হয়ে ওটিটির সাবস্ক্রিপশন নেবেন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো একপ্রকার ‘সাব-ডিস্ট্রিবিউটর’ হিসেবেও কাজ করতে পারে। তারা অধিকার নিজেদের কাছে রেখে ভবিষ্যতে সুবিধাজনক সময়ে আবার টিভি চ্যানেলকে লাইসেন্স দিতে পারে। এতে তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আয়ের আরেকটি রাস্তা খুলে যায়।”

তবে ইন্ডাস্ট্রির সকলেই এই পরিবর্তনকে নিখুঁত সমাধান হিসেবে দেখছেন না। এক অভিজ্ঞ ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে জানিয়েছেন, আপাতত প্রযোজকদের নগদ আয়ের সমস্যার সমাধান হলেও ভবিষ্যতে এতে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে।

আরেক প্রযোজকের কথায়, “যখন বাজারের ক্ষমতা কয়েকটি বড় প্ল্যাটফর্মের হাতে কেন্দ্রীভূত হবে, তখন প্রযোজকদের কাছে বিকল্প ক্রেতা কমে যাবে। তখন হয়তো তাদের ‘নাও বা ছেড়ে দাও’ ধরনের চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য হতে হবে, যেখানে দাম কম হতে পারে।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “ভারতের বিশাল অংশের দর্শক এখনও টেলিভিশনের ওপর নির্ভরশীল। যদি কোনও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম শুধু ডিজিটাল একচেটিয়ার জন্য স্যাটেলাইট অধিকার নিজেদের কাছে আটকে রাখে, তাহলে সেই দর্শকদের বড় অংশ হয়তো কোনওদিনই ছবিটি দেখতে পারবেন না।”

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি আশঙ্কাও। তাঁর কথায়, “স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো সাধারণত অ্যালগরিদম-নির্ভর কনটেন্টকে বেশি গুরুত্ব দেয়। যদি তারাই স্যাটেলাইট অধিকারের প্রধান নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে, তাহলে ছোট বা ভিন্নধর্মী ছবিগুলোর জন্য মুক্তির রাস্তা আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এতে টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন আয় কমে যেতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ঐতিহ্যবাহী টিভি মডেলটিও বড় ধাক্কা খেতে পারে।”

একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা আরও একটি পুরনো অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দেন। তাঁর কথায়, “মহামারির সময় আমরা দেখেছি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো আমাদের ছবির জন্য বিপুল অঙ্কের টাকা দিয়েছিল, কিন্তু পরে হঠাৎ করেই সেই আগ্রহ অনেক ক্ষেত্রে কমে যায়। এই ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটতে পারে বলে আমার আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই ওটিটির জনপ্রিয়তার কারণে স্যাটেলাইট বাজার অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে, এই নতুন প্রবণতা হয়তো সেই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।”

ডিজিটাল যুগে সিনেমার ব্যবসা যে দ্রুত বদলে যাচ্ছে, তা আর নতুন কথা নয়। কিন্তু যদি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো সত্যিই স্যাটেলাইট অধিকারের বাজারটিকেও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়, তাহলে সিনেমা পৌঁছবে কোন পথে—টিভির পর্দায়, না কি কেবল সাবস্ক্রিপশনের দেয়ালের আড়ালে?

এখন প্রশ্ন একটাই—এই নতুন খেলা কি সত্যিই সিনেমা ব্যবসার ভবিষ্যৎ, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে আরেকটি বড় ভারসাম্যহীনতার সূচনা?


```