মিমি সোমবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন। পরক্ষণেই আয়োজকদের পক্ষ থেকে তনয় শাস্ত্রী সংবাদ মাধ্যমের কাছে মুখ খোলেন। দাবি করেন, মিমি চক্রবর্তী সম্পূর্ণ সত্যি বলছেন না। ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে ‘দ্য ওয়াল’-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় আয়োজকদের সঙ্গে।

শেষ আপডেট: 26 January 2026 18:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার (২৫ জানুয়ারি রাতে) বনগাঁর নয়া গোপাল গুঞ্জ যুব সংঘে মিমি চক্রবর্তীর (Mimi Chakraborty) অনুষ্ঠান ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই শোরগোল নেটপাড়ায়। আচমকাই মিমি চক্রবর্তী সোশ্যাল মিডিয়ায় (Mimi Social Media Post) একটি স্টোরি পোস্ট করে মঞ্চে হেনস্থা হওয়ার খবর সামনে আনেন। জানান, তাঁর অনুষ্ঠান চলাকালিন আয়োজকদের তরফ থেকে অপ্রীতিকর ব্যবহারের কথা। তাঁকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলায়, তিনি অপমানিত বোধ করেন। ঘটনার ঘিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিমি। মুহূর্তে সেই পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যা নজর এড়ায়নি আয়োজকদেরও।
সবে মাত্র মিমির অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল। সামনে বহু দর্শক-শ্রোতা। তখনই তনয় শাস্ত্রী নামে এক ব্যক্তি হঠাৎই অনুষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দেন । শুধু তাই নয়, মঞ্চ থেকে তাঁকে চলে যেতে বলেন। বিষয়টি এতটাই অপ্রত্যাশিত ছিল যে, প্রথমে তিনি বুঝতেই পারেননি, কথাগুলি তাঁর উদ্দেশেই বলা হচ্ছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতেই ‘বিস্ময়’ ও ‘অপমানে’ হতবাক হয়ে যান মিমি। কিছুটা অবাক ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে আবার ওই ব্যক্তির দিকে তাকান। অভিনেত্রীর দাবি, তখনও একই কথা পুনরাবৃত্তি করে চলেন তনয় শাস্ত্রী। শেষ পর্যন্ত কোনও বিতর্কে না জড়িয়ে, উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের শুভরাত্রি জানিয়ে তিনি মঞ্চ ছেড়ে চলে আসেন।

এরপরই মিমি সোমবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন। পরক্ষণেই আয়োজকদের পক্ষ থেকে তনয় শাস্ত্রী সংবাদ মাধ্যমের কাছে মুখ খোলেন। দাবি করেন, মিমি চক্রবর্তী সম্পূর্ণ সত্যি বলছেন না। ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে ‘দ্য ওয়াল’-এর পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তনয় শাস্ত্রী বলেন, ‘মিমি চক্রবর্তীকে সময় দেওয়া ছিল ১০টা থেকে সাড়ে দশটা। সকলে অপেক্ষায় ছিলেন। উনি মঞ্চে ওঠেন ১১ টা ৪৬ মিনিটে। অনুষ্ঠানের পারমিশন ছিল ১২টা পর্যন্ত। যে বিষয়টা মাথায় ছিল, সেটা হল আজ প্রজাতন্ত্র দিবস (২৫ জানুয়ারি রাতের ঘটনা)। চাইনি ১২টার পর উল্লাস হোক।’
মিমিকে নামতে বলার কারণ হিসেবে তনয় দাবি করেন, ‘আমরা সম্বোর্ধনা জানাতে গেলে, মঞ্চে আমাদের উঠতে দেওয়া হয়নি। সকলের খুব খারাপ ব্যবহার। ওঁকে আমরা টাকা দিয়ে নিয়ে এসেছি। তাই বলে অসম্মান করব এমন নয়। মিমি মঞ্চে ওঠেন, দুটি গান করেন। এরপর রাত ১২টা ৫ মিনিট বাজলে আমি মঞ্চে উঠে মিমির গান শেষ হলে, মাইকে জানাই, সময় হয়ে গিয়েছে, মিমি চক্রবর্তীর অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। আমার নির্দেশে মিমির দেহরক্ষীরা তাঁকে নামিয়ে নিয়ে যান। কোনও অসম্মান করা হয়নি। ’
তনয় এই অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা দাবি করেন, ‘মিমি মানুষের ভালবাসা নিয়ে ছেলেখেলা করলেন। ওঁকে হেনস্থা করা হয়নি, বরং মিমি মানুষকে হেনস্থা করেছেন। এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
দুই তরফের পোস্ট এবং কথায় সোমবার সকাল থেকে নানাজনের নানা মত সোশ্যাল মিডিয়ায় জায়গা করে নিয়েছে। একশ্রেণি সেলিব্রিটিদের সুরক্ষা-সম্মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আরেক পক্ষ আয়োজকদের পাশে। সূত্রের খবরের ভিত্তিতে ‘দ্য ওয়াল’ প্রশ্ন তোলে, ‘মিমি চক্রবর্তীকে তনয় শাস্ত্রী বাড়িতে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, সে যেতে রাজি না হওয়ায়, আপনার রাগ, আর সেই ক্ষোভ থেকে এই আচরণ। এই বিষয় কী বললেন?’ উত্তরে তনয় শাস্ত্রী বলেন, ‘ওখানে জায়গা অনেক কম ছিল। সেই কারণে আমার বাড়ির নিচে বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হয়। মিমিকেও হয়তো সেটা বলা হয়েছিল। কোনও রাগের বিষয় নয়। আমরা থানার বিরুদ্ধে যেতে পারি না।’
এই বিষয় নিয়ে মিমির তরফ থেকে পরবর্তীতে আর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। যদিও খবর, মিমি চক্রবর্তী ইতিমধ্যেই বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তদন্তে নেমেছে। এখন দেখার, এই বিবাদের জল কতদূর গড়ায়।