
বিক্রম
শেষ আপডেট: 25 January 2025 16:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফিল্মের পোস্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এবং যথেষ্ট খরচসাপেক্ষ। পোস্টার উন্মোচনের দিন থেকেই প্রচার পর্ব শুরু হয়ে যায় একটি ছবির। ডিজিট্যাল রিলিজ এবং তারপর দেওয়ালে-দেওয়ালে তা সাঁটানো হয়। কোন স্থানে পোস্টার লাগানো হবে, কোথায় নয়, তার অনুমতি পেতে হয় কলকাতা কর্পোরেশনের থেকে। ছবির প্রযোজকের এই পোস্টারের গোটা প্রক্রিয়ার খরচ বহন করেন। শুধু তাই নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে বহু মানুষের কর্মসংস্থান। প্রিন্টিংয়ের সঙ্গে যুক্ত কিংবা দেওয়ালে-দেওয়ালে পোস্টার যাঁরা সাঁটিয়ে দেন, তাঁদের জীবিকাও অনেকটাই নির্ভর করে বাংলা ছবির পোস্টারের উপরে। মূল বিষয়, ছবির প্রচার পর্ব এক অতীব ব্যয়বহুল এবং জরুরি একটি বিষয়।
কেন এই ভূমিকার প্রয়োজন পড়ল? কারণ এই প্রথমবার নয়, কয়েক শতবারের ঘটনা এটি। ফের ছিঁড়ে ফেলা হল আসন্ন এক সিনেমা, ‘অমরসঙ্গী’র স্টার। সেই ছেঁড়া, মাটিতে পড়ে থাকা অংশের ছবি তুলে তা পোস্ট করলেন ছবির অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়। ক্যাপশনে লিখলেন, ‘আগামী ৩১শে জানুয়ারী সিনেমাহলে মুক্তি পাচ্ছে “অমরসঙ্গী”। আমাদের অনেকটা রক্ত, ঘাম মিশে আছে এই সিনেমার নির্মানের সঙ্গে, হয়তো বেশ কিছুটা স্বপ্নও। সিনেমার প্রচারের জন্য কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে সিনেমার প্রযোজক কয়েক হাজার পোস্টার ছাপিয়েছেন, কলকাতা শহরের নানা জায়গায় অংশে সেগুলো লাগানোও হয়েছে। অথচ তার বেশ কিছু জায়গায় এই দৃশ্য। অদ্ভুত ভাবে শুধু আমাদেরই পোস্টার গুলো নির্মম ভাবে ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলা হয়েছে, পোস্টার ফেলার ১ দিন এর মধ্যে। আমাদের প্রযোজকের পক্ষে সম্ভব না আবার নতুন করে পোস্টার ছাপিয়ে গোটা শহর জুড়ে লাগানো। তাই আপনারা রাস্তায় সিনেমার পোস্টার দেখতে পাবেন কিনা জানিনা, কিন্তু #অমরসঙ্গী দেখতে পাবেন সিনেমা হল এ ৩১ এ জানুয়ারি থেকে। দেখা হচ্ছে।’
দ্য ওয়াল-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় অভিনেতার সঙ্গে, তিনি বললেন, ‘চেন্নাই থেকে প্রিন্ট করিয়ে আনতে হয়। পোস্টার পিছু খরচ। প্রত্যেক ছবির একটা সীমিত বাজেট থাকে। এর বাইরে গিয়ে আমি প্রযোজককে খরচ করতে, বলতে পারি না। এছাড়াও কতগুলো মানুষ একটা ছবির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে, জড়িয়ে থাকে অনুভূতি। কিছু মানুষ দিনের পর দিন কুকর্মটি করে চলেছে। কী আর বলতে পারি? ওদের ভাল হোক।’
‘কে’ বা ‘কারা’, এই পোস্টার ছেঁড়ার কাজটি নিয়মিত করে চলেছে, তার হদিশ মেলেনি। তবে টলিউডে পোস্টার ছেঁড়ার কালচার নিয়ে কথা হচ্ছিল প্রবীন এক ছবি প্রযোজকের সঙ্গে, তিনি বললেন, ‘আগেও এটা হয়েছে, সৌমিত্র-উত্তমকুমারের ছবির রিলিজের সময় হয়েছে। তবে এটা মূলত ভক্তরাই করতেন। ওই কালচারই হয়তো কালের নিয়মে চলে আসছে।’ তবে সিেনমা নিয়ে যাঁরা কালচার করেন, তাঁরা ‘পোস্টার ছেঁড়ার’ কালচার নিয়ে বললেন, ‘তবে এখন যারা পোস্টার ছেঁড়ে, তারা কেউ ভক্ত নয়। তারা এই কুকর্মটি করতে হাতে টাকা পান!’
বিক্রমের কাছে শেষ প্রশ্ন ছিল, আপনার লেখা বিবৃতি অনুযায়ী ‘অদ্ভুত ভাবে শুধু আপনাদেরই পোস্টর গুলো নির্মম ভাবে ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলা হল কেন মনে হয়? তিনি বললেন, ‘আমি তা বলতে পারব না, জানিও না। তবে আমাদের সঙ্গে বাকি যে ছবিই মুক্তি পাচ্ছে, তাঁদের প্রত্যেকের ছবি যেন হইহই করে প্রেক্ষাগৃহে চলে। তিনটে ছবিই যেন দারুণ ব্যবসা করতে পারে।’
প্রসঙ্গত, আগামী ৩১ জানুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে তিনটি বাংলা ছবি। পরমব্রত পরিচালিত ও অপর্ণা সেন-অঞ্জন দত্ত অভিনীত ‘এই রাত তোমার আমার’, শন বন্দ্যোপাধ্যায়, দিতিপ্রিয়া রায় অভিনীত ‘যদি এমন হতো’ এবং সোহিনী সরকার (Sohini Sarkar)ও বিক্রম (Vikram Chatterjee) অভিনীত ‘অমর সঙ্গী’।