
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 22 January 2025 13:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ের বান্দ্রা এলাকার সাতগুরু শরণ ভবনে ঢুকে অভিনেতা সইফ আলি খানকে আক্রমণ করেছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক শরিফুল ইসলাম শেহজাদ মোহাম্মদ রোহিলা আমিন ফকির ওরফে বিজয় দাস (৩০)। অভিযুক্ত জানুয়ারির ১৬ তারিখ ভোরে সইফ আলি খানের ১২ তলার ফ্ল্যাটে ঢুকে ছুরি দিয়ে একের পর এক আঘাত করেন। গুরুতর আহত অভিনেতাকে লীলাবতী হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচার করাতে হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল প্রথমে কলকাতার কাছে হাওড়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার ছক কষেন তিনি। তবে পুলিশের তৎপরতা বুঝতে পেরে তাড়াহুড়ো করে হাওড়ার ট্রেনের টিকিটের ব্যবস্থা করতে যান। কম সময়ের মধ্যে টিকিট কাটতে গেলে বেশি টাকা লাগবে বলে ট্র্যাভেল এজেন্টরা জানালে শরিফুল তা জোগাড় করতে পারেননি। এর আগেই থানের একটি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সইফকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম শেহজাদ যে সব ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তাঁদের খুঁজে বের করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
তদন্তে উঠে এসেছে, বুধবার রাতে শরিফুল ভবনের পেছনের সিঁড়ি দিয়ে তিনি সাইফ আলি খানের বাড়ির একটি বাথরুমের জানালা দিয়ে ঢোকেন। হামলার পর সাইফ আলি খান ও তাঁর গৃহপরিচারকরা মিলে শরিফুলকে বাথরুমে আটকে রাখেন। তবে তিনি পালিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে যান।
পুলিশ অভিনেতার ছোট ছেলে জাহাঙ্গীরের ঘর থেকে একটি মাস্ক উদ্ধার করেছে, যা শরিফুল ব্যবহার করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সাইফ এবং শরিফুলের মধ্যে সংঘর্ষ এই ঘরেই হয়েছিল। মুখোশটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার মুম্বই পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযুক্তকে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে। তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ভবনের পাঁচিল টপকে ঢোকেন এবং ওই সময় ভবনের দুই নিরাপত্তারক্ষী ঘুমিয়ে ছিলেন।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, 'অভিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষীদের গভীর ঘুমে দেখার পরই ভবনের মেন গেট দিয়ে ভিতরে ঢোকেন, যেখানে কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। যাতে কোনও রকম আওয়াজ না হয়, তাই শব্দ তিনি প্রথমে জুতো খুলে ব্যাগে রাখেন এবং নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করেন।'
ঘটনার তিন দিন পর, জানুয়ারির ১৯ তারিখ, পুলিশ অভিযুক্তকে থানে শহর থেকে গ্রেফতার করে। রবিবার অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম ফকিরকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়। সোমবার রাতে পুলিশ তাঁকে নিয়ে গিয়ে সইফ আলি খানের ফ্ল্যাটে ঘটনাস্থলের পুনর্নির্মাণ (ক্রাইম সিন রিক্রিয়েশন) করে।
পুলিশি জেরায় ফকির জানিয়েছেন, ওই বাড়ি যে বলিউড অভিনেতা সইফের, সে বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণা ছিল না। তিনি ভেবেছিলেন এটি কোনও ধনী ব্যক্তির বাসভবন।