সোশ্যাল মিডিয়াকে বিদায় জানিয়েছেন বছর তিনেক আগে। বাউন্সার নিয়ে ঘোরেন না। নেই কোনও ম্যানেজার। যদিও নিঃশব্দে চলছে তাঁর কাজ। চলছে লেখালিখি, একান্ত যাপন। তিনি সব্যসাচী চৌধুরী। মুক্তি পাচ্ছে তাঁর নতুন সিরিজ 'জয়সালমীর জমজমাট'। প্রচারবিমুখ, অন্তরালে থাকা অভিনেতার সঙ্গে আড্ডা জমে উঠল কলকাতার এক ক্যাফেতে...
.png.webp)
শেষ আপডেট: 26 May 2025 20:13
কেমন চলছে?
(হাসি) চলছে, ভালই চলছে...
সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনি নেই তিন বছর হতে চলল, অনুরাগীরা মিস করেন আপনাকে, কবে ফিরছেন?
তিন বছর হতে চলল না? ফেরার কোনও পরিকল্পনা নেই। খুব একটা কিছু মিস করি না সোশ্যাল মিডিয়া থেকে। বরং একদিকে লাভই হয়েছে।
লাভ?
হ্যাঁ লাভ। মনোযোগ বেড়েছে। কাজের পরিমাণ বেড়েছে।
আপনি মিস না করলেও ভক্তরা তো মিস করে আপনাকে
(হালকা হাসি) আমাদের একটা পেজ আছে 'ন্যাড়াছাদের গপ্প' বলে। সেখানে মাঝেমধ্যে লেখালিখি করি। সেখানে মানুষ পড়েন আমার লেখা। আর ওই বই লিখতাম যেমন, সেটাও করছি।
এখন তা আর শুধু অভিনেতা নন। স্ক্রিপ্ট রাইটার, ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর, নতুন দায়িত্ব গুলো কতটা উপভোগ করছেন?
আমি শখে লেখা শুরু করেছিলাম। কত লেখা বাড়িতেই থেকে গিয়েছে। একটা সময়ের পর লেখাটাকে একটু সিরিয়াস ভাবে নিই। প্রথম দু' একটা গল্পের ক্ষেত্রে সমস্যাও হয়েছে।
সেটা কীরকম?
হয়তো আমার গল্পে কাজ হয়ে গিয়েছে। আমি জানতে পারিনি। যদিও নিজেকে সান্ত্বনা দিয়েছি এটা ভেবে যে এতটাও খারাপ লিখি না বলেই এভাবে না বলে নিয়ে নিয়েছে। এরপর থেকে একটু একটু করে নিজেকে ব্যস্ত রাখি লেখার মধ্যে। আগে যেটা শখ ছিল এখন সেটাকে পেশা করার চেষ্টায় আছি। এই জয়সালমীরের স্ক্রিপ্টটাও আমি খানিক লিখেছি। একটা মজার ঘটনা বলি...
হ্যাঁ প্লিজ
রিঙ্গো দা, মানে আমাদের পরিচালকের কাজের ধরন হল, উনি ভোর পাঁচটায় লিখতে বসেন আর আমি ভোর পাঁচটায় লিখে শুতে যাই। আমাদের একটা সফটওয়ার ছিল, যেখানে দু'জনেই একসঙ্গে লিখতে পারে। তো এরকমই একদিন পাঁচটা-টা ম্যাচ করে গিয়েছে। আমি লিখে শুতে যাব, দেখি রিঙ্গো দা লেখা শুরু করেছে। কিছু জিনিস মুছছে। আমি ওখানেই লিখছি রিঙ্গোদাকে 'গুড মর্নিং, ডিলিট করছ কেন?' এভাবেই ছবির স্ক্রিপ্ট লেখা হয়েছে।

নিঃশব্দে সব কাজ করে যান, বরাবরই এমনই?
হ্যাঁ আমি ছোট থেকেই ভীষণ ইন্ট্রোভার্ট। চুপচাপই থাকি।
তথাকথিত ফানটাইমে কী করেন?
(এই প্রথম মন খুলে হাসলেন) আমি না পিএসফাইভে গেম খেলি। ভীষণ ভাল লাগে?
আর হোঁদল, আপনার শখের রেস্তোরাঁ, যেটা আপনি আর সৌরভ (দাস) একসঙ্গে শুরু করেছিলেন
চলছে সেটাও। ওটারও তিন বছর হতে চলল। মাঝেমধ্যে সেখানে যাই।
বামাক্ষ্যাপায় অভিনয় করেছিলেন, সেই লুকই কন্টিনিউ করে যাচ্ছেন, পরিবর্তনে বিশ্বাস করেন না?
আসলে বামাক্ষ্যাপা যেহেতু আবার সিনেমা আকারে আসছে সেই কারণেই এই লুকটা রাখতে হচ্ছে। ইনফ্যাক্ট 'জয়সালমীর...'-এও আমি লুক চেঞ্জ করতে পারিনি।
'বামাক্ষ্যাপা'র কথাই যখন উঠল, অভিনেতার পাশাপাশি আপনি তো এখন ওই প্রজেক্টের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টরও
গত এক বছরের বেশি হয়ে গেল রামপ্রসাদ শেষ করেছি। এরপর ধারাবাহিক না করার অন্যতম কারণ হল, এই কাজটাতে পুরোটা দিতে চেয়েছি।

কাজ বাড়ছে, পরিধি বাড়ছে, সব্যসাচী নিজের কোনও পিআর ম্যানেজার রাখছেন না কেন?
আমার কেউ নেই, আমার না অতো ব্যস্ততাও নেই। রিলস করি না। শো করি না। কোল্যাবে নেই!
কেন নেই? শো-বিজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া মানেই তো লাইমলাইট জরুরি
আমি ইন্ডাস্ট্রিতে আসার আগে থেকেই জানতাম আমি কী চাই, কতটুকু চাই, আর কতটা বেশি চাই না। আমি তো অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। পড়াশোনা নিয়ে থাকতাম। যখন প্রথম কাজ শুরু করি অনেকেই প্রস্তাব দিয়েছিল মাচা শো করার। আমি যে যাইনি তা নয়, কিন্তু পরে অনুভব করেছি, এটা আমার জন্য নয়।
খানিক থেমে
আমি কাজ করি, সেই কাজের জন্য ধার্য পয়সা নিই। কিন্তু পয়সার জন্য কাজ করি না। শুধু পয়সা পাব বলে অনিচ্ছাসত্ত্বেও কাজ করে নিতে আমি পারব না।
২০২২ সালটা ক্ষতের সাল ছিল, সেখান থেকে ফিরে এসে সব্যসাচীর এই 'ভাল থাকা' অনেকেরই চক্ষুশূল হতেই পারে, এমনকি এই ফিরে আসাকে 'সব কিছু ভুলে যাওয়ার' ট্যাগও দিয়ে দিতে পারেন অনেকে, সেই চিন্তা হয় না?
ব্যক্তিগত বিষয় সাক্ষাৎকারে বলা ছেড়ে দিয়েছি। তবু বলি, আজকে একশটা মানুষ একশটা কথা বলতে পারে, জীবনটা তো দিনের শেষে নিজেরই। কাজ করবে কি করবে না, ভাল থাকবে কি থাকবে না সেটা একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। কেউ সেটার নির্ধারক নন। ভাল বা খারাপের জন্য জীবন থেমে থাকতে পারে না। যদি কেউ ভাল বলেও থাকে তবু সকালে উঠে ব্রেকফাস্ট করে কাজে যেতে হবে, উল্টোটাও সত্যি।

সিরিয়ালে কবে ফিরছেন?
টেলিভিশন দিয়েই শুরু আমার। এই মুহূর্তে না ফিরলেও দেখা যাক আগামী দিনে ফিরতেই পারি। তবে আমি তো নির্দিষ্ট কিছু চরিত্রকেই বেছে নিই, এবার দেখা যাক।
আপনি কি খুব আধ্যাত্মিক?
(একগাল হেসে) খুব একটা নয়। তবে কিছু চরিত্র থাকে যা করে মনে হয় এখান থেকে কিছু শেখার আছে। আবার কিছু চরিত্র এমন আছে যা আমি জানি আমি হয়তো কোনওদিন করতে পারব না। আমাকে যদি কেউ এখন বলেন, ভিক্টোরিয়ার সামনে হিরোইনের সঙ্গে নাচতে আমি পারব না। আমি আসলে হার্ডকোর হিরো মেটেরিয়াল নই। আমি আমার সীমাবদ্ধতা জানি। আর এই নিয়েই আমি বেশ আছি।