আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle) মানেই পাটভাঙা শাড়ি। সঙ্গে কখনও সখনও চুলে গোঁজা একটা মানানসই ফুল। আধুনিকতার সঙ্গে যাঁর আজন্ম লড়াই, সেই তিনিই কেন শেষ পর্যন্ত শাড়ির ধ্রুপদী আভিজাত্যে নিজেকে বেঁধে রেখেছিলেন?

আশা ভোঁসলে
শেষ আপডেট: 12 April 2026 16:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পর্দার ওপারে তাঁর কণ্ঠে যখন ‘পল্লু লটকে’ গানে চপলতা ছড়ায়, এপারে তখন শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে দেখেন এক স্নিগ্ধ প্রতিচ্ছবি। পুরস্কারের মঞ্চ হোক কিংবা সংগীতের জলসা, আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle) মানেই পাটভাঙা শাড়ি। সঙ্গে কখনও সখনও চুলে গোঁজা একটা মানানসই ফুল। আধুনিকতার সঙ্গে যাঁর আজন্ম লড়াই, সেই তিনিই কেন শেষ পর্যন্ত শাড়ির ধ্রুপদী আভিজাত্যে নিজেকে বেঁধে রেখেছিলেন?
আশা (Asha Bhosle Interview) একবার একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, শাড়ি তাঁর কাছে সামান্য পোশাক তো নয়-ই বরং এক জন নারীর ব্যক্তিত্বের শ্রেষ্ঠ অলঙ্কার। শাড়ির ভাঁজে লুকিয়ে থাকে ভারতীয় সংস্কৃতির হাজার বছরের ইতিহাস। এই পোশাকের প্রসন্নতা আর শালীনতা তাঁকে যেমন টানে, তেমনই এর মাধ্যমে তিনি উদযাপন করেন ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে। কিন্তু এর বাইরেও অন্য গল্প আছে। আর সেই গল্পটি তাঁর ছেলে, আনন্দ।
গল্পটা আসলে মা আর ছেলের এক মিষ্টি আবদারের। আশা বলেছিলেন, আনন্দ তাঁকে শাড়িতে দেখলেই প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। ছেলের চোখে তাঁর মা মানেই এক লাবণ্যময়ী শাড়ি-পরিহিতা নারী। সালওয়ার-কামিজ বা অন্য কোনও পোশাকে তাঁর মাকে দেখতে নাকি একেবারেই পছন্দ করেন না আনন্দ। ছেলের এই শ্রদ্ধাশীল দৃষ্টি আর পছন্দকে সম্মান জানিয়েই আশা চিরতরে নিজের আলমারিকে শাড়ির জন্য সমর্পণ করে দিয়েছিলেন।
কৌতূহলে আরও একটা প্রশ্ন ওঠে। তা হল, আধুনিক পোশাক, বিশেষ করে জিন্স বা প্যান্ট কোনও দিনই ছুঁয়ে দেখেননি গায়িকা? আশা (Asha Bhosle Death) নিজেই বলেছিলেন, রেকর্ডিং স্টুডিওর সেই স্বর্ণালি দিনগুলোতে শাড়ি ছাড়া অন্য কোনও পোশাকের কথা তিনি ভাবতেই পারতেন না। তবে বিদেশে ঘুরতে গেলে মাঝেমধ্যে ইচ্ছে জাগে একটু আরামদায়ক ট্রাউজার্স পরতে, যাতে চলাফেরায় সুবিধা হয়। কিন্তু সেখানেও ‘বাধা’ হয়ে দাঁড়ান সেই ছেলেই! আনন্দ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর মনের মণিকোঠায় মায়ের যে ছবিটি আঁকা আছে, সেখানে তাঁর মুখে স্নিগ্ধ হাসি আর পরনে চিরকালীন শাড়ি মাস্ট। ছেলের শৈশবের স্মৃতি আশা কোনও ভাবেই ম্লান হতে দেননি।
সাত দশকের দীর্ঘ কেরিয়ারে আশা নিজেকে বারবার ভেঙেছেন, গড়েছেন। কিন্তু ছেলের দেওয়া সেই ‘কল্প-ছবি’ বা মেন্টাল পিকচারকে অক্ষুণ্ণ রাখতে শেষ অবধি তিনি ১২ হাত শাড়ির মায়াতেই বন্দি থেকেছেন। সুরের জগতে তিনি যতই বৈপ্লবিক হোন না কেন, ঘরের ড্রয়িংরুমে বা বিদেশের কোনও রাস্তায় তিনি আনন্দের মা, যাঁর কাছে সন্তানের পছন্দই সব থেকে বড় প্রাপ্তি।