সোমবার, ১৩ এপ্রিল মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হল তাঁর শেষকৃত্য। ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি গায়িকা। চিরতরে নিভে গেল সুরের আলো।
_0.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 13 April 2026 18:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার, ১৩ এপ্রিল মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হল তাঁর শেষকৃত্য (Asha Bhosle Funeral )। ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি গায়িকা। এদিন তাঁর শেষকৃত্যে (Asha Bhosle last rights) মুখাগ্নি করেন ছেলে আনন্দ ভোঁসলে। চিরতরে নিভে গেল সুরের আলো।
ত্রিবর্ণ পতাকায় মোড়া দেহ, শেষ শ্রদ্ধায় ভিড় —মুম্বইয়ে কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলেকে (Asha Bhosle Died) বিদায় জানাতে আবেগে ভাসল দেশ। চোখে জল সকলের! নীরবতা, প্রার্থনা আর আবেগে ভরা এক আবহে চলে শেষ শ্রদ্ধা জানানো।
এদিন সকাল থেকেই লোয়ার পলে গায়িকার বাসভবনে ছিল চাঁদের হাট। তবে সেই সমাবেশে ছিল না কোনও উৎসবের মেজাজ, বরং শোকের কালো ছায়া ঢেকে দিয়েছিল গোটা এলাকাকে। বোনকে শেষ বিদায় জানাতে এসেছিলেন প্রবীণা মঙ্গেশকর কন্যা মীনা খাড়িকর। এছাড়াও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন সচিন তেন্ডুলকর, সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমান, জাভেদ আলি, অভিনেত্রী তাবু, আশা পারেখ, নীল নীতিন মুকেশ এবং জ্যাকি শ্রফের মতো ব্যক্তিত্বরা।
বাসভবনে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় শিবাজি পার্ক শ্মশানে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিনোদন জগৎ, রাজনীতি এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রের দিকপালরা।
রবিবার ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হন এই প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী। মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আট দশকেরও বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত তাঁর সংগীতজীবনের অবসানে ভারতীয় সংগীত জগতে নেমে এসেছে গভীর শূন্যতা।
ভারতীয় সংগীতে আশা ভোঁসলের অবদান অনস্বীকার্য। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে গজল, ক্যাবারে থেকে আধুনিক—সব ধরনের গানেই সমান সাবলীল ছিলেন তিনি। গানের সংখ্যা এবং বৈচিত্র—দুই ক্ষেত্রেই ছিলেন অনন্য। তাঁর নাম রয়েছে সর্বাধিক স্টুডিও রেকর্ডিংয়ের বিশ্বরেকর্ডে। দিদি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে মিলেই হিন্দি চলচ্চিত্র সংগীতের সোনালি যুগ গড়ে তুলেছিলেন তিনি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে বদলে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে সকলের থেকে আলাদা করেছে বরাবর।
গোটা কেরিয়ারের শুরুটা হয়েছিল শৈশবে, বাবার মৃত্যুর পর। তারপর দীর্ঘ পথচলায় একের পর এক সাফল্য, স্মরণীয় গান আর অগণিত অনুরাগী—সব মিলিয়ে গড়ে ওঠে এক অমলিন উত্তরাধিকার। লতা মঙ্গেশকরের পর আশা ভোঁসলের চলে যাওয়া ভারতীয় সংস্কৃতির এক বিশাল শূন্যস্থান তৈরি করল। ১৯৪৩ সালে ক্যারিয়ার শুরু করে আট দশকেরও বেশি সময় ধরে হাজার হাজার গান উপহার দিয়েছেন তিনি। তাঁর বহুমুখী কণ্ঠস্বর আর জাদুকরী গায়কী চিরকাল বেঁচে থাকবে শ্রোতাদের হৃদয়ে। তাঁর প্রয়াণে সেই অধ্যায়েরই অবসান কিন্তু রয়ে গেল তাঁর গান, যা বেঁচে থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।