
সলিল চৌধুরী, অন্তরা চৌধুরি
শেষ আপডেট: 7 April 2025 20:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ বছর ২০২৫ হল সলিল চৌধুরীর (Salil Chowdhury) জন্মশতবর্ষ। শহর জুড়ে শুরু হয়ে গেছে সলিল চৌধুরীকে ঘিরে নানা অনুষ্ঠান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামের মতো সলিল চৌধুরীও গীতিকার ও সুরকার দুই-ই ছিলেন। তাই তাঁর গানকে আমরা সলিল-সঙ্গীত বলতেই পারি, এই কথাটাই বারবার বলতেন সলিল জায়া সবিতা চৌধুরী।
আনন্দপুর সলিল চৌধুরী জন্মশতবর্ষ কমিটি’(ASCBCS) আয়োজন করেছিল চারদিনব্যাপী এক বিশেষ অনুষ্ঠান,যার শীর্ষ নাম 'জীবন উজ্জীবন' । কিংবদন্তি সঙ্গীতস্রষ্টা ও কবি সলিল চৌধুরীর (Salil Chowdhury) জন্মশতবর্ষে তাঁকে স্মরণ করে আয়োজিত হয়েছিল চিত্রপ্রদর্শনী ও আলোচনাসভা ‘কলকাতা সেন্টার ফর ক্রিয়েটিভিটি’তে। ২রা এপ্রিল থেকে ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ হয়ে গেল মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান।
চার দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডঃ পবিত্র সরকার। এই মহোৎসবে যোগ দেন সাহিত্য, সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। ছিলেন শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়, পণ্ডিত তেজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদার,স্বপন বসু, জ্যোতিশঙ্কর রায়, দেবশঙ্কর রায়, প্রিয়দর্শী চক্রবর্তী এবং নির্মাল্য দে । এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শতবর্ষ উদযাপন কমিটির মাননীয় সদস্যরা যেমন, ইন্দ্রাণী সেন, অধ্যাপক গৌতম ঘোষ, শুভ দাশগুপ্ত, মনোময় ভট্টাচার্য, বুদ্ধদেব গঙ্গোপাধ্যায়, অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়, রকেট মণ্ডল, সঞ্জয় চৌধুরী, অর্ণা শীল, শ্রীকান্ত আচার্য এবং অন্তরা চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন মধুমিতা বসু। সলিল কন্যা অন্তরা চৌধুরী আন্তরিকতায় ভরিয়ে রাখলেন গোটা অনুষ্ঠানকে।
এই প্রদর্শনীর বিশেষ আকর্ষণ ছিল সলিল চৌধুরীর হাতে লেখা গান ও পাণ্ডুলিপি। তাঁর ও অন্যান্য কিংবদন্তি শিল্পীদের বিরল আলোকচিত্র,সলিল চৌধুরীর পাওয়া বিভিন্ন সম্মাননা ও পুরস্কার;সলিল চৌধুরী ব্যবহার করা নানান বাদ্যযন্ত্র, যা ব্যবহৃত হয়েছে তাঁর সুরসৃষ্টিতে; বিভিন্ন চলচ্চিত্রের রেকর্ড, রেকর্ড কভার, বুকলেট এবং পোস্টার;সলিল চৌধুরীর ব্যবহার-করা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং তাঁর স্বহস্তে আঁকা ছবি।
নানা দিন অনুষ্ঠানে ছিল বিভিন্ন আলোচনা-সভা। সলিল চৌধুরীর সমগ্র সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা-সভা আয়োজিত হয়েছিল প্রতিদিন ৫টা থেকে ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। বাংলার বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ ও শিল্পীরা, যাঁরা সলিল চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করেছেন বা তাঁর দ্বারা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছেন, তাঁরা তাঁদের মূল্যবান অভিজ্ঞতা ও অন্তর্দৃষ্টি ভাগ করে নিলেন শ্রোতাদের সঙ্গে।
সলিল কন্যা অন্তরা চৌধুরী বললেন, "আমার বাবা সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষের এই মহালগ্নে তাঁর জীবন, কীর্তি এবং কালজয়ী সৃষ্টিসমূহের এক অনন্য উদযাপনে আপনারা সবাই সামিল হলেন, আমি ভীষণ খুশি। শুধু তাই নয়, আমরা চাই, আগামী প্রজন্মের সামনেও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক এই মানুষটির সৃষ্টি।" সলিল সঙ্গীত সঠিক ভাবে গাইতে পারে খুব কম মানুষ। সে কথা বারবার উঠে এল অনুষ্ঠানের নানা কথায়। এই উদযাপনের মধ্যে দিয়ে শতবর্ষে আরও জীবন্ত হয়ে উঠলেন আলোর পথযাত্রী।