আইআইটি ছেড়ে সেনাবাহিনীর পথে। বাদায়ুঁর সিদ্ধি জৈন এনডিএ-র ১৪৯তম পাসিং আউট প্যারেডে প্রথম মহিলা হিসেবে প্রেসিডেন্টস মেডেল জিতে ইতিহাস গড়লেন।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 2 December 2025 20:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশে বাদায়ুঁ জেলার উঝানি থেকে উঠে এসে ইতিহাস গড়ে ফেললেন ক্যাডেট সিদ্ধি জৈন(Siddhi Jain NDA)। ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির (NDA) ১৪৯তম পাসিং আউট প্যারেডে তিনিই দেশের প্রথম মহিলা, যাঁর কাঁধে উঠল সম্মানজনক প্রেসিডেন্টস মেডেল (President Medal)। সেই সঙ্গে পেয়েছেন বেস্ট অল-রাউন্ড এয়ার ক্যাডেটের খেতাবও।
রবিবার প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত ছিলেন উচ্চপদস্থ সামরিক আধিকারিক, বিশিষ্ট অতিথি এবং শত শত গর্বিত পরিবারের সদস্য। নেভি চিফ অ্যাডমিরাল দিনেশ ত্রিপাঠী নিজের হাতে সিদ্ধির বুকে মেডেল পরিয়ে বলেন, “এটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে মহিলাদের নেতৃত্বের নতুন দিশা। তাঁর শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় এবং প্রশিক্ষণ এক নতুন মানদণ্ড তৈরি করল।”
অভূতপূর্ব কৃতিত্ব
১৪৯তম ব্যাচ থেকে এ বার ১৫ জন মহিলা ক্যাডেট পাস আউট করেছেন। এর আগে দু’টি কোর্সে দু’জন মহিলা অ্যাকাডেমিক টপার হলেও সামগ্রিক মেধাতালিকায় জায়গা পাওয়া প্রথম মহিলা সিদ্ধি জৈনই। তিন বছরের কঠোর প্রশিক্ষণ—অ্যাকাডেমিক থেকে শারীরিক ক্ষমতা, নেতৃত্ব, মানসিক দৃঢ়তা—সব ক্ষেত্রেই তিনি নজর কাড়েন। এই ব্যাচে প্রেসিডেন্ট’স গোল্ড জিতেছেন দীপক কাণ্ডপাল, সিলভার পেয়েছেন সিদ্ধার্থ সিং এবং ব্রোঞ্জ মেডেল জিতেছেন সিদ্ধি জৈন।
পরিবারের আবেগ ও দেশের অনুপ্রেরণা
বাবা-মা নিখিল কুমার জৈন এবং ত্রুপ্তি জৈন দুজনেই শিক্ষকতা করেন। তাঁরা কখনও ভাবেননি মেয়ের গন্তব্য সেনাবাহিনী হবে। আজ তাঁরাই বলেন, “দেশের সব মেয়ের কাছে সিদ্ধি এখন অনুপ্রেরণা।”
তাঁর সাফল্য নিয়ে সিদ্ধি বলেন,“একবার ব্যর্থ হওয়া ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। দৃঢ়তা থাকলে সাফল্য আসবেই”। মেডেল হাতে দাঁড়িয়ে আবেগে ভেসেছেন সিদ্ধি।
এখন লক্ষ্য—আকাশ
এনডিএ থেকে বেরিয়ে এখন তাঁর পরবর্তী গন্তব্য *এয়ার ফোর্স অ্যাকাডেমি। সেখানেই চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ শেষে ভারতীয় বায়ুসেনার গর্ব হয়ে উঠবেন তিনি।
সিদ্ধির কথায়, “আমি চাই আরও অনেক মেয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিক। আমি তাঁদেরই একজন হতে চাই, যাঁদের দেখে মেয়েরা স্বপ্ন দেখতে শিখবে।”
IIT-র সম্ভাবনা ছেড়ে ইউনিফর্মের ডাক শুনেছিলেন তিনি। আজ সেই সিদ্ধান্তই তাঁকে পৌঁছে দিল দেশের কোটি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালবাসার জায়গায়। দেশ এখন অপেক্ষা করছে—অফিসারের কাঁধে তারকার ঝলক দেখার জন্য।