
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা চক্র।
শেষ আপডেট: 10 January 2025 13:14
আলোচনার প্রথম দিন প্রকাশিত হয় অংশুমান কর সম্পাদিত বই 'ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড কালচারাল রিপ্রেজেন্টেশনস: অস্ট্রেলিয়ান অ্যান্ড ইন্ডিয়ান পারসপেক্টিভস'। গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন অধ্যাপক প্রদীপ ত্রিখা এবং দেবনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন রাজ্য এবং দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিরা। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ছিল অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, মরিশাস এবং নাইজেরিয়া। উল্লেখযোগ্য বিদেশি অধ্যাপকদের মধ্যে ছিলেন বিল অ্যাশক্রফট, পল শারদ, ব্রেন্ডা ম্যাচোস্কি, নিকোলাস বার্নস, সুখমানি খোরানা, ভেক লুইস, এবং সুশীলা গোপাল।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অস্ট্রেলিয়ান স্টাডিজ দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ান সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা করছে এবং দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের কাজ করে চলেছে। এই কেন্দ্র ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ান সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত একাধিক গ্রন্থ প্রকাশ করেছে।
কেন্দ্রের ডিরেক্টর অধ্যাপক অংশুমান কর বলেন, 'দু'দিনের এই আলোচনায় দুই দেশের গণতন্ত্র রক্ষা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে বিভিন্ন চিন্তাবিদদের মতামত তুলে ধরা হবে।' পাশাপাশি তিনি জানান, আলোচনায় পঠিত গবেষণাপত্রগুলি নিয়ে ভবিষ্যতে একটি গ্রন্থ প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইংরেজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অর্ণব সিনহা বলেন, 'এই আলোচনায় প্রায় ৫০ জন গবেষক ও চিন্তাবিদ তাঁদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছেন। এত বড় আকারের আলোচনা সভা ইদানীং আমাদের বিভাগে আয়োজন করা হয়নি। ছাত্রছাত্রী এবং গবেষকরা এই আলোচনা থেকে বিশাল উপকৃত হবেন।'
আলোচনার শেষ দিনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যক্ষ সুনীল কারফরমা এবং অস্ট্রেলিয়ান ডেপুটি কনসাল জেনারেল কেভিন গো। কেভিন গো বলেন, 'এ ধরনের আলোচনা যত বেশি হবে, দুই দেশের সম্পর্ক ততই মজবুত হবে।'
দু'দিনের এই আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্র শুধু গণতন্ত্র ও বহুসংস্কৃতিবাদ নিয়ে নয়, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করার দিকেও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ভূমিকা নিয়েছে।