বিশ্ববিদ্যালয়ের কাদম্বিনী গাঙ্গুলী সভাকক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভার শিরোনাম ছিল “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাংস্কৃতিক আখ্যান এবং শিক্ষার ভবিষ্যৎ: প্রেক্ষিতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া”।

শেষ আপডেট: 22 January 2026 22:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আজ আর শুধু কল্পনা বা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বিষয় নয়—আজ তা আমাদের দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্যতম অংশ। আমরা কীভাবে পড়ি, পড়াই, লিখি, গবেষণা করি - এমনকী অতীতকে স্মরণ করি ও সাংস্কৃতিক সত্তা নির্মাণ করি - সব ক্ষেত্রেই এআই-এর প্রভাব ক্রমশ স্পষ্ট। এই প্রেক্ষাপটেই ২০ ও ২১ জানুয়ারি ২০২৬, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের (Burdwan University) ইংরেজি বিভাগের সেন্টার ফর অস্ট্রেলিয়ান স্টাডিজ–এর উদ্যোগে এবং অস্ট্রেলিয়ান কনসুলেট জেনারেল, কলকাতা–র সহযোগিতায় এক আন্তর্জাতিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কাদম্বিনী গাঙ্গুলী সভাকক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভার শিরোনাম ছিল “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাংস্কৃতিক আখ্যান এবং শিক্ষার ভবিষ্যৎ: প্রেক্ষিতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া”। সভার উদ্বোধন করেন ড. কেভিন গো, কলকাতার অস্ট্রেলিয়ান কনসাল জেনারেল। সভাপতিত্ব করেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শংকরকুমার নাথ। উপস্থিত ছিলেন কলা বিভাগের অধ্যক্ষ অধ্যাপক পার্থপ্রতিম দাসও।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় ড. কেভিন গো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন, পাশাপাশি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আখ্যান নির্মাণে এআই ব্যবহারে সংযম ও দায়িত্বশীলতার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া পারস্পরিক সহযোগিতায় কাজ করলে এটি দু’দেশের জন্যই লাভজনক হতে পারে।
অন্যদিকে উপাচার্য অধ্যাপক শংকরকুমার নাথ জানান, যথাযথ কাজে লাগানোর পাশাপাশি সচেতন ব্যবহার ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

আলোচনা সভায় ভারত ও বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে সাহিত্য, সাংস্কৃতিক অধ্যয়ন, শিক্ষা, ডিজিটাল হিউম্যানিটিজ এবং সংশ্লিষ্ট শাখার অধ্যাপক ও গবেষকরা তাঁদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। গবেষণাপত্রগুলিতে উঠে আসে, এআই যখন ক্রমশ সাংস্কৃতিক উৎপাদন ও শিক্ষাচর্চার মধ্যস্থতাকারীতে পরিণত হচ্ছে, তখন কারও গল্প সংরক্ষিত হচ্ছে, কোনও কণ্ঠস্বর প্রাধান্য পাচ্ছে এবং কোনও জ্ঞানতত্ত্ব আবার বিলুপ্তির ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন অস্ট্রেলিয়ার ওলংগঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শ্যাডি কসগ্রোভ। অস্ট্রেলিয়া থেকে সরাসরি অংশ নেন অধ্যাপক ভেক লুইস ও ক্যাথরিন হামেল। মরিশাস থেকে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সুশীলা গোপল। আমেরিকার অধ্যাপক নিকোলাস বার্নস ও ব্রেন্ডা ম্যাচোক্সি, এবং চিনের অধ্যাপক জিয়ানজুন লি অনলাইনে তাঁদের গবেষণাপত্র পাঠ করেন।

আয়োজক সংস্থার ডিরেক্টর অধ্যাপক অংশুমান কর জানান, দেশ-বিদেশের শিক্ষাবিদদের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, তরুণ গবেষক ও ছাত্রছাত্রীরা গবেষণাপত্র উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছেন। এই আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি আরও জানান, পঠিত গবেষণাপত্রগুলি নিয়ে একটি গ্রন্থও প্রকাশিত হবে।

ইংরেজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সঞ্জয় মালিক জানান, ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এবং সেরা তিন ছাত্র গবেষণাপত্রকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। আলোচনা সভার আহ্বায়ক অধ্যাপক অর্ণব কুমার সিনহা বলেন, “দেশ-বিদেশের নামকরা অধ্যাপক ও গবেষকদের এক মঞ্চে আনতে পেরে আমরা আনন্দিত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্ব জুড়ে যে পরিবর্তন চলছে, এই আলোচনা সভা তার একটি দিকনির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করেছে।”