ভারতীয় ক্রিকেটে ম্যাচের চাপ এখন বহুগুণ বেড়েছে। বছরে কার্যত বারো মাস খেলা—বাইশ গজে টিকে থাকতে হলে ফিটনেসের স্তর আগের থেকে অনেক বেশি উঁচুতে তুলতে হবে। সেই কারণেই বিসিসিআই কঠিনতর এই টেস্ট চালু করেছে।

ছবি: সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 1 September 2025 11:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরাধুনিক জমানায় ক্রিকেট শুধু শুধু ব্যাট–বলের লড়াই নয়। যুদ্ধ জিততে সমান গুরুত্বপূর্ণ খেলয়াড়দের সহনশক্তি। শারীরিক ও মানসিক—দু’দিক দিয়েই চাপ সহ্য করার ভরপুর ক্ষমতা!
সহজ করে বললে, ফিটনেসই আসল চাবিকাঠি। আর তাকে ঝালাই করে নিতেই নয়া কিসিমের এক অগ্নিপরীক্ষা আমদানি করেছে বিসিসিআই (BCCI)। নাম—ব্রঙ্কো টেস্ট (Bronco Test)। শুনতে ঝকঝকে, আদতে ভয়ানক কষ্টের। ক্রিকেটে এর ব্যবহার নতুন হলেও, রাগবির মতো খেলায় বহুদিন ধরেই এই টেস্ট চালু আছে। উদ্দেশ্য একটাই—অ্যাথলিটের কার্ডিওভাসকুলার ক্ষমতা, স্ট্যামিনা আর মানসিক দৃঢ়তা যাচাই করা।
কীভাবে হয় ব্রঙ্কো টেস্ট?
প্রক্রিয়াটা আপাতদৃষ্টিতে সোজা হলেও শরীরে ভয়ংকর প্রভাব ফেলে। প্রথমে মাঠে চারটে কন (Cones) বসানো হয় ০ মিটার, ২০ মিটার, ৪০ মিটার ও ৬০ মিটার দূরত্বে। খেলোয়াড়কে করতে হয় শাটল রান—
ক. প্রথমে দৌড়ে ২০ মিটার পর্যন্ত গিয়ে ফিরে আসতে হয়।
খ. তারপর ৪০ মিটার পর্যন্ত গিয়ে ফেরত আসা।
গ. শেষে একই কাজ, ৬০ মিটারে।
এই তিন ধাপ মিলিয়ে একটি সেট। দূরত্ব দাঁড়ায় মোট ২৪০ মিটার। খেলোয়াড়কে এমন ৫টি সেট সম্পূর্ণ করতে হয়। অর্থাৎ, একেকজনকে টানা ১,২০০ মিটার দৌড়োতে হয় নির্দিষ্ট গতিতে, বিন্দুমাত্র বিশ্রাম ছাড়া। শেষে যে সময় লাগে, তার বিচারে মাপা হয় শারীরিক সক্ষমতা।
এই টেস্ট আসলে কী পরিমাপ করে?
ক্রিকেটাররা ম্যাচ চলাকালীন বারবার দৌড়ন। উইকেটের মধ্যে স্প্রিন্ট, ফিল্ডিংয়ে হঠাৎ ডাইভ, সীমানা থেকে দ্রুত রিটার্ন—সব কিছুর মধ্যে থাকে হাই–ইনটেনসিটি রানের চাপ। ব্রঙ্কো টেস্ট দেখে নেয়—
ক. খেলোয়াড় কতটা টানা দৌড়োতে পারেন।
খ. শরীর কত দ্রুত ক্লান্ত হয়।
গ. ক্লান্তির মধ্যেও কতটা তীব্র গতি ধরে রাখা সম্ভব।
এখানেই শুধু পেশির শক্তি নয়, মানসিক দৃঢ়তাও পরীক্ষা করা হয়। কারণ দৌড় যত বাড়ে, ততই মাথায় চেপে বসে চাপ!
‘ইয়ো-ইয়ো’-র থেকে আলাদা কোথায়?
ভারতীয় ক্রিকেটে বহুদিন ধরে ‘ইয়ো-ইয়ো টেস্ট’ ছিল প্রধান ফিটনেস মাপকাঠি। আসলে ইন্টারমিটেন্ট এন্ডিউরেন্স টেস্ট। অর্থাৎ, দৌড়ের মধ্যে ছোট ছোট বিরতি। খেলোয়াড়রা স্প্রিন্ট করেন, আবার কয়েক সেকেন্ড হাঁটেন বা দাঁড়ান, তারপর ফের দৌড়।
ব্রঙ্কো টেস্টে সেই বিরতি নেই। এটি কনটিনিউয়াস এন্ডিউরেন্স টেস্ট। একবার দৌড় শুরু হলে কোনও ছেদ পড়বে না। কার্ডিও ক্ষমতা আর স্ট্যামিনাকে সীমার প্রান্তে ঠেলে দেয় এই পরীক্ষা। ফলে যাঁরা ‘ইয়ো-ইয়ো’-তে পাস করতেন সহজেই, ব্রঙ্কোতে তাদের ঘাম ঝরতে বাধ্য!
কেন এখন ব্রঙ্কোর শরণাপন্ন বিসিসিআই?
ভারতীয় ক্রিকেটে ম্যাচের চাপ এখন বহুগুণ বেড়েছে। বছরে কার্যত বারো মাস খেলা—বাইশ গজে টিকে থাকতে হলে ফিটনেসের স্তর আগের থেকে অনেক বেশি উঁচুতে তুলতে হবে। সেই কারণেই বিসিসিআই কঠিনতর এই টেস্ট চালু করেছে। যাতে বোঝা যায়, শুধু প্রতিভা নয়, দীর্ঘ টুর্নামেন্টে দৌড়ঝাঁপ সামলানোর মতো ফিটনেস আছে কি না। স্পষ্ট কথায়, ইয়ো-ইয়ো বেসিক ফিল্টার, ব্রঙ্কো আরও কঠিন ছাঁকনি। এখানে কোনও শর্টকাটের জায়গা নেই।