বিকাশের বক্তব্য মূলত একটা দিকে আঙুল তুলছে—নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও নির্বাচন কোনওটাই স্থিতিশীল নয়। দলের ভিত নড়বড়ে। আর সেই অবস্থায় অভিজ্ঞতার বদলে পরীক্ষা–নিরীক্ষাই অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
.jpeg.webp)
গম্ভীর-বিরাট-রোহিত
শেষ আপডেট: 26 November 2025 11:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুয়াহাটি টেস্টে ব্যাট হাতে লক্ষ্যভ্রষ্ট টিম ইন্ডিয়া। বল হাতেও ছন্নছাড়া টিম। ৫৪৯ রান তাড়া করতে নেমে ভারত যখন চতুর্থ দিনের শুরুতেই ধারাবাহিকভাবে দুই উইকেট হারাল, তখনই সামাজিক মাধ্যমে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ফেটে পড়তে শুরু করেছে। আর এই জনবিস্ফোরণের সু্যোগেই জোরালো পাঞ্চ হাঁকালেন বিরাট কোহলির দাদা বিকাশ কোহলি (Vikas Kohli)। একের পর এক পোস্টে তিনি সরাসরি নিশানা করলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI), প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) এবং নির্বাচক অজিত আগারকরকে (Ajit Agarkar)। অভিযোগ তুললেন, ভারতীয় ক্রিকেটের পতনের আড়ালে ‘অপ্রয়োজনীয়’ ও ‘জোরজবরদস্তিমূলক’ পরিবর্তনই দায়ী।
পোস্টগুলি পরে ডিলিট করা হলেও স্ক্রিনশট রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। বিকাশের মোদ্দা দাবি—বিরাট কোহলি (Virat Kohli) ও রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) স্বেচ্ছায় টেস্ট ছাড়েননি, তাঁদের ‘সরিয়ে দেওয়া’হয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘আগে ভারত বিদেশে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নামত। এখন দেশে ম্যাচ বাঁচানোই টার্গেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা আসলে যে জিনিস ভাঙা ছিল না, তাকে বদলানোর ফল…!’
আরও তীব্র অভিযোগ আসে অন্য পোস্টে, যেখানে তিনি ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) টেস্ট টিম বাছাইয়ের তুলনা টেনে লেখেন: ‘ভারতের স্ট্র্যাটেজি—সিনিয়রদের বসাও, ৩/৪/৫ নম্বরের স্পেশালিস্ট ব্যাটার বাদ দাও, বোলারকে ৩ নম্বরে খেলাও, সব জায়গায় অলরাউন্ডার…। দক্ষিণ আফ্রিকার স্ট্র্যাটেজি—পুরো স্পেশালিস্ট টেস্ট টিম!’
মূলত ভারতীয় দলের ইদানীং রদবদল নিয়েই তাঁর সমস্ত ক্ষোভ। কেন অভিজ্ঞ ব্যাটারদের সরিয়ে দিয়ে বারবার নতুন সংমিশ্রণ? কেন ওয়াশিংটন সুন্দর ৩ নম্বরে? কেন স্থায়ী স্পেশালিস্ট ব্যাটার না রেখে ‘অলরাউন্ডার-নির্ভর’ স্কোয়াড? এইসব প্রশ্নই তুলেছেন বিকাশ। তাঁর মতে, দক্ষিণ আফ্রিকা সাধারণ টেস্ট ক্রিকেটের মুনশিয়ানা—স্পেশালিস্ট ওপেনার, মিডল অর্ডার ব্যাটার, স্পিন–পেস বোলার—সব মিলিয়ে সঠিক কাঠামো রেখে ভারতকে ছাপিয়ে গেছে।
গম্ভীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বছরে ভারত ঘরের মাঠে চারটির মধ্যে দু’টি সিরিজেই হোয়াইটওয়াশের মুখে। বাংলাদেশকে হারানোর পর পরাজয় নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। তারপর অস্ট্রেলিয়ায় বর্ডার–গাভাসকর ট্রফি খুইয়ে ছিটকে যায় ডব্লিউটিসি ফাইনালের দৌড় থেকে। ইংল্যান্ডে ২–২ ড্র—যদিও অনেকে মনে করেন, সেই সিরিজ জেতার কথা ছিল। শেষে ক্যারিবিয়ানদের হারিয়ে সামান্য ছন্দে ফেরা। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা সেই পুরনো ভাঙন ফের মেলে ধরেছে।
বিকাশের বক্তব্য মূলত একটা দিকে আঙুল তুলছে—নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও নির্বাচন কোনওটাই স্থিতিশীল নয়। দলের ভিত নড়বড়ে। আর সেই অবস্থায় অভিজ্ঞতার বদলে পরীক্ষা–নিরীক্ষাই অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিনি পোস্টের শেষে লিখেছেন, ‘ভারতের জয় মনেপ্রাণে চাই। কিন্তু প্রশ্ন তো উঠবেই—দায়ী কে? দল যখন ঘরের মাঠেই পরপর লজ্জাজনক হার এড়িয়ে উঠতে পারছে না, তখন বিরাটের দাদার এই অভিযোগ নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বালিয়েছে—কোহলি–রোহিতকে কি সত্যিই ‘বসানো’ হয়েছিল? নাকি এটা কেবল হতাশ সমর্থকের ক্ষোভ? উত্তর চায় ভারতীয় ক্রিকেট—দ্রুত, স্পষ্ট, নির্ভুল।