
মায়ের সঙ্গে সচিন
শেষ আপডেট: 20 January 2025 12:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপলক্ষ ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম উদ্বোধনের পঞ্চাশতম বর্ষপূর্তি। আর জমকালো সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঘরের ছেলে সচিন তেন্ডুলকর। ২০১১-র বিশ্বকাপ থেকে জীবনের শেষ টেস্ট খেলতে নামা—ওয়াংখেড়ের বাইশ গজ তাঁকে খালি হাতে ফেরায়নি। তাই আলাপচারিতা ও স্মৃতিচারণ ভাগ করে নেওয়ার ফাঁকে কিছু অজানা অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন ক্রিকেটের ‘মাস্টার ব্লাস্টার’।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জীবনের শেষ সিরিজ খেলতে নামার আগে নাকি আপনি বিসিসিআইকে বলেছিলেন যাতে অন্তিম ম্যাচ ওয়াংখেড়েতে রাখা হয়? প্রশ্নের জবাবে সচিন বলেন, ‘একেবারেই তাই। আমার ক্রিকেট জীবন ৩০ বছরের। তার মধ্যে ২৪ বছর আমি দেশের হয়ে খেলেছি। এর মধ্যে আমার মা আমায় একবারও স্টেডিয়ামে এসে খেলতে দেখেনি। এই নিয়ে মনে একটা খেদ ছিল। তা ছাড়া তখন তিনি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। বয়সও হয়েছিল। তাই সব কথা মাথায় রেখে আমি নির্বাচকদের অনুরোধ করি, যাতে শেষ টেস্ট ওয়াংখেড়েতে রাখা হয়। বিসিসিআই সাগ্রহে আমার সেই অনুরোধ রক্ষা করে।‘
ওই ম্যাচে ব্যাট হাতে নামার সময় কীভাবে অনুভূতির স্রোত বয়ে গেছিল সে বিষয়েও অকপট সচিন। ‘লিটল মাস্টার’ বলেন, ‘শেষ ম্যাচ ছিল অলৌকিক অনুভূতির। যখন ব্যাট করতে যাচ্ছিলাম তার আগে আমায় অনেক কিছুর সঙ্গে যুঝতে হচ্ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা আমায় অনেক শ্রদ্ধা জানিয়েছিল সেদিন।‘ এরপর একটু মজার ছলেই তিনি জানান, জায়ান্ট স্ক্রিনের দায়িত্ব যাঁরা ছিলেন, তাঁদের কাছে নিশ্চয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাসপোর্ট ছিল। কারণ বারবার মা ও স্ত্রীয়ের ছবি সেখানে ফুটে ওঠার ফলে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছিলেন তিনি। ফলে ক্রিজে মনঃসংযোগে অসুবিধা হচ্ছিল। উল্লেখ্য, ভক্তদের প্রার্থনা সত্ত্বেও সে ইনিংসে সচিন শতরান পাননি। ৭৪ রানেই আউট হন তিনি।
এর পাশাপাশি ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালেও একই স্টেডিয়ামে নেমেছিলেন তেন্ডুলকর। তিরাশির কাপ জয় তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছিল এবং তিনি জানতেন একদিন না একদিন দেশকে এই খেতাব ফের জেতাবেন। বলতে গিয়ে এখনও একই রকম আত্মবিশ্বাসী শোনাচ্ছিল সচিনের গলা।