ব্যাট-বল নয়, আক্রমের যুক্তি, মানসিক দৃঢ়তাই হতে চলেছে আসল ফ্যাক্টর। বাইশ গজে যে পক্ষ ভালভাবে চাপ চাপ সামলাতে পারবে, তারাই হাসবে যুদ্ধজয়ের হাসি।

ওয়াসিম আক্রম
শেষ আপডেট: 27 August 2025 10:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমস্ত আশঙ্কা দূর করে সবুজ সংকেত দিয়ে দিয়েছে মোদী সরকার। এশিয়া কাপে (Asia Cup 2025) পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামছে টিম ইন্ডয়া (India vs Pakistan)। এটা একরকম চূড়ান্ত। ১৪ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে (Dubai) মুখোমুখি হতে চলেছে দুই দেশে। আসন্ন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াই।
শুরু থেকেই গুঞ্জন ছিল জোরালো—ভারত আদৌ খেলবে তো? এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট: দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নয়; তবে বহুদেশীয় টুর্নামেন্টে নামতে হবে। ফলে এই ম্যাচ ঘিরে জমছে আবেগ, ছড়াচ্ছে উৎকণ্ঠা, বাকযুদ্ধও অল্পবিস্তর শুরু হয়ে গিয়েছে।
এহেন উত্তপ্ত আবহে এবার দুই ক্যাম্পকেই সতর্ক করে দিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক ওয়াসিম আক্রম (Wasim Akram)। তাঁর বক্তব্য, এই ম্যাচ নিঃসন্দেহে হাইভোল্টেজ দ্বৈরথ। তবু উসকে দেওয়া আবেগে যেন কেউ সীমা উল্লঙ্ঘন না করে। তাঁর কথায়, ‘আমি নিশ্চিত, সব ভারত-পাক ম্যাচের মতো এবারও লড়াই হবে জমজমাট। আশা করি, খেলোয়াড় ও সমর্থক—দু’পক্ষই শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন, সীমা ছাড়াবেন না। ভারতীয়রা যেমন দেশপ্রেমিক হয়ে চান তাঁদের দল জিতুক, পাকিস্তানি সমর্থকরাও তাই প্রার্থনা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত জিতবে সেই দল, যারা চাপ সামলাতে পারবে!’
কিংবদন্তি পেসারের বিশ্লেষণে, সাম্প্রতিক ফর্মে এগিয়ে ভারত। তাই তাঁর চোখে ফেভারিট টিম ইন্ডিয়া। তবে ব্যাট-বল নয়, আক্রমের যুক্তি, মানসিক দৃঢ়তাই হতে চলেছে আসল ফ্যাক্টর। বাইশ গজে যে পক্ষ ভালভাবে চাপ চাপ সামলাতে পারবে, তারাই হাসবে যুদ্ধজয়ের হাসি।
এশিয়া কাপে এবার একাধিক ভারত–পাক দ্বৈরথ দেখা যেতে পারে। ১৪ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বের ম্যাচের পর ২১ সেপ্টেম্বর সুপার ফোরে ফের মোলাকাতের জোরালো সম্ভাবনা। আর দুই দল ফাইনালে উঠতে পারলে ২৮ সেপ্টেম্বর তৃতীয়বার মুখোমুখি সংঘর্ষ। এই কারণে আক্রম বলেছেন, ‘এই এশিয়া কাপ বিশ্বজুড়ে ভক্তদের জন্য উৎসব হতে চলেছে!’
শুধু বহুদেশীয় টি-টোয়েন্টিতে নয়, টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি নামুক ভারত-পাকিস্তান—এমন আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি। আক্রামের যুক্তি, ‘অনেক বেশি সময় হয়ে গেল। যদি আবার টেস্ট সিরিজ চালু হয়, সেটা দুই দেশের সমর্থকদের জন্য ঐতিহাসিক মহোৎসব!’ যদিও সুইংয়ের সুলতানের এই আর্জিতে কতটা বরফ গলবে, সেই বিষয়ে সন্দেহ আছে। ভারত সরকার ইতিমধ্যেই পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আপাতত একেবারে বন্ধ। বহুদেশীয় প্রতিযোগিতা ছাড়া মাঠে ভারত–পাক সংঘর্ষের আর কোনও পথ খোলা নেই।