বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তৈরি একাদশ। ট্রফি জেতার কৃতিত্ব নয়, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সই ছিল মূল মানদণ্ড। তাই খেতাব হাতে তুলেও হরমনের কপাল পুড়েছে।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 4 November 2025 11:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক হয়েও জায়গা মিলল না সেরা একাদশে। ক্রিকেট বিশ্বকাপের (Women’s World Cup 2025) সেরা দলে (Team of the Tournament) নাম নেই ভারতের অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের (Harmanpreet Kaur)। মঙ্গলবার প্রকাশিত আইসিসির (ICC) তালিকায় জায়গা পেয়েছেন মোট তিন ভারতীয় ক্রিকেটার—স্মৃতি মান্ধানা (Smriti Mandhana), জেমাইমা রদ্রিগেজ (Jemimah Rodrigues) এবং দীপ্তি শর্মা (Deepti Sharma)।
অন্যদিকে, চূড়ান্ত যুদ্ধ হারলেও দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) অধিনায়ক লরা উলভার্ট (Laura Wolvaardt) পেয়েছেন সেরা একাদশের নেতৃত্বের দায়িত্ব। ব্যাট হাতে টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি রান—মোট ৫৭১, গড়ে ৭১.৩৭। সেমিফাইনাল ও ফাইনালে পরপর দু’খানা শতরান। ওপেনিংয়ে তাঁর সঙ্গী স্মৃতি মান্ধানা, যিনি বিশ্বকাপে ৪৩৪ রান করেছেন ৫৪.২৫ গড়ে। তিন নম্বরে জেমাইমা আর অলরাউন্ডার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন দীপ্তি। যিনি ব্যাটে ২১৫ রান ও বলে সর্বাধিক ২২ উইকেট নিয়েছেন।
যদিও অনেকেই বিস্মিত হরমনপ্রীত কৌরের বাদ পড়ায়। টুর্নামেন্টে ২৬০ রান, পাশাপাশি মাঠে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় দল পরিচালনাও করেছেন। এতকিছুর পরেও নির্বাচক প্যানেল—ইয়ান বিশপ (Ian Bishop), মেল জোনস (Mel Jones), ঈশা গুহ (Isa Guha), গৌরব সাক্সেনা (ICC General Manager) এবং সাংবাদিক এস্টেল বাসুদেবন (Estelle Vasudevan) শেষ পর্যন্ত তাঁকে রাখেননি।
সেরা দলে ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে তিনজন করে খেলোয়াড় রয়েছেন। প্রোটিয়াদের তফে উলভার্টের পাশপাশি জায়গা পেয়েছেন মারিজান কাপ (Marizanne Kapp) ও নাদিন ডি ক্লার্ক (Nadine de Klerk)। অস্ট্রেলিয়া থেকে অ্যাশলি গার্ডনার (Ashleigh Gardner), আনাবেল সাদারল্যান্ড (Annabel Sutherland) ও আলানা কিং (Alana King)। পাকিস্তানের একমাত্র প্রতিনিধি উইকেটকিপার সিদরা নওয়াজ (Sidra Nawaz), যিনি তিনটি ক্যাচ ও চারটি স্টাম্পিং করেছেন। রিজার্ভ বা ১২তম খেলোয়াড় হিসেবে রাখা হয়েছে ইংল্যান্ডের সোফি এক্লেস্টনকে (Sophie Ecclestone)।
বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের তিনজন তারকা জায়গা পেলেও অধিনায়কের বাদ পড়া নিঃসন্দেহে চমক। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তৈরি একাদশ। ট্রফি জেতার কৃতিত্ব নয়, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সই ছিল মূল মানদণ্ড। তাই খেতাব হাতে তুলেও হরমনের কপাল পুড়েছে।