এই মন্তব্য নতুন নয়। ক্রিকেটদুনিয়ায় অনেকেই ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন, ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচি আর একের পর এক টুর্নামেন্ট কি দর্শকের আগ্রহ ধীরে ধীরে ক্ষয় করছে না?

আর অশ্বিন
শেষ আপডেট: 2 January 2026 14:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিলেন ভারতের প্রাক্তন স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন (Ravichandran Ashwin)। তাঁর স্পষ্ট দাবি—এই বিশ্বকাপ দেখার আগ্রহই তৈরি হবে না দর্শকদের মধ্যে। কারণ হিসেবে তিনি সামনে টেনেছেন দু’টি মূল সমস্যা: আইসিসি (International Cricket Council) টুর্নামেন্টের অতিরিক্ত ভিড় এবং দলগুলোর মানের ফারাক।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে কথা বলতে গিয়ে কোনও আবছা কূটনৈতিক ভাষা ব্যবহার করেননি অশ্বিন। বরং একেবারে সরাসরি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের শুরুতেই যদি একতরফা ম্যাচে ভরে যায় সূচি, তাহলে দর্শক মুখ ফেরাবেই ফেরাবে।
অতিরিক্ত বিশ্বকাপ, আগ্রহের ঘাটতি
অশ্বিনের প্রথম অভিযোগ আইসিসি-র টুর্নামেন্ট ক্যালেন্ডার নিয়ে। তাঁর মতে, আগে বিশ্বকাপ মানেই ছিল চার বছর পরপর একবার। সেই বিরতির মধ্যেই তৈরি হত উত্তেজনা, প্রত্যাশা। অশ্বিন বলেন, ‘এক সময় বিশ্বকাপ মানে ছিল বিশেষ কিছু। চার বছর ধরে অপেক্ষা। এখন প্রায় প্রতি বছরই কোনও না কোনও আইসিসি টুর্নামেন্ট। এতে আলাদা করে উত্তেজনা দানা বাঁধে না।’
পরিসংখ্যান মতে, ২০১০ সালের পর থেকে ২০১৮ বাদে প্রায় প্রতি বছরই কোনও না কোনও বড় আইসিসি টুর্নামেন্ট হয়েছে। ২০২১ ও ২০২২ সালে টি-২০ বিশ্বকাপ, ২০২৩-এ ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০২৪-এ ফের টি-২০ বিশ্বকাপ, ২০২৫-এ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (Champions Trophy)—আর তার পরই আবার ২০২৬-এ টি-২০ বিশ্বকাপ। অশ্বিনের যুক্তি, এত ঘন ঘন বিশ্বকাপ হলে ‘বিশেষত্ব’-টাই যায় হারিয়ে।
একতরফা ম্যাচে ভরে যাচ্ছে প্রথম পর্ব
অশ্বিনের দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে বড় আপত্তি ম্যাচের মান নিয়ে। তাঁর মতে, বিশ্বকাপের প্রথম দিকেই যদি ভারত বনাম নামিবিয়া (Namibia) বা ভারত বনাম যুক্তরাষ্ট্রর (USA) মতো ম্যাচ থাকে, তাহলে সাধারণ দর্শক আগ্রহ হারাবে। টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন স্পিনারের কথায়, ‘ভারত বনাম নামিবিয়া বা ভারত বনাম ইউএসএ—এই ধরনের ম্যাচ বিশ্বকাপের আনন্দটাই নষ্ট করে দেয়। এগুলো এমন লড়াই, যেগুলো আপনাকে বিশ্বকাপ দেখা থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।’
পাশাপাশি অশ্বিন মনে করিয়ে দিয়েছেন, আগে বিশ্বকাপের শুরুতেই ভারত খেলত ইংল্যান্ড (England) বা শ্রীলঙ্কার (Sri Lanka) মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে। ফলে প্রথম ম্যাচ থেকেই টান থাকত। এখন দল বাড়ানোর ফলে মানের ফারাক আরও প্রকট হচ্ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রতিযোগিতার আকর্ষণে।
আইসিসির সামনে কঠিন প্রশ্ন
২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে ২০টি দল খেলবে। আয়োজক ভারত (India) ও শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka)। ফেব্রুয়ারি ৭ থেকে শুরু হবে প্রতিযোগিতা। ভারত নামবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। উদ্বোধনী ম্যাচেই খেলবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।
অশ্বিন মানছেন, ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন আছে। কিন্তু প্রশ্ন—তা কি বিশ্বকাপের মান বিসর্জন দিয়ে? প্রতিযোগিতার গুণগত মান ঠিক না থাকলে দর্শক ক্লান্তি আসবেই।
এই মন্তব্য নতুন নয়। ক্রিকেটদুনিয়ায় অনেকেই ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন, ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচি আর একের পর এক টুর্নামেন্ট কি দর্শকের আগ্রহ ধীরে ধীরে ক্ষয় করছে না? ২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ সেই প্রশ্নেরই বড় পরীক্ষা। অশ্বিন কার্যত আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে রাখলেন—বিশ্বকাপ যদি শুধু সংখ্যার খেলায় পরিণত হয়, তাহলে দর্শক মুখ ফিরিয়ে নিতে এক মুহূর্তও দেরি করবে না।