আত্মবিশ্বাস, সংযম—সবটাই যেন তরুণ বয়সের ব্রায়ান লারার প্রতিফলন। আর তাই হয়তো দেখা হতেই কিংবদন্তির মুখে এমন মজাদার, দিলখোলা আবদার!

যশস্বী ও লারা
শেষ আপডেট: 12 October 2025 15:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের (Arun Jaitley Stadium) গরমে একদিকে যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের (West Indies) বোলাররা হাঁফিয়ে উঠেছেন, তখন ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছেন যশস্বী জয়সওয়াল (Yashasvi Jaiswal)। ১৭৫ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস—মেপে খেলা শট, নিখুঁত টেম্পারামেন্ট, ঠান্ডা মাথার আগ্রাসন। ক্যারিবীয় বোলিং লাইনআপ কার্যত ছিন্নভিন্ন!
এই দৃশ্য দেখে মাঠের বাইরে বসে হেসেই ফেললেন ব্রায়ান লারা (Brian Lara)। খেলা শেষ হতেই কিংবদন্তি ব্যাটার ঢুকে পড়লেন ভারতীয় ড্রেসিংরুমে। আর যশস্বীর মুখোমুখি হয়েই বলে বসলেন এমন এক কথা, যা মুহূর্তে ভাইরাল—‘আমাদের বোলারদের এতটা মেরো না ভাই!’ (Don’t beat our bowlers that bad!)
ক্রিকেটের যুবরাজের মুখে এহেন কাতর আর্জি শোনামাত্র হাসিতে ফেটে পড়েছিল পুরো লকার রুম। লারার মুখেও ঠাট্টা, কিন্তু চোখে প্রশংসার ঝলক। এক প্রজন্মের মহান ব্যাটার এভাবেই পরের প্রজন্মের প্রতিভাকে নিজের হাতে আশীর্বাদ দিয়ে গেলেন যেন!
বিসিসিআই (BCCI) পোস্ট করেছে ছোট্ট ভিডিও। যেখানে দেখা যাচ্ছে, যশস্বী হাসিমুখে প্রণাম করে লারাকে অভিবাদন জানাচ্ছেন, তারপর আলতো আলিঙ্গনে মিলিয়ে যাচ্ছে দুই জমানার ক্রিকেট। একদিকে নয়ের দশকের বিস্ময়-প্রতিভা, অন্যদিকে ভারতের নতুন ব্যাটিং সেনসেশন—ছবিটা যেন আলাদা সময়ের সেতুবন্ধন।
জয়সওয়ালের ইনিংসের গল্পই আলাদা। প্রথম দিন থেকে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। ক্যারিবিয়ান বোলারদের সামলাতে গিয়ে না হারিয়েছেন ধৈর্য, না খুইয়েছেন তেজ। ২২টি বাউন্ডারিতে সাজানো ইনিংস যেন ‘ক্লাসিক টেস্ট ব্যাটিং’য়ের নিবিড় পাঠ! শেষ পর্যন্ত এক বিভ্রান্তিকর রান আউটে ১৭৫ রানে থেমে গেলেন ঠিকই। কিন্তু ম্যাচের রাশ তখন অনেকটাই ভারতের হাতে।
দ্বিতীয় দিনে শুভমান গিল (Shubman Gill) অপরাজিত ১২৯ রানে ইনিংস ঘোষণা করেন (৫১৮/৫)। এরপর বল হাতে কুলদীপ যাদবের (Kuldeep Yadav) জ্বলে ওঠা। তুলে নেন পাঁচ উইকেট। পাশে রবীন্দ্র জাদেজা (Ravindra Jadeja)। ২৪৮ রানে অলআউট ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ফলো-অন চাপিয়ে দিয়েছে ভারত।
দিনের শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে যশস্বী বললেন, ‘আমি সবসময় ভাবি দলের জন্য কী করতে পারি। পরিস্থিতি বুঝে খেলি, উইকেট কেমন, দল কী চায়—এই ভাবনাই আমায় গাইড করে। সুযোগ পেলে ইনিংস যতদূর সম্ভব টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।’এমন আত্মবিশ্বাস, সংযম—সবটাই যেন তরুণ বয়সের ব্রায়ান লারার প্রতিফলন। আর তাই হয়তো দেখা হতেই কিংবদন্তির মুখে এমন মজাদার, দিলখোলা আবদার!