আইপিএলে ১২২ বল করেও উইকেটহীন জসপ্রীত বুমরাহ! বিশ্বসেরা বোলারের এই ফর্মের পেছনে কি হার্দিক পাণ্ডিয়ার ভুল রণকৌশল দায়ী? মুম্বই ইন্ডিয়ান্স শিবিরের অন্দরমহলের খবর ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ।

জসপ্রীত বুমরাহ
শেষ আপডেট: 13 April 2026 14:02
IPL 2026: ১২২ বল, উইকেট ০! বুমরাহর ব্যর্থতার জন্য কি হার্দিকের রণকৌশল দায়ী?
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরসিবির বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষে মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়লেন জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah)। রাগে মাটিতে লাথি মারলেন। কারণ যথেষ্ট গুরুতর—চার ম্যাচে ১২২ বল করেছেন, ঝুলিতে একটিও উইকেট নেই। আইপিএল কেরিয়ারে এটাই দীর্ঘতম উইকেটের খরা। ফর্মের খোঁজে বুমরাহ। ছন্দহীন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (Mumbai Indians)। হার্দিক-রোহিতরা আপাতত পয়েন্ট টেবিলের আটে—নেট রানরেট মাইনাস ০.৭৭২।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে টি-২০ বিশ্বকাপে দেশের জার্সিতে দারুণ বল করা বুমরাহকে মুম্বইয়ের তুরুপের তাস বলে মনে করা হচ্ছিল। অথচ আইপিএলের শুরুতেই ছন্নছাড়া দলের তারকা পেসার। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক—দুনিয়ার অন্যতম সেরা বোলারের হঠাৎ করে হয়েছেটা কী?
শুরুর চার ম্যাচে বুমরাহর ওভারগুলো দেখলে একটা প্যাটার্ন চোখে পড়ে:
কেকেআরের বিরুদ্ধে: ৫, ১২, ১৮, ২০ নম্বর ওভার।
দিল্লির বিরুদ্ধে: ২, ৬, ১৩, ১৬।
রাজস্থানের বিরুদ্ধে: ২, ৭, ১০।
আরসিবির বিরুদ্ধে: ৪, ৬, ১৭, ১৯।
অর্থাৎ, ধারাবাহিকতা নেই। একটা ওভার পাওয়ারপ্লে-তে, একটা মিডল ওভারে, একটা ডেথে—এভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। টানা দুটো ওভার একসঙ্গে পাচ্ছেন না বুমরাহ। বিশেষজ্ঞের মতে, সমস্যাটা শিকড় এখানেই। বুমরাহকে ব্যবহার করা হচ্ছে রান আটকানোর জন্য। বার্তা একটাই: ‘ইয়র্কার, ভেরিয়েশন দিয়ে স্কোরিং কমাও। তোমায় উইকেট নিতে হবে না।’ এই নির্দেশই বিপক্ষ শিবিরের ব্যাটাররা পড়ে ফেলেছেন। প্রায় সবাই বুমরাহর ওভারে ঝুঁকি না নিয়ে নিশানা করছেন পরের বোলারকে। অতিসাম্প্রতিক নমুনা: আরসিবি-ম্যাচ। টিম ডেভিড (Tim David) বুমরাহকে চার ও ছয় মারলেন। দিল্লির বিরুদ্ধে ডেভিড মিলার (David Miller) শেষ ওভারে দুটো বাউন্ডারি হাঁকালেন। শুধু রাজস্থানের বিরুদ্ধে বৈভব সূর্যবংশী প্রথম ওভারেই দুটো ছয় মেরে ছন্দ ভেঙেছিলেন।
মুম্বইয়ের বোলিং কোচ লাসিথ মালিঙ্গা (Lasith Malinga) বিষয়টা অহেতুক গুরুত্ব দিতে নারাজ। সহজ সুরেই জানালেন, বেশি উইকেট-নেওয়া বল করতে গেলে উল্টো ফল হয়। ব্যাটার লাইন আপ করে ফেলেন। মালিঙ্গার পরামর্শ—প্রতি ওভারে সর্বোচ্চ এক-দুটো ‘উইকেট-বল’ দাও। স্লো বাউন্সার, নাকল বল—এগুলো স্পেশাল। বেশি দিলেই বিপদ। বাকিটা স্টক ডেলিভারিতে চালাও।
রবিচন্দ্রন অশ্বিন (Ravichandran Ashwin) অবশ্য অন্য কথা বললেন। তাঁর মতে, বুমরাহ উইকেট না পেলেও রান আটকে রাখাটা সমান মূল্যবান। ওয়াংখেড়ের মতো ব্যাটিং উইকেটে রান কমানোই বড় দায়িত্ব।
পাশাপাশি একটা বড় প্রশ্নও সামনে টানলেন অশ্বিন। সেটা হার্দিক পাণ্ডিয়ার (Hardik Pandya) কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে। আরসিবির বিরুদ্ধে রজত পাটিদারের মতো স্পিন-হিটারের বিরুদ্ধে মায়াঙ্ক মার্কন্ডেকে (Mayank Markande) আনার সিদ্ধান্ত ছিল বিতর্কিত। সেই ওভারেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে মুম্বই। মোট স্কোর ২১০ থেকে ২৪০-এ গিয়ে পৌঁছয়।
প্রত্যাশিতভাবে, টি-২০ বিশ্বকাপে সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) কীভাবে বুমরাহকে ব্যবহার করতেন—উঠে আসছে সেই প্রসঙ্গও। টিম ইন্ডিয়ার দলনেতা পরিষ্কার পরিকল্পনা নিয়েছেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী পাওয়ারপ্লে-তে দুটো ওভার। মাঝে একটা, ডেথে একটা। কিন্তু হার্দিকের সিদ্ধান্তে সেই স্পষ্টতা নেই। যার চরম মূল্য চোকাচ্ছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। চার ম্যাচে মাত্র একটি জয়। বুমরাহর ব্যর্থতার ধারা কবে ভাঙবে, ফর্মে ফিরবেন রোহিতরা… দুটো প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা।