এই প্রেক্ষিতে আফ্রিদির প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ক্রিকেট এমন একটা মাধ্যম, যা রাজনীতি যেখানে দরজা বন্ধ করে দেয়, সেখানে জানলা খুলতে পারে। তাই ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত ‘দুঃখজনক’।

শাহিদ আফ্রিদি
শেষ আপডেট: 2 February 2026 15:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার সিদ্ধান্তে পাকিস্তান সরকার সবুজ সঙ্কেত দেওয়ার পরেই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য প্রাক্তন অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদির (Shahid Afridi)। স্পষ্ট ভাষায় জানালেন—এই সিদ্ধান্ত ‘দুঃখজনক’। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি সরকারের পাশে দাঁড়াবেন। আফ্রিদির বার্তা পরিষ্কার: খেলাধুলো রাজনীতির বাইরে থাকা ভালো। যদিও এই মুহূর্তে বল আইসিসি-র (ICC) কোর্টে।
আফ্রিদির অবস্থান: আফসোস আছে, আপত্তি নেই
ভারত-পাকিস্তানের (India vs Pakistan) নির্ধারিত ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলম্বোয়, ১৫ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু ইসলামাবাদ সরাসরি জানিয়ে দেয়—এই খেলায় নামবে না দল। প্রতিবাদ আইসিসি-র বিরুদ্ধে। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে টুর্নামেন্ট সংক্রান্ত একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে বাংলাদেশের (Bangladesh) বাদ পড়া ঘিরে অসন্তোষ।
এই প্রেক্ষিতে আফ্রিদির প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ক্রিকেট এমন একটা মাধ্যম, যা রাজনীতি যেখানে দরজা বন্ধ করে দেয়, সেখানে জানলা খুলতে পারে। তাই ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত ‘দুঃখজনক’। কিন্তু একই সঙ্গে যোগ করেন—তিনি সরকারের সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়াবেন। আফ্রিদির মতে, এই মুহূর্তে আইসিসি-র একমাত্র কর্তব্য: কথা নয়, কাজের মাধ্যমে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করা।
আইসিসি-র দিকে আঙুল, রাজনীতির ছায়া ক্রিকেটে
প্রাক্তন পাক অধিনায়কের বক্তব্যে স্পষ্ট সুর—এই সংকটের সমাধান আইসিসি-কেই করতে হবে। তাঁর দাবি, ক্রিকেট কাউন্সিল যদি সত্যিই স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থা হয়ে থাকে, তাহলে সব সদস্য দেশের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড প্রয়োগ করতে হবে। শুধু বিবৃতি দিয়ে নয়, সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেটা করে দেখানো জরুরি।
এখানেই বিতর্ক। কারণ ক্রিকেটে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে আফ্রিদি আগেও একাধিকবার সরব হয়েছেন। খেলাকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখার পক্ষে বরাবরই সওয়াল করেছেন। ফলে এবার সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা অনেকের কাছেই দ্বিচারিতা বলে মনে হচ্ছে।
আগের অবস্থানের সঙ্গে আজকের পরিস্থিতি
এই বিতর্ক তীব্র হয়েছে আফ্রিদির সাম্প্রতিক অতীতের মন্তব্যের সূত্রে। ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অফ লেজেন্ডসে (World Championship of Legends) ভারতীয় দল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেলায় তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন। তখন প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার শিখর ধাওয়ানকে (Shikhar Dhawan) কটাক্ষ করে জানান—একটা ‘খারাপ ডিম’গোটা ঝুড়ি নষ্ট করে দিতে পারে। তাঁর বক্তব্য ছিল, রাজনীতি খেলায় ঢুকলে এগোনো সম্ভব নয়। সেই আফ্রিদির চোখেই এখন সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়ানো ছাড়া উপায় নেই। যে কারণে প্রশ্ন উঠছে—নীতি আর বাস্তবতার ফারাক কতটা? আফ্রিদি নিজেও কি সেই বাস্তবের চাপে অবস্থান বদলাচ্ছেন?
সব মিলিয়ে ছবিটা জটিল। একদিকে ক্রিকেটকে সেতু হিসেবে দেখার কথা, অন্যদিকে সেই সেতুতেই রাজনীতির তালা। আফ্রিদির মন্তব্য এই দ্বন্দ্বকে সামনে আনছে। টি-২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হওয়া শুধু ক্রিকেটীয় ক্ষতি নয়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়ার রাজনীতির আরেকটা জ্বলন্ত উদাহরণ।