বিসিবি অবশ্য দাবি করেছে, আইসিসি নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। কিন্তু ম্যাচ ভেন্যু বদলানো হবে কি না, সেই প্রশ্ন এখনও ঝুলে।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 9 January 2026 12:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি-২০ বিশ্বকাপ ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত। ভারত সফর নিয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ জানিয়ে ফের আইসিসির (ICC) কাছে চিঠি পাঠাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (Bangladesh Cricket Board)। বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, দ্বিতীয়বারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে পত্রযোগে আইসিসিকে টুর্নামেন্টের ভেন্যু ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর দাবি গুছিয়ে লিখেছে করেছে বিসিবি।
বিশ্বকাপ শুরু ৭ ফেব্রুয়ারি। সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ—তিনটি কলকাতায় (Kolkata), একটি মুম্বইয়ে (Mumbai)। কিন্তু ভারত সফরে যেতে আপত্তি বাংলাদেশের। পেছনে রয়েছে পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের (Mustafizur Rahman) আইপিএল চুক্তি বাতিলের ঘটনা। বিসিসিআই (BCCI) সেই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ‘চারপাশের অশান্ত পরিস্থিতি’ বলে কারণ দর্শিয়েছে।
দ্বিতীয় চিঠিতে কী জানাল বিসিবি
সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI) সূত্রে খবর, বাংলাদেশ ক্রীড়া মন্ত্রকের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের (Asif Nazrul) সঙ্গে আলোচনার পর এই দ্বিতীয় চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিসিবির এক কর্তার বক্তব্য, আইসিসি নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট উদ্বেগ জানতে চাওয়ায় এবার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে চিঠিতে ঠিক কোন কোন বিষয় লেখা, তা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
আইসিসির এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া নেই। তবে তারা বাংলাদেশের উত্থাপিত নিরাপত্তা-আশঙ্কার প্রকৃতি ও বাস্তবতা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইছে বলেই খবর। কলকাতা ও মুম্বইয়ের ম্যাচ শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় (Colombo) সরানোর বিষয়ে আইসিসি এখনও কোনও ইঙ্গিতও দেয়নি।
বিসিবির ভিতরেই বিভাজন
এই ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অন্দরেই মতভেদ স্পষ্ট। একাংশ আসিফ নজরুলের কড়া অবস্থানের পক্ষে। অন্য অংশ চাইছে, আইসিসি ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার রাস্তা খোলা রাখতে। তাদের দাবি—বাংলাদেশ দলের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেই ভারত সফর সম্ভব। নজরুলের অবস্থানকে অনেকেই বিসিবির দীর্ঘদিনের ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কের থেকে আলাদা ও বেশি কঠোর বলে দেখছেন। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনার পরই মুস্তাফিজুরের আইপিএল ছাড়পত্র প্রত্যাহার করা হয়।
বিসিবি অবশ্য দাবি করেছে, আইসিসি নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। কিন্তু ম্যাচ ভেন্যু বদলানো হবে কি না, সেই প্রশ্ন এখনও ঝুলে।