ধনতেরসের আগে রূপার দামে দেখা যাচ্ছে চরম ওঠানামা। বিনিয়োগকারী থেকে সাধারণ ক্রেতা—সবার নজর এখন বাজারের গতিপথে।
_0.jpeg.webp)
ছবি (AI)
শেষ আপডেট: 18 October 2025 14:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধনতেরস আসন্ন, আর তার ঠিক আগে ভারতীয় বাজারে রূপার দামে দেখা যাচ্ছে প্রবল অস্থিরতা। উৎসবের মরসুমে যেমন গয়না ও বিনিয়োগের জন্য রূপার চাহিদা বাড়ে, তেমনই আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামাও দেশীয় বাজারে ফেলছে গভীর প্রভাব। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন বাজারের প্রতিটি গতিবিধিতে, কারণ সামনেই সোনা ও রূপা কেনার অন্যতম শুভদিন। হঠাৎ দামের এই পরিবর্তন সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও তৈরি করেছে উদ্বেগ, সবাই তাকিয়ে বাজারের পরবর্তী দিকনির্দেশের দিকে।
ধনতেরসের আগে রূপার দামের বর্তমান অবস্থা
উৎসবের মরসুমে, বিশেষ করে ধনতেরসের আগে সোনা ও রূপার বাজারে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক অস্থিরতা। গত কয়েকদিন ধরে রূপার দামে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ক্রেতা উভয়কেই ভাবিয়ে তুলছে। সম্প্রতি প্রতি কিলোগ্রাম রূপার দাম প্রায় ৮,০০০ টাকা কমেছে, যা বাজারের হঠাৎ পতনের ইঙ্গিত দেয়। যদিও এর আগে রূপার দাম টানা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। অন্যদিকে, MCX (Multi Commodity Exchange)-এ ডিসেম্বর ফিউচার কন্ট্রাক্টে রূপার দাম ১,৭০০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৩,৯০০ টাকায়।কলকাতার খুচরো বাজারে ১৭ অক্টোবর ২০২৫-এ প্রতি কিলোগ্রাম রূপার দাম ছিল ১,৭৫,৬৫০ টাকা। এই বছরের ধনতেরাসে রূপার দাম গত এক বছরে প্রায় ৯৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সোনার দামের বৃদ্ধির হারকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই রেকর্ড বৃদ্ধি সোনার তুলনায় রূপাকে এখন আলোচনার কেন্দ্রে এনে ফেলেছে।
ভারতে রূপার চাহিদা ও যোগানের সঙ্কট
ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় রূপা-ভোক্তা দেশ, যেখানে মোট চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি করে মেটানো হয়। ধনতেরাস ও দীপাবলির মতো উৎসবের সময়ে এই চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তবে ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে রূপার আমদানি ৪২ শতাংশ কমেছে বলে রিপোর্টে জানা গেছে। শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগের চাপের কারণে রূপার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মুম্বাইয়ের বিখ্যাত জাভেরি বাজার ইতিমধ্যে নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, যা এই সঙ্কটের তীব্রতা বোঝাচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের মনোভাব ও কৌশল
গত এক বছরে রূপার দাম প্রায় ৯৮ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখন এটিকে সোনার থেকেও বেশি লাভজনক হিসেবে দেখছেন। মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের কাছেও রূপা এখন শুধুই অলঙ্কার নয়, এক নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ মাধ্যম। চড়া রিটার্নের আশায় অনেকে রূপা কিনছেন এমনকি ধার নিয়েও। অতীতে সোনার দাম বাড়লে ক্রেতারা অপেক্ষা করতেন তার পতনের জন্য, কিন্তু এখন অনেকেই মনে করেন দাম আরও বাড়বে, তাই দেরি না করে কিনে নিচ্ছেন।
ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস ও বিশেষজ্ঞদের মতামত
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ধনতেরাস ও দীপাবলির পরে উৎসবের কেনাকাটা কমে গেলে রূপার দামে কিছুটা পতন হতে পারে — প্রায় ১০-২০ শতাংশ পর্যন্ত। ডলার শক্তিশালী হলে বা বিনিয়োগকারীরা লাভ তুলে নিলে দাম আরও নেমে আসতে পারে।
গ্রাহকদের জন্য কিছু পরামর্শ
ধনতেরাসে সোনা ও রূপা কেনা শুভ বলে মনে করা হয়, যা সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে কিছু বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি —
বাজারদর যাচাই করে তবেই কেনাকাটা করুন। হঠাৎ দামের পরিবর্তনে আতঙ্কিত না হয়ে বিশ্লেষণ করুন। অতিরিক্ত ধার নিয়ে বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকুন। দীর্ঘমেয়াদে রূপাকে স্থিতিশীল সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করুন। ভারতীয় সংস্কৃতিতে ধনতেরাসে রূপা কেনা শুভ হলেও, বর্তমান অস্থির বাজারে সচেতন ও সুচিন্তিত সিদ্ধান্তই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।