বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে ইউপিআই-এর গতি কিছুটা কমলেও নিরাপত্তার খাতিরে এটি জরুরি। বড় জালিয়াতি রুখতেই এই নির্দিষ্ট পদক্ষেপ।

কী বলছে ইউপিআই-এর নতুন নিয়ম?
শেষ আপডেট: 10 April 2026 17:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইউপিআই (UPI) আসার পর থেকে স্ক্যানারের এক ক্লিকেই চোখের নিমেষে টাকা এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার এখন অনেক সোজা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই দ্রুতগতিই এখন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য। সাইবার অপরাধীদের ফাঁদে পড়ে মুহূর্তের ভুলে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ (how to stop UPI fraud RBI)। এই জালিয়াতি রুখতেই এবার ইউপিআই-তে ১ ঘণ্টার ‘পজ’ বা স্থগিতাদেশ আনার প্রস্তাব দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI UPI 1 hour transaction delay proposal)।
কী এই ১ ঘণ্টার প্রস্তাব?
আরবিআই-এর নয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, যদি আপনি কাউকে ১০ হাজার টাকার বেশি পাঠাতে চান (UPI payment above 10000 new rule), তবে সেই টাকা সঙ্গে সঙ্গে প্রাপকের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে না। আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে ঠিকই, কিন্তু ব্যাঙ্ক সেই টাকা ১ ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে রাখবে (golden hour in digital payments)। এই সময়ের মধ্যে যদি আপনার মনে হয় যে আপনি ভুল করে বা কোনও প্রতারকের ফাঁদে পড়ে টাকা পাঠিয়েছেন, তবে সেই লেনদেন বাতিল (Cancel) করার সুযোগ পাবেন আপনি।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ?
ব্যাঙ্কগুলোর মতে, বর্তমানে হ্যাকাররা সিস্টেম ভেঙে নয়, বরং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে (Social Engineering) টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। একে বলা হয় 'অথোরাইজড পুশ পেমেন্ট' (APP) ফ্রড। কোনও সরকারি আধিকারিক বা পরিচিত সেজে ফোন করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে তড়িঘড়ি টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয়। ইউপিআই-তে টাকা সেকেন্ডের মধ্যে চলে যায় বলে তা আর ফেরানো সম্ভব হয় না। আরবিআই এই ১ ঘণ্টার সময়সীমাকে বলছে ‘গোল্ডেন আওয়ার’, যেখানে প্রতারিত ব্যক্তি মাথা ঠান্ডা করে সিদ্ধান্ত বদলানোর সুযোগ পাবেন।
কারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, কারা নন?
ঘাবড়ানোর কিছু নেই, আপনার দৈনন্দিন কেনাকাটায় এর কোনও প্রভাব পড়বে না।
প্রভাব পড়বে না: দোকানে কিউআর কোড (QR Code) স্ক্যান করে পেমেন্ট করলে, অনলাইন শপিং বা ইলেকট্রিক বিলের মতো মার্চেন্ট পেমেন্টের ক্ষেত্রে লেনদেন আগের মতোই দ্রুত হবে।
প্রভাব পড়বে: মূলত বড় অঙ্কের (১০ হাজার টাকার বেশি) ব্যক্তিগত লেনদেন বা পি-টু-পি (P2P) ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে এই ১ ঘণ্টার নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে প্রথমবার কাউকে টাকা পাঠালে এই ফিল্টার কাজ করবে।
১০ হাজার টাকার অঙ্কই কেন?
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পরিসংখ্যান বলছে, দেশে যত ডিজিটাল জালিয়াতি হয়, তার অর্ধেকের কম ঘটনা ১০ হাজার টাকার ওপরের। কিন্তু আর্থিক ক্ষতির হিসেবে ধরলে দেখা যায়, মোট খোয়া যাওয়া টাকার ৯৮.৫ শতাংশই ১০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের লেনদেনের ক্ষেত্রে ঘটে। তাই বড় জালিয়াতি রুখতেই এই নির্দিষ্ট অঙ্ক বেছে নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মত ও বিকল্প পথ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে ইউপিআই-এর গতি কিছুটা কমলেও নিরাপত্তার খাতিরে এটি জরুরি। তবে জরুরি প্রয়োজনে টাকা পাঠানোর জন্য কিছু বিকল্প পথও ভাবা হচ্ছে। যেমন, আগে থেকে ১ টাকা পাঠিয়ে ওই ইউপিআই আইডি-কে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ (Whitelist) করে রাখা। এছাড়া অফলাইন কিউআর স্ক্যান বা আইএমপিএস (IMPS) পরিষেবাকে বিকল্প হিসেবে রাখা যেতে পারে।
আরবিআই আপাতত এই নিয়ে একটি আলোচনার খসড়া প্রকাশ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট মহলের মতামত চেয়েছে। সব ঠিক থাকলে খুব শীঘ্রই আপনার ইউপিআই অ্যাপে একটি ‘টাইমার’ দেখা যেতে পারে, যা আপনাকে মনে করিয়ে দেবে, টাকা পাঠানোর পর ১ ঘণ্টা সময় আপনার হাতেই আছে! ডিজিটাল ইন্ডিয়ার পথে এটি পিছিয়ে যাওয়া নয়, বরং আরও সুরক্ষিত হয়ে এগিয়ে যাওয়ার ধাপ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।