ইমামি অ্যাগ্রোটেক (Emami) লঞ্চ করল ‘হেলদি অ্যান্ড টেসটি’ ফ্রেশ চাক্কি আটা, ময়দা ও সুজি। আগামী ৫ বছরে ফুড ব্যবসায় ২,০০০ কোটির লক্ষ্য।

রান্নাঘরের দখল নেবে ইমামি!
শেষ আপডেট: 21 August 2025 19:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন ভোজ্যতেল, মশলা আর সয়া চাঙ্কসের বাজারে নিজেদের দাপট দেখিয়েছে তারা। এবার একেবারে নতুন ক্ষেত্রে প্রবেশ করল দেশের অন্যতম নামী সংস্থা ইমামি অ্যাগ্রোটেক। হাজির হল দানাশস্যের বিক্রয়বাজারে, যার পোশাকি নাম ব্র্যান্ডেড স্টেপলস মার্কেট। এই বাজারের আয়তন প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা!
ইমামির এই বড়সড় পদক্ষেপের প্রথম ধাপে বাজারে আনা হল ‘ইমামি হেলদি অ্যান্ড টেসটি’ ফ্রেশ চাক্কি আটা, ময়দা আর সুজি। কোম্পানির লক্ষ্য, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে শুধু খাবারের ব্যবসা থেকেই দু’হাজার কোটি টাকার বিক্রি ছুঁয়ে ফেলা।
ভারতের খাদ্য বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে বড় পরিবর্তন এসেছে। ক্রেতারা আগের মতো খোলা আটা বা ময়দার বদলে প্যাকেটজাত ব্র্যান্ডেড পণ্যের উপর বেশি ভরসা করছেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ভাল প্যাকেজিং আর ব্র্যান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতাই তাঁদের প্রথম পছন্দ। ইমামি অ্যাগ্রোটেক সেই পরিবর্তনের সুযোগ নিয়েই এবার নতুন যাত্রা শুরু করল।
তাদের এই নতুন আটা, ময়দা আর সুজির বৈশিষ্ট্যও আলাদা। ইমামির চাক্কি আটা তৈরি হচ্ছে উন্নত মানের গম দিয়ে, এতে কোনও কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ বা ময়দার মিশ্রণ নেই বলেই জানানো হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী চাক্কি পদ্ধতিতে গুঁড়ো হওয়ায় রুটি হয় নরম ও ফোলাফোলা, সঙ্গে বজায় থাকে প্রোটিন, ফাইবার আর বি-ভিটামিনের গুণ। ময়দা একেবারে সাদা আর মোলায়েম, যা লুচি, বা পরোটা তৈরির জন্য উপযুক্ত। অন্যদিকে সুজিও তাজা ও পুষ্টিকর, যা দিয়ে বানানো যায় হালুয়া, উপমা, লাড্ডু বা অন্য যে কোনও পদ।
ইমামি গ্রুপের ডিরেক্টর বিভাস আগরওয়াল বলেন, এটা নিছক বাজারে প্রবেশ নয়, বলা যেতে পারে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই একটা পদক্ষেপ। তাঁর কথায়, আমরা চাই প্রতিটি পরিবারের প্রতিদিনের খাবারে গুণমান বজায় থাকুক। অর্থাৎ তার উপর আস্থা থাকুক। আর সেই খাবারের দাম যেন সাশ্রয়কর হয়। কারণ, খাবার কেবল পেট ভরার ব্যাপার নয়, এটা একটা আবেগ। তাই আমরা রান্নাঘরের তাক থেকে শুরু করে পরিবারের ডাইনিং টেবিল পর্যন্ত পৌঁছতে চাই।
২০১০ সালে শুরু হওয়া ইমামি হেলদি অ্যান্ড টেসটি প্রথমে শুধু ভোজ্যতেলের বাজারে নাম করেছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে মশলা ‘মন্ত্রা’ আর সয়া চাঙ্কস ‘অ্যাডভান্স’-এর মতো পণ্য নিয়ে তারা রান্নাঘরের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে সংস্থার টার্নওভার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ, রাজস্থান আর গুজরাতে রয়েছে অত্যাধুনিক উৎপাদন কেন্দ্র, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার টন উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে।
ইমামি গ্রুপ অন্যান্য ব্যবসায় আগেই পারদর্শিতা প্রমাণ করছে। এফএমসিজি পণ্য যেমন— ঝন্ডু, বোরোপ্লাস, নবরত্ন তেল, কেশ কিং বা ডার্মিকুল, পাশাপাশি কাগজ, রিয়েল এস্টেট, খুচরো দোকান, কলাকেন্দ্র, এমনকি ইস্ট বেঙ্গল ফুটবল ক্লাবেও তাদের অবদান রয়েছে। এবার তাদের লক্ষ্য আরও স্পষ্ট। সেই যাত্রার প্রথম পদক্ষেপ হল লাল ঝকঝকে প্যাকেটে সিল করা ফ্রেশ চাক্কি আটা, ময়দা আর সুজি।