দুর্ঘটনা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনা বাহিনী ক্ষমতার আস্ফালন এবং মৃতের প্রকৃত সংখ্যা আড়াল করছে বলে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়েছে ঢাকার (Dhaka) নানা জায়গায়।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 21 July 2025 20:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেনা বিমান দুর্ঘটনা (Dhaka Plane Crash) ঘিরে ঢাকার জনজীবন ক্রমে অশান্ত হয়ে উঠছে। জনরোষের মুখে পড়েছে সেনাবাহিনী। দুর্ঘটনা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনা বাহিনী ক্ষমতার আস্ফালন এবং মৃতের প্রকৃত সংখ্যা আড়াল করছে বলে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়েছে ঢাকার (Dhaka) নানা জায়গায়। বহু জায়গায় সেনা বাহিনীকে দেখে ক্ষির্ত জনতার তেড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে, ঢাকার একটি হাসপাতালে গিয়ে জনরোষের মুখে পালাতে হয় জামাত-ই-ইসলামির আমির শফিকুর রহমানকে। বিক্ষোভের মুখে এলাকা ছাড়চে বাধ্য হন বিএনপি-র ছাত্র সংগঠন ছাত্র দলের নেতাদের।
সেনা বাহিনীকে নিয়ে বড় গোলমাল হয়েছে দুর্ঘটনাস্থলেই। উত্তরার যে শিক্ষাঙ্গনের ছাদে সোমবার সেনার প্রশিক্ষণ বিমান ভেঙে পড়ে সেই মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গনে সেনা বাহিনী ছাত্র ও অভিভাবকদের ক্ষোভের মুখে পড়ে। ছাত্র ও অভিভাবকদের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকেই তারা সেখানে উদ্ধার কাজ করছিলেন। বিকালে সেনা বাহিনী এসে তাদের সরে যেতে বলে। এক পর্যায়ে লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেয়। পড়ুয়া ও অভিভাবকদের দাবি, মৃত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা আড়াল করতেই সেনা তাদের সরিয়ে দেয়। তাদের দাবি, ধ্বসংস্তুপের নীচে তখনও বহু পড়ুয়ার দেহ চাপা পড়ে ছিল।
সরকারিভাবে সেনাবাহিনী সন্ধা পর্যন্ত কুড়ি জনের মারা যাওয়ার কথা জানিয়েছে। আহত ১৭১ জন। নিহতদের মধ্যে বিমানে পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মহম্মদ তৌকির ইসলামও আছেন। নিহতদের বেশিরভাগই স্কুল ও কলেজের ছাত্র। বেশ কয়েকজন শিশু পড়য়াও আছে নিহত ও আহতের তালিকায়। বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ আএসপিআর জানিয়েছে বিমানে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেওয়ার পর পাইলট আপ্রান চেষ্টা করেন বিমানটিকে বসতি এলাকার বাইরে অবতরণ করাতে। কিন্তু তাঁর চেষ্টা সফল হয়নি। তাই এত মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে, মৃত ও আহতের সংখ্য নিয়ে সেনাবাহিনীর বক্তব্যে অবিশ্বাস, সন্দেহ দানা বাঁধছে। অনেকেরই দাবি, দেড়শোর কাছাকাছি মানুষ মারা গিয়েছে। কিন্তু সেনা বাহিনী প্রকৃত সংখ্যা চেপে যাচ্ছে।
পাশাপাশি চর্চা শুরু হয়েছে সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, প্রতিবাদের ঘটনা নিয়ে। গত বছর ৫ অগস্টের আগে থেকেই সেনা বাহিনী ছিল দেশবাসীর চোখে হিরো। অভ্যুত্থান দমনে গুলি, এমনকী লাঠিও চালায়নি ওয়াকার উজ জামানের বাহিনী। সেই সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে গত বুধবার জনরোষ আছড়ে পড়েছিল গোপালগঞ্জে। সেখানে আন্দোলনরত আওয়ামী লিগ ও ছাত্র লিগের নেতা-কর্মীদের উপর সেনার নির্বিচারে গুলি চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই একটি মাত্র শহর থেকে সেনা-পুলিশ ছয় হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করায় ক্ষোভ এতটাই চরমে উঠেছে যে সোমবার গোপালগঞ্জের বিএনপি নেতৃত্ব সাংবাদিক বৈঠক ডেকে সেনার অতিসক্রিয়তার বিরুদ্ধে সরব হন।
সোমবার ঢাকায় বিমান দুর্ঘটনার পর সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে ফের জন অসন্তোষ আছড়ে পড়ে। সোমবার বিকালে জনক্ষোভের মুখে পড়েন জামাত নেতা শফিকুর রহমান। তিনি একটি হাসপাতালে নিহত ও আহতদের পরিজনের সঙ্গে দেখা করতে গেলে জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। জামাত নেতা সেখানে সাংবাদিক বৈঠক করতে চাইলে শোকাচ্ছন্ন মানুষ তাঁর দিকে তেড়ে যান। আর একটি হাসপাতালে যান বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্র দলের সভাপতি রাকিব। জনতার ধাওয়া খেয়ে তাঁকেও হাসপাতাল ছাড়তে হয়।