ডায়েট করেও ওজন না কমার পেছনে থাকতে পারে শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেটাবলিজম ও হরমোনের প্রভাব বুঝে নিতে হবে সঠিক পদক্ষেপ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 1 April 2026 13:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওজন কমাতে (weight loss) কম খাওয়া আর বেশি ব্যায়াম (exercise)— এত সহজ সমীকরণ হলে স্থূলতা (obesity) এত বড় সমস্যা হত না। বাস্তবটা অনেক জটিল। বহু মানুষ নিয়ম মেনে ডায়েট (diet) ও শরীরচর্চা করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পান না, বরং ওজন ফের বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থা (biological resistance)।
“স্থূলতা কোনও শৃঙ্খলার অভাব নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি জৈবিক অবস্থা (chronic biological condition), যেখানে শরীর নিজেই ওজন কমার বিরুদ্ধে কাজ করে,” বলছেন মণিপাল হাসপাতালের (Manipal Hospital, Dwarka) চিকিৎসক ডা. সন্দীপ আগরওয়াল (Dr Sandeep Aggarwal)।
তিনি জানান, ক্যালোরি (calorie) কমালে মস্তিষ্ক (brain) সেটাকে স্বাস্থ্যকর লক্ষ্য হিসেবে দেখে না, বরং ‘অনাহারে’র (famine) সংকেত হিসেবে ধরে নেয়। ফলে শরীর সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়, বিপাকক্রিয়া (metabolism) ধীর করে দেয় এবং খিদে (hunger) বাড়িয়ে তোলে।
এই লড়াইটাই ওজন কমানোকে কঠিন করে। ডা. আগরওয়ালের কথায়, “মস্তিষ্ক তখন বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবারের (high-calorie food) প্রতি আকৃষ্ট হয়, খিদের সংকেত বাড়ায় এবং পেট ভরার (fullness) অনুভূতি কমিয়ে দেয়।” তাই বার বার খিদে পায়।
শরীরের এই প্রতিরোধ একাধিক উপায়ে কাজ করে। ক্যালোরি কমলে ‘মেটাবলিক ব্রেক’ (metabolic brake) সক্রিয় হয়— হার্ট রেট (heart rate) ও শরীরের তাপমাত্রা (temperature) নিয়ন্ত্রণ ধীর হয়ে যায়, যাতে শক্তি সঞ্চয় করা যায়। একইসঙ্গে বাড়ে ঘ্রেলিন (ghrelin)— যা খিদে বাড়ায়, আর কমে লেপটিন (leptin)— যা পেট ভরার সংকেত দেয়। ফলে খাওয়ার পরও খিদে থেকে যায়।
এছাড়া শরীরের ‘সেট পয়েন্ট’ (set point) ওজনও গুরুত্বপূর্ণ। ওজন সেই নির্দিষ্ট মাত্রার নীচে নামলে হাইপোথ্যালামাস (hypothalamus) আবার ওজন বাড়ানোর প্রক্রিয়া চালু করে— খিদে বাড়ায়, বিপাকক্রিয়া কমায়। ফলে মিষ্টি (sugar) ও চর্বিযুক্ত (fat) খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়।
তাই শুধু ইচ্ছাশক্তি (willpower) দিয়ে এই সমস্যার সমাধান হয় না। আধুনিক চিকিৎসা (modern treatment) এখন জোর দিচ্ছে শরীরের এই জৈবিক সংকেতগুলিকে নিয়ন্ত্রণে আনার উপর। ডায়েট পরিকল্পনা (nutrition plan) থেকে শুরু করে ব্যারিয়াট্রিক সার্জারি (bariatric surgery)— সবই সেই লক্ষ্যেই।
আর এই অস্ত্রোপচার শুধু পাকস্থলীর (stomach) আকার কমায় না, বরং হরমোনের (hormone) পরিবর্তন ঘটিয়ে মস্তিষ্কের সেট পয়েন্টও বদলে দেয়, ফলে খিদে কমে।
তবু সমস্যা এখানেই শেষ নয়। ওজন কমার পরও শরীর প্রতিরোধ চালিয়ে যায়। বিপাকক্রিয়া আগের মতো হয় না, ফলে ওজন ধরে রাখতে অন্যদের তুলনায় কম ক্যালোরি খেতে হয়।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বার্তা, ওজন ফের বেড়ে যাওয়া মানেই ব্যর্থতা নয়, বরং শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা (survival mechanism)-এরই ফল।