মাঝ বয়সে মানসিক অস্থিরতা, সম্পর্কের টানাপড়েন— মিডলাইফ ক্রাইসিস সামলানোর সহজ উপায় ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ জানুন।

শেষ আপডেট: 6 April 2026 13:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝবয়স হলেই নাকি মনের উসখুসুনি বাড়ে (Midlife Crisis)। চাওয়া-পাওয়ার তালিকা নিয়ে নাড়াঘাঁটা করে তৃপ্তির চেয়ে অতৃপ্তিই আসে বেশি। বারবার ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে যায় মন। ঘনঘন সিগারেটে টান দিয়ে চল্লিশ-পঞ্চাশের পুরুষ ভাবে 'জীবনটাই বৃথা গেল।' যা চেয়েছিলাম, কিস্যু পাইনি। শরীরের চাকচিক্য উধাও হচ্ছে, গলায়-হাতে বলিরেখা ফেটে বেরতে চাইছে, একমাথা চুলের ফাঁক দিয়ে টাকটা উঁকি দিচ্ছে, চোখের কোলে সাদা বুড়োটে মাংসল পিণ্ড জানান দিচ্ছে কোলেস্টেরলও এখন বশে নেই। ওদিকে সংসারে খিটখিট, পুরনো দাম্পত্য, একঘেয়েমি অবসাদ-একাকীত্ব।
মধ্যবয়সে মন-শরীরের এই টানাপড়েনের নামই মিডলাইফ ক্রাইসিস (Midlife Crisis)। পুরুষ ও মহিলা উভয়েই ভোগে। তবে পুরুষদের মাঝবয়সের সঙ্কট কিছু বেশি। ছিমছাম চাকরিতে তখন আর মন নেই। স্ত্রী ঘোর সংসারি, প্রেম-প্রেম গন্ধটা মনে-বিছানায় কোথাও নেই। অভিযোগ ওঠে, যৌন অতৃপ্তি থেকে একরাশ হতাশায় ডুবে থাকা পুরুষ তখন পরকীয়ার জন্য ছোঁক ছোঁক করে।
এই সময়েই কেউ মাঝবয়সের বিড়ম্বনা মেনে ঘরের এক কোণে নিজেকে আড়াল করে একাকীত্বে ডুবে যায়, আবার কারও মধ্যবয়সে নতুন করে উন্মাদনা চাগাড় দেয়। প্রচুর মদ খাব, নিষিদ্ধ কাজ করব, প্রেমিকাকে নিয়ে সাজগোজ–ক্লাব–পার্টি-নেশা। এক চূড়ান্ত অস্থির সময়। মনের খাঁজভাঁজগুলোতে বিন্দু বিন্দু অবসাদ। মনের মধ্যে চাপা দুঃখ, সব হারিয়ে ফেলছি ভাব, ছাইচাপা হাসফাঁস যেন আর্তনাদ করতে বলতে চাইছে 'আমি মিডলাইফে'।
মধ্যগগনে 'মেল মেনোপজের' ধাক্কা সামলে অবসাদের তোয়াক্কা না করেই স্বাভাবিক জীবন ছন্দে নিজেকে ভাসিয়ে দিতে পারেন কম জনই। যিনি পারেন তিনি 'ক্রাইসিস'-এ ভোগেন না, আর যিনি না পােন তাঁরই মিডলাইফে বিড়ম্বনা। তবে কমবেশি হতাশা, মুড সুয়িং, কিছুই ভাল না লাগার মতো অনুভূতি সকলেরই হয় (Midlife Crisis)। সেটা কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যাবে, সে পরামর্শই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
অস্থির হবেন না৷ ভেবে দেখুন, কম বয়সের চাহিদায় কিন্তু অনেক সময়ই অবাস্তবতা থাকে৷ যুক্তিহীন চাহিদা যে মেটে না তা বোঝার ক্ষমতা আপনার আছে৷ অতএব বাস্তব পরিস্থিতি মেনে নিন৷
নতুন কিছু শুরু করুন৷ ভাললাগার কাজ৷ এই বয়সে এসে এখন আপনার চাহিদা অনেক বাস্তবসম্মত, অভিজ্ঞতা আছে৷ কাজেই সাফল্যের আশা খুব বেশি৷
নিজের সম্পর্কগুলোকে নতুন করে সাজিয়ে নিন। ভুল সম্পর্কের সমীকরণ মানসিক স্থিতি নষ্ট করে, এতে অবসাদ আরও বাড়ে।
স্বামী/স্ত্রী–ও কিন্তু একে অপরের সাপোর্ট সিস্টেমের অঙ্গ৷ তাঁকে শ্বাস ছাড়ার অবকাশ দিয়ে, তাঁর সমস্যা বুঝে চললে একাকিত্বের হাত থেকে মুক্তি পাবেন৷ তাঁর সমস্যাও আপনারই মতো৷ একই ক্রাইসিসে ভোগার সম্ভাবনা তাঁরও৷
বয়ঃসন্ধির মতো মাঝবয়সের টালমাটালও একদিন কেটে যাবে। ততদিন শান্ত হয়ে ধৈর্য ধরে থাকা ছাড়া উপায় নেই। নিজের পছন্দের কাজগুলো করুন, মাথা ঠান্ডা রাখুন।
জীবনে একঘেয়েমি এলেও ঘাবড়াবেন না। জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসটা চ্যালেঞ্জের মতো নিন। পছন্দের জায়গায় ঘুরতে যান, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে প্রাণ ভরে আড্ডা দিন, সপরিবারে ডিনার বা লাঞ্চে যান। পারলে সপ্তাহে একদিন গেট টুগেদার করুন। এতেই মন অনেক সতেজ থাকবে।
নিজের অনুভূতি, সংশয় বা কষ্টগুলো ভেতরে চেপে রাখবেন না। পার্টনারের সঙ্গে শেয়ার করুন। যে কাজগুলো একসময় করতে ভাল লাগত, সে সব নতুন করে শুরু করুন। বাগান করা বা জিমে যাওয়ার মতো কাজ কিন্তু শরীর ভাল রাখার পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতে অনেকটাই সাহায্য করে।
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য। এটি কোনও চিকিৎসা বা মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শের বিকল্প নয়। সমস্যার তীব্রতা বেশি হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা কাউন্সেলরের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
This article is for informational purposes only and is not a substitute for professional medical or mental health advice. Please consult a qualified healthcare provider or counselor if you are experiencing serious concerns.