৩০-এর কোঠায় উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ভবিষ্যতে খুব তাড়াতাড়িই হার্ট ও কিডনির রোগের ঝুঁকি বাড়ে— নতুন গবেষণায় উঠে এল উদ্বেগজনক তথ্য।

শেষ আপডেট: 24 March 2026 15:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩০-এর দশকে শরীর বেশ ঠিকঠাকই থাকে, এমনটাই আমরা ভাবি। সামান্য উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও অনেকেই গুরুত্ব দেন না। ভাবেন, “এখন তো কিছু হচ্ছে না, পরে দেখা যাবে!” ডাক্তাররা বলছেন, এই ক্যাজুয়াল ভাবনাটাই পরে বড় ভুলে পরিণত হতে পারে।
ধরা যাক, আপনার প্রেশার একটু বেশি। খুব বেশি নয়, সামান্য। কিন্তু যদি সেটা ১০ বছর ধরে থাকে, তাহলে সেটা যেন ধীরে ধীরে ইঞ্জিন ক্ষয় হওয়ার মতো। বাইরে থেকে বোঝা যায় না, কিন্তু ভিতরে ভিতরে ক্ষতি চলতেই থাকে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যদি ৩০-এর দশকে ১০ বছর ধরে সিস্টোলিক (প্রেশারের উপরের সংখ্যা) মাত্র ১০ পয়েন্ট বেশি থাকে, তাহলে হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়ে প্রায় ২৭%, কিডনির রোগের ঝুঁকি বাড়ে প্রায় ২২%।
এমনকি ডায়াস্টোলিক (নীচের সংখ্যা) মাত্র ৫ পয়েন্ট বেশি থাকলেও ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অর্থাৎ, “অল্প একটু বেশি” বলে কিছু নেই, শরীর কিন্তু সবটারই হিসেব রাখে।
যাঁদের ৩০-এর দশকে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ ছিল, তাঁদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, হার্টের সমস্যার সম্ভাবনা ৩.৫ গুণ বেশি, কিডনির রোগের ঝুঁকি প্রায় ৩ গুণ। অর্থাৎ, এই সময়টা ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যের জন্য বিনিয়োগের সময়, অবহেলা করলে বিপদ হতে পারে।
কারণ উচ্চ রক্তচাপ বা Hypertension-কে বলা হয় ‘সাইলেন্ট কিলার’। কারণ এর কোনও স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। অনেক সময় প্রেশার একটু বেশি থাকলেও চিকিৎসা শুরু হয় না। কিন্তু এই গবেষণা বলছে, সেটাই বড় ভুল। কারণ এই রোগের চেয়েও তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবটাই বেশি ভয়ংকর।
রক্তচাপ বেশি থাকলে হার্টকে বেশি জোরে কাজ করতে হয়। এর ফলে হার্টের পেশি মোটা হয়ে যায়, রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা কমে, শেষ পর্যন্ত হার্ট ফেলিওর পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া রক্তনালী শক্ত ও সরু হয়ে যায়, যা হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
অন্যদিকে, কিডনির ভিতরে অসংখ্য সূক্ষ্ম রক্তনালী থাকে, যা রক্ত পরিষ্কার করে। উচ্চ রক্তচাপ এই নালীগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে শরীরে বর্জ্য জমতে শুরু করে, ধীরে ধীরে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে, শেষ পর্যন্ত ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা কিডনি ফেলিওর পর্যন্ত হতে পারে।
ডাক্তারবাবুরা বলছেন, এক কথায় টার্গেটটা খুব সহজ। রক্তচাপ থাকতে হবে ১২০/৮০। এবং সেটাকে ধরে রাখা, এটাই আসল চ্যালেঞ্জ।
এই গবেষণা একটা পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে। ৩০-এ যা অবহেলা করছেন, ৫০-এ তারই হিসেব মেটাতে হতে পারে আরও বড় মাসুল দিয়ে। তাই অপেক্ষা না করে এখনই সতর্ক হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.