সারাক্ষণ মিষ্টি বা নোনতা খেতে ইচ্ছে করছে? শরীরের ভেতরের ঘাটতি বা সমস্যারই ইঙ্গিত হতে পারে এই ক্রেভিং। চিনে নিন এখনই।
.jpeg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 2 April 2026 16:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত বাড়লেই হঠাৎ চকোলেট (Chocolate), চিপস (Chips) বা কিছু চটপটে খাওয়ার ইচ্ছে করে, এই অভিজ্ঞতা প্রায় সবারই চেনা। অনেকেই একে ‘লোভ’ বা আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাব বলে ভাবেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্রেভিং (Cravings) আসলে শরীরের বার্তা।
“ক্রেভিং একেবারেই হঠাৎ করে আসে, এমন নয়। এর পিছনে জৈবিক (Biological) ও মানসিক (Psychological) কারণ থাকে,” জানাচ্ছেন বিডিআর ফার্মাসিউটিক্যালসের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ডাঃ অরবিন্দ বাদিগের (Dr Aravind Badiger)।
চিকিৎসকের মতে, এই ইচ্ছে তৈরি হয় মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সেন্টারে (Reward Centre)। চিনি (Sugar), নুন (Salt) বা ফ্যাট (Fat) বেশি থাকা খাবার খেলেই মস্তিষ্কে ডোপামিন (Dopamine) নিঃসৃত হয়—যা আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। ফলে মস্তিষ্ক ওই খাবারের সঙ্গে আনন্দকে জুড়ে ফেলে। পাশাপাশি ঘ্রেলিন (Ghrelin) ও লেপটিন (Leptin) নামের হরমোন খিদে ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণ করে। ঘুমের অভাব বা অনিয়মিত খাবারে এই ভারসাম্য নষ্ট হলে অকারণে খিদে পেতে পারে।
সবচেয়ে সাধারণ হল মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে। রক্তে গ্লুকোজ (Blood Glucose) কমে গেলে শরীর দ্রুত শক্তির খোঁজে চিনি চায়। তবে শুধু শরীর নয়, মনও এখানে ভূমিকা নেয়। চাপ (Stress) বা ক্লান্তি (Tiredness) থাকলে চিনি সেরোটোনিন (Serotonin) বাড়িয়ে মুড ভাল করে। তবে দীর্ঘদিন বেশি চিনি খেলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স (Insulin Resistance) তৈরি হয়ে বিপদ ডেকে আনতে পারে।
আবার নোনতা খাবারের প্রতি টান থাকলে তা ডিহাইড্রেশন (Dehydration) বা ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার (Electrolyte Imbalance) ইঙ্গিত হতে পারে। অতিরিক্ত ঘাম বা কম জল খাওয়ার ফলেও এমন হয়। চাপও এখানে ভূমিকা রাখে। যদিও শরীরের জন্য লবণ জরুরি, অতিরিক্ত নুন উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure) ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
মুখরোচক খাবারের প্রতি টানও শুধু স্বাদের জন্য নয়। খাবারের টেক্সচার (Texture) মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত করে। চিবোনোর অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, তাই একঘেয়েমি বা স্ট্রেসে অনেকেই চিপসের দিকে হাত বাড়ান। “এটা এক ধরনের টেনশন রিলিজের মতো কাজ করে,” বলছেন ডাঃ বাদিগের।
তবে সমাধান লড়াই নয়, বোঝা। নিয়মিত জল খাওয়া, ঠিক সময়ে খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, আর স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট—এই চারটি বিষয়েই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় ক্রেভিং। কখন সত্যিই খিদে পেয়েছে আর কখন শুধু ইচ্ছে—এই পার্থক্য বুঝতে পারলেই বদলে যাবে খাবারের সঙ্গে সম্পর্ক।