রাশিয়ার সঙ্গ বজায় রেখেই আমেরিকা থেকে দ্বিগুণ দামে তেল আমদানি করছে ভারত। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও বদলাচ্ছে না নয়াদিল্লির কৌশল।

ছবি-এআই
শেষ আপডেট: 3 August 2025 09:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চুপিসারে নিজের সমীকরণ বদলে ফেলছে ভারত। রাশিয়ার উপর নির্ভরতা বজায় রেখেই হু-হু করে বাড়ছে আমেরিকা থেকে তেল আমদানি। শুধু বাড়ছে না, লাফিয়ে বাড়ছে। সরকারি সূত্রের দাবি, ২০২৫ সালের প্রথম ছ’মাসে আমেরিকা থেকে খনিজ তেল আমদানি বেড়েছে ৫১ শতাংশ। খরচও হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন, এই সময়কালে ভারত আমেরিকা থেকে দৈনিক আমদানি করত ১.৮ লক্ষ ব্যারেল। ২০২৫-এ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দিনে ২.৭১ লক্ষ ব্যারেলে। অর্থাৎ আমদানির গতি বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, শুধুমাত্র এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসেই মার্কিন তেল আমদানি বেড়েছে ১১৪ শতাংশ।
এই পরিমাণ তেলের জন্য ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে যেখানে খরচ হয়েছিল ১৭৩ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা), ২০২৫ সালে সেটাই গিয়ে ঠেকেছে ৩৭০ কোটি ডলারে (৩২ হাজার কোটি টাকা)।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের জুন মাসের তুলনায় জুলাইয়েই আবার ২৩ শতাংশ বেড়েছে আমেরিকা থেকে তেল আমদানি। ফলে সামগ্রিকভাবে আমেরিকা এখন ভারতের মোট তেল আমদানির ৮ শতাংশ জোগাচ্ছে। আগে যা ছিল মাত্র ৩ শতাংশ।
শুধু খনিজ তেল নয়, এলপিজি ও এলএনজি-র মতো জ্বালানি গ্যাসের ক্ষেত্রেও আমেরিকার উপর নির্ভরতা বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এলএনজি আমদানি দ্বিগুণ হয়েছে আগের বছরের তুলনায়।
এদিকে, বিশ্ব রাজনীতির পালাবদলে আবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবং সেই সঙ্গেই প্রকাশ্যে এসেছে তাঁর অসন্তোষ, ভারতের রাশিয়া নির্ভরতা নিয়ে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চললে ভারতকে দিতে হতে পারে জরিমানা। ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্কও চাপিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসন।
এই অবস্থায় নয়াদিল্লির কৌশল স্পষ্ট, দু’পাশে ভারসাম্য রেখে এগোনো। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল বিষয়টি ঘুরিয়ে বলেছেন, “আমেরিকা ও ভারতের সম্পর্ক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়েও এগিয়েছে। প্রতিরক্ষায় দু’দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে।” রাশিয়ার নাম এড়িয়েই তিনি বলেন, “তৃতীয় কোনও দেশের আয়নায় সম্পর্ক দেখা উচিত নয়।”
তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান খুবই বাস্তববাদী, বাজারের দর, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, দেশের চাহিদা—এই সব কিছুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমদানি চালানো হচ্ছে বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। বারাণসীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বলেন, “ভারত পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হতে চলেছে। তাই নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়ে ভারত অবশ্যই সজাগ থাকবে।”
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধের কোনও লক্ষণ নেই। কিন্তু পাশাপাশি আমেরিকা থেকে আমদানি দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, তবে কি তেল বাণিজ্যে কৌশল বদলেছে ভারত?বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, আগের তুলনায় অনেক বেশি কৌশলী এবং বহুমুখী বাণিজ্যনীতির পথে হাঁটছে নয়াদিল্লি।