সোমবার শুরু হচ্ছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। ন্যাশনাল হেরাল্ড ও দেশে চলা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা। তৃণমূল, ডিএমকে ও সমাজবাদী পার্টি ইসির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। কেন্দ্র বলছে, SIR রুটিন প্রক্রিয়া।

মোদী ও রাহুল
শেষ আপডেট: 1 December 2025 07:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার শুরু হচ্ছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। গান্ধীদের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলা ও দেশজুড়ে চলা SIR নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আপাতত শাসক ও বিরোধী দুই শিবিরই এই দুই বিষয় নিয়ে মাঠে নামতে চলেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস (TMC), ডিএমকে (DMK) এবং সমাজবাদী পার্টি (Samajwadi Party) জানিয়ে দিয়েছে, তারা SIR ইস্যুতে লড়াই আরও জোরদার করবে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’ (Political Interference) ও ‘অনিয়ম’ (Irregularities)–এর অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যেই রাস্তায় আন্দোলন শুরু হয়েছে, এবার একই ইস্যু সংসদেও তোলা হবে।
এই বছরের শীতকালীন অধিবেশন এমনিতেই সংক্ষিপ্ত, শেষ হবে ১৯ ডিসেম্বর। ফলে বিরোধীরা লাগাতার বিক্ষোভ করলে সরকারের আইন পাসের পরিকল্পনা বাধার মুখে পড়তে পারে।
কেন্দ্র ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিল আনতে চলেছে, যার মধ্যে রয়েছে নিউক্লিয়ার এনার্জি রিফর্ম (Nuclear Energy Reform), হায়ার এডুকেশন কমিশন বিল (Higher Education Commission), কোম্পানি আইন সংশোধন (Corporate Law Reform) এবং সিকিউরিটিজ মার্কেট সংশোধন (Securities Market Reform)।
এই পরিস্থিতিতে ২৬ নভেম্বর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বাড়িতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। অধিবেশন মসৃণভাবে চালাতে সর্বদলীয় বৈঠকও ডাকেন সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অভিযোগ তুলেছেন, ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস 'বন্দে মাতরম' গানটির কয়েকটি লাইন বাদ দিয়েছিল এবং সেই সিদ্ধান্তই পরে দেশ বিভাজনের বীজ বপন করে। তাই এই সরকার চায় পুরো গান নিয়ে বিস্তৃত আলোচনায় যাক পার্লামেন্ট। এবার সরকারের বিশেষ ফোকাস এতেই।
অন্যদিকে কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়েছে, SIR কোনওভাবেই সংসদে আলোচনার বিষয় নয়। তাদের দাবি, এটি নির্বাচন কমিশনের (ECI) নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং তা সংসদীয় বিতর্কের আওতায় পড়ে না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই কমিশন কাজ করছে। NDA-র বিহার জয়ে কেন্দ্রের দাবি, ভোটাররাই SIR নিয়ে তেমন আপত্তি করেননি।
তবুও তৃণমূল কংগ্রেস আক্রমণাত্মক। দলের অভিযোগ, SIR–এর নামে ভোটার তালিকা কারচুপি (Voter List Manipulation) এবং বাংলায় ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যা ইচ্ছে করে বাড়ানো হচ্ছে। আগামী বছরই রাজ্যে নির্বাচন, ফলে BJP-র তৎপরতায় পালটা চাপ বাড়াচ্ছে শাসকদল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় SIR–কে ‘কেন্দ্রের চক্রান্ত’ (Conspiracy) বলছেন।
তামিলনাড়ুতেও একই বিতর্ক, ডিএমকে অভিযোগ করেছে, কেন্দ্র ইচ্ছে করে সংশোধন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে। উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টিও ‘অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’ (Specific Irregularities) তুলে বিষয়টি তুলতে প্রস্তুত।
এদিকে বিরোধীরা শুধু SIR–এ নয়, নিউক্লিয়ার এনার্জি রিফর্ম, হায়ার এডুকেশন কমিশন, চণ্ডীগড় সংশোধনী বিল, বেকারত্ব (Unemployment) এবং দিল্লি–এনসিআর দূষণ (Air Pollution) নিয়েও সরকারকে চাপে ফেলতে চায়।
সর্বদলীয় বৈঠকে কী হল?
সর্বদলীয় বৈঠকে SIR–ই ছিল প্রধান আলোচ্য। সূত্রের খবর, SP এবং TMC-র দাবি, অবিলম্বে সংসদে SIR নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। কিন্তু জেডিইউর সঞ্জয় ঝাঁ বলেন, বিহার নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর SIR ইস্যু এখন অপ্রাসঙ্গিক।
কিন্তু RJD–র মনোজ ঝাঁ এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ অভিযোগ করেন, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট সেশন, কারণ সরকার আলোচনা চাইছে না। তিনি বলেন, 'দিল্লি বিস্ফোরণ, SIR, অর্থনীতি, বন্যা ব্যবস্থাপনা, পররাষ্ট্রনীতি, সব বিষয়েই সরকার আলোচনা এড়াচ্ছে।'
বিরোধীরা জানিয়ে দিয়েছে, মল্লিকার্জুন খাড়্গের নেতৃত্বে যৌথ কৌশল ঠিক করা হবে।
সব মিলিয়ে শীতকালীন অধিবেশনে কেন্দ্র–বিরোধী সংঘাত চরমে পৌঁছবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।