
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 24 March 2025 14:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুণাল কামরা, স্ট্যান্ড আপ কমেডির জগতে বিখ্যাত নাম। রবিবার বিকেল থেকে চর্চায় তিনি। মহারাষ্ট্র সরকারের রোষের মুখে পড়েছেন। কারণ সম্প্রতি সে রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে নিয়ে একটি শোয়ে কৌতুক করেন। নিজ ভঙ্গিতে মতামতা প্রকাশ করেন কমেডিয়ান। বহু মানুষ হাসেন। সেই ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় বিতর্ক। রে রে করে তেড়ে এসেছেন একনাথের অনুগামী অর্থাৎ শিন্ডে ঘনিষ্ট শিবসেনা কর্মী-সমর্থকরা। জল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গড়িয়েছে বিস্তর। বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতাকে ঠিক কী বলেছিলেন কমেডিয়ান? কেন এত চটে গেলেন সেনা সদস্যরা?
একনাথ শিন্ডের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চেয়েছেন কুণাল কামরা। এমনই অভিযোগ রয়েছে শিবসেনার শিন্ডের গোষ্ঠীর। তাঁদের দাবি, ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিতভাবে শিন্ডের অবমাননা করেছেন কমেডিয়ান। রাহুল কানালের তরফে দায়ের করা অভিযোগে লেখা হয়েছে, 'কুণাল কামরা ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছেন এবং একনাথ শিন্ডেকে নিয়ে অশ্লীল ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন।'
শিবসেনা নেতা সঞ্জয় নিরুপম এক পা এগিয়ে এনিয়ে কমেডিয়ানকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। জানান, তাঁরা কুণাল কামরাকে মারধর করবেন। অপরদিকে, সেনার সাংসদ নরেশ মহাসকে বলতে শোনা যায়, 'তোমাকে পুরো দেশে শিবসেনার কর্মীরা তাড়া করবে, ভারত ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হবে।'
ঠিক কী বলেছিলেন 'নয়া ভারত' নামের ওই শোতে কামরা? মহারাষ্ট্রের রাজনীতি ও সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে কৌতুক করেন তিনি। শিবসেনা ও এনসিপির বিভাজন প্রসঙ্গ টেনে আনেন। বলেন, 'প্রথমে শিবসেনা বিজেপি থেকে বেরিয়ে গেল, তারপর শিবসেনা শিবসেনা থেকেই বেরিয়ে গেল, এনসিপিও নিজের মধ্যেই ভাগ হয়ে গেল। ভোটারদের সামনে ৯টি বোতাম রাখা হল, সবাই বিভ্রান্ত হয়ে গেলেন।'
View this post on Instagram
একনাথ শিন্ডেকে নাম না নিয়ে আক্রমণ করেন কমেডিয়ান। 'ভোলিসি সুরাত আঁখো মে মস্তি' গানের সুরে রিকশা, থানে ও দাড়ি এই তিন শব্দ দিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ছড়া গেয়ে শোনান। স্পষ্টই বোঝা যায়, তিনি একনাথের দিকে আঙুল তুলছেন। ফড়নবিশের কোলে তাঁকে পাওয়া যাবে, ছড়ায় এই কথাও ছিল।
বাবাকে কেড়ে নেওয়া (বালা সাহেব ঠাকরে ও ঠাকরে গোষ্ঠীর বিভাজন) প্রসঙ্গে আবার তেন্ডুলকারের উদাহরণ দেন। সব মিলিয়ে এই ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। মুম্বই পুলিশের খার থানা এলাকার 'ইউনিকন্টিনেন্টাল দ্য হ্যাবিট্যাট' নামের হোটেলে ভিডিওটি শ্যুট করা হয়েছিল, রবিবার রাতে সেখানে চড়াও হন সেনা সদস্যদের একাংশ। হামলার অভিযোগে আবার রাহুল কানাল ও শ্রীকান্ত সরমলকর-সহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিরোধী তথা শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী। এমন কৌতুক নিয়ে এত বাড়াবাড়ি কাপুরুষরাই করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছে আদিত্য ঠাকরে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ।