পুলিশ সূত্রে খবর, ‘হোয়াইট কলার’ সন্ত্রাসবাদী চক্রের তদন্তে হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকের নমুনা থানা চত্বরে পরীক্ষা করছিলেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল। সেই সময়ই আচমকা ঘটে যায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 15 November 2025 10:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণ কাণ্ডে বাজেয়াপ্ত জঙ্গি মডিউলের নমুনা পরীক্ষার সময়ই জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর শহরতলির নওগাম থানা কেঁপে উঠল ভয়াবহ বিস্ফোরণে। শুক্রবার গভীর রাতে থানার ভেতরে বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৯ জনের। জখম হয়েছেন আরও ২৯ জন পুলিশকর্মী ও ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ। রাতের অন্ধকার ভেদ করে নওগামের আকাশে উঠেছে আগুনের লেলিহান শিখা, ধোঁয়ার কুণ্ডলী। ভয়াবহতার ছবি ধরা পড়েছে সিসিটিভি ফুটেজেও।
থানার পাশের একটি বাড়ির সিসিটিভিতে দেখা যায়, প্রবল ঝাঁকুনিতে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। বিস্ফোরণের অভিঘাতে থানা চত্বর কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক গাড়ি। স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণের পর শরীরের অংশ ছিটকে গিয়ে ৩০০ মিটার দূরবর্তী বাড়িতেও পড়েছে। শহরের ১৫ কিমি দূরেও মানুষ বিস্ফোরণের শব্দ টের পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
কী ভাবে ঘটল বিস্ফোরণ?
পুলিশ সূত্রে খবর, ‘হোয়াইট কলার’ সন্ত্রাসবাদী চক্রের তদন্তে হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকের নমুনা থানা চত্বরে পরীক্ষা করছিলেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল। সেই সময়ই আচমকা ঘটে যায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। তদন্তকারীদের মতে, ৩৬০ কেজি বিস্ফোরকের বড় অংশ থানায় রাখা ছিল। সম্ভবত সেই বিপজ্জনক রাসায়নিক পরীক্ষার সময়ই ঘটেছে দুর্ঘটনা।
🚨 Srinagar, Jammu & Kashmir | J&K police say the blast at Nowgam police station (~11:20pm) occurred during an FSL inspection of seized ammonium nitrate. Authorities call it a tragic accident not a terror attack. Casualties reported; details awaited. pic.twitter.com/dzmrvoWqAO
— The News Drill (@thenewsdrill) November 14, 2025
প্রচুর দাহ্য বস্তু মজুত থাকার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে দমকল ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও বিস্ফোরণের তীব্রতায় ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়ে।
জইশ-ই-মহম্মদ-এর পোস্টার ছেঁড়া ও লাগানোকে কেন্দ্র করেই তদন্ত শুরু করে নওগাম থানা। সেই সূত্রেই উন্মোচিত হয় সীমান্ত পেরোনো ‘হোয়াইট কলার’ জঙ্গি নেটওয়ার্ক— যারা বৈধ পেশা ও পরিচয়কে আড়াল করে উত্তর ভারতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালাচ্ছিল।
গত সোমবার জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ দাবি করে, তারা দুই নিষিদ্ধ সংগঠন — পাকিস্তান-ভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদ ও আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দ-এর সঙ্গে জড়িত একটি বড় সন্ত্রাস চক্রকে ধরেছে। উদ্ধার হয় প্রায় ২৯০০ কেজি বিস্ফোরক পদার্থ। গ্রেফতার করা হয় তিন চিকিৎসক-সহ মোট আট জনকে।
ঠিক ওই দিনই সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরিত হয় একটি গাড়ি— মৃত্যু হয় ১৩ জনের। পরে তদন্তে উঠে আসে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন কাশ্মীরের চিকিৎসক উমর নবি। তিনি ওই জঙ্গি মডিউলের সঙ্গেই যুক্ত বলে সন্দেহ।
এনআইএ-সহ একাধিক তদন্তকারী সংস্থা এখন নওগাম বিস্ফোরণ, ফরিদাবাদে উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক এবং দিল্লি বিস্ফোরণের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজছে। তদন্তের স্বার্থে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস। চলছে জিজ্ঞাসাবাদ, তল্লাশি ও ধরপাকড়।
নওগাম থানার বিস্ফোরণে ঠিক কীভাবে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল— তা জানতে ইতিমধ্যেই পৃথক তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। শোকস্তব্ধ উপত্যকা, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ।