এক কৃষক মাঠে কাজ করার সময় কুয়ো থেকে দুর্গন্ধ পান। পরে দেখা যায়, কুয়োর জলে ভাসছে দুটি বস্তা। ভেতরে ছিল মহিলার দেহের টুকরো।

শেষ আপডেট: 22 August 2025 11:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি জেলায় নৃশংস খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। কিশোরপুরা গ্রামে এক মহিলার খণ্ডবিখণ্ড দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রেমিক তথা প্রাক্তন গ্রাম প্রধান সঞ্জয় প্যাটেল ও তাঁর ভাইপো সন্দীপ প্যাটেল গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মহিলা বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। তা সহ্য করতে না পেরে এই ভয়ঙ্কর খুনের ছক কষে তারা। অভিযুক্তদের এক সহযোগী এখনও পলাতক।
১৩ অগস্ট এক কৃষক মাঠে কাজ করার সময় কুয়ো থেকে দুর্গন্ধ পান। পরে দেখা যায়, কুয়োর জলে ভাসছে দুটি বস্তা। ভেতরে ছিল মহিলার দেহের টুকরো। গ্রামে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। ঘটনাটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় ঝাঁসি পুলিশকে।
পরে কুয়ো খালি করে উদ্ধার হয় হাতের অংশ, আবার লকহেরি নদী থেকে উদ্ধার করা হয় মহিলার মাথা। দেহের বিভিন্ন অংশ মেলে মোট সাত টুকরোয়।
নিহতের নাম রচনা যাদব, টিকমগড়ের বাসিন্দা। তিনি বিধবা ছিলেন। আইনি জটিলতায় জড়ানো মামলায় তাঁর পাশে দাঁড়ান সঞ্জয় পাটেল। সেখান থেকেই ঘনিষ্ঠতা ও পরে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। কিন্তু বিয়ের চাপ দিতে থাকায় সঞ্জয় ও তাঁর ভাইপো মিলে ভয়ঙ্কর খুনের পরিকল্পনা করে।
৮ অগস্ট রচনাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। এরপর দেহ নিয়ে গিয়ে কুয়োয় ফেলে দেওয়া হয়। প্রমাণ গোপন করতে দেহকে টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন বস্তায় ভরে কুয়ো ও ব্রিজের পাশে ফেলে রাখা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ইট, মাটি ইত্যাদির নমুনা স্থানীয় উপাদানের সঙ্গে মিলে গেছে বলে জানায় পুলিশ।
ঝাঁসি এসএসপি জানিয়েছেন, আটটি তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। ১০০-র বেশি গ্রামবাসীকে জেরা করা হয়েছে, ২০০-র বেশি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে। বর্তমানে সঞ্জয় ও সন্দীপ পাটেল গ্রেপ্তার হলেও পলাতক অভিযুক্ত প্রদীপ অহিরওয়ারের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তাঁর নামে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, তদন্তে সাফল্য এনে দেওয়ায় পুলিশ দলকে পুরস্কৃত করতে ৫০ হাজার টাকা ঘোষণা করেছেন এসএসপি।