
পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু
শেষ আপডেট: 27 May 2024 13:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার ৬০ তম প্রয়াণ দিবসে প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুকে স্মরণ করছে দেশবাসী। বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করেছে তাঁর দল কংগ্রেস। বিভিন্ন শহরে নেহরুর মূর্তিতে ফুলমালা দিয়ে প্রথম প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে এলাহাবাদ তথা অধূনা প্রয়াগরাজে অবস্থিত নেহরুর বাড়ি আনন্দ ভবন এবং অন্যান্য সংগ্রহশালায়।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, প্রাক্তন সভাপতি সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীরা প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। খাড়্গে এক বার্তায় বলেছেন, পণ্ডিত নেহরু আধুনিক ভারতের ভিত গড়ে দিয়ে গিয়েছেন। তাঁর অবদানের উল্লেখ ছাড়া ভারতের ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। শিল্প-প্রযুক্তি-বিজ্ঞান-অর্থনীতিতে তিনি দেশকে দিশা দিয়েছেন। তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী, অভিভাবক।
নেহরুর কথা উদ্ধৃত করে কংগ্রেস সভাপতি বলেন, আমাদের ভাষা, ধর্ম, জাত, বাসস্থান পৃথক হতে পারে; কিন্তু সংবিধান আমাদের সমান অধিকার দিয়েছে। এক্স হ্যান্ডেলে রাহুল গান্ধী আলাদা করে ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষায় নেহেরুর অবদানের উল্লেখ করেছেন।
প্রথম প্রধানমন্ত্রী নানা অবকাশে আক্রমণ করা প্রায় অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি দখল করে নেহরুর রেকর্ড ছাপিয়ে যেতে চান তিনি। দেশের দীর্ঘতম সময় টানা প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড এখনও প্রয়াত প্রথম প্রধানমন্ত্রীর দখলে রয়েছে। কাশ্মীর-সহ নানা প্রশ্নে সেই প্রথম প্রধানমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলে থাকেন মোদী।
সোমবার নেহরুর মৃত্যু দিনে কংগ্রেস এই ব্যাপারে মোদীকে আক্রমণ করেননি। তবে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ সাংবাদিকদের সঙ্গে নেহরুর সম্পর্ক তুলে ধরেছেন এক বার্তায়। নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর কখনও সাংবাদিক বৈঠক করেননি। ভোটের সময় তিনি বাছাই করা মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার দিয়ে থাকেন মাত্র।
অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমকে কী চোখে দেখতেন প্রথম প্রধানমন্ত্রী? রমেশ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, মারা যাওয়ার পাঁচদিন আগে দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন নেহরু। প্রতিমাসেই তিনি চেষ্টা করতেন দিল্লিতে কর্মরত দেশের বিভিন্ন প্রদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে মিলিত হতে। সরকারের ভাবনা, নানা বিষয়ে ব্যাখ্যা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরতেন নেহরু। মারা যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎকারে একজন তাঁর উত্তরসূরি সম্পর্কে জানতে চান। অর্থাৎ তাঁর পর কে হবেন কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রী জানতে চান সেই সাংবাদিক। প্রধানমন্ত্রী নেহরু তাঁকে সহাস্যে জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমার জীবন অচিরেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না।’ ঘটনাচক্রে পাঁচদিনের মাথায় জীবনাবসান হয় তাঁর।
সেদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা শেষে নেহরু চারদিনের জন্য দেরাদুন গিয়েছিলেন। ২৬ মে বিকালে সেখান থেকে ফিরে আসেন। রাতে বাড়িতে বসেই সরকারি কাজকর্ম সারছিলেন। পরদিন সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ জ্ঞান হারান। বেলা দু’টো নাগাদ চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এক্স হ্যান্ডেলে রমেশ লিখেছেন, নেহরু ছিলেন বুদ্ধের অনুগামী। ঘটনাচক্রে বুদ্ধ পূর্ণিমার দিনে তিনি প্রয়াত হন।