কুলদীপ সেঙ্গারের মেয়ে (Aishwarya Senger) বলেন, “আমরা আট বছর ধরে লড়ছি। অথচ আমাদের কষ্ট, আমাদের অপমান, কোনও কিছুকেই যেন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।..."

উন্নাওকাণ্ড
শেষ আপডেট: 29 December 2025 19:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উন্নাও ধর্ষণ মামলায় (Unnao rape case) বিজেপির বহিষ্কৃত বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের জামিনের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। দিল্লি হাইকোর্ট তাঁকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে যায়। সোমবার শুনানিতেই শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের (Delhi High Court) নির্দেশ স্থগিত করে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই ক্ষোভ প্রকাশ করেন কুলদীপ সেঙ্গারের (Kuldeep Sengar) মেয়ে ঐশ্বর্য সেঙ্গার (Aishwarya Senger)। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের পক্ষের আইনজীবীরা মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি তুলে ধরার সুযোগই পাননি। ঐশ্বর্য দাবি, "নির্যাতিতা একাধিকবার বক্তব্য বদলেছেন। কখনও বলেছেন দুপুর ২টো, কখনও ৬টা, আবার কখনও রাত ৮টা- ঘটনার সময় বারবার পাল্টেছেন। এইমসের মেডিক্যাল বোর্ড জানিয়েছে, অভিযোগ করার সময় তিনি প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড প্রমাণ করেছে আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। এমনকি যে সময় ঘটনাটি হয়েছে বলা হচ্ছে, সেইসময় তিনি নিজেও ফোনে কথা বলছিলেন। এই সবই আদালতে নথিভুক্ত।"
কুলদীপ সেঙ্গারের মেয়ে (Aishwarya Senger) আরও বলেন, “আমরা আট বছর ধরে লড়ছি। অথচ আমাদের কষ্ট, আমাদের অপমান, কোনও কিছুকেই যেন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের শান্তি, মর্যাদা- সব কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তবু আমি ন্যায়ের আশায় আছি। মিডিয়াকে অনুরোধ, ভুল তথ্য ছড়াবেন না।"
পকসো আইনে ‘পাবলিক সার্ভেন্ট’ নিয়ে বিতর্ক
সিবিআই-এর (CBI) পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সোমবার আদালতে জানান, পকসো আইনে ‘পাবলিক সার্ভেন্ট’ বলতে শুধু সরকারি কর্মচারীকে বোঝায় না। এমন যে কোনও ব্যক্তি, যিনি কোনও নাবালিকার উপর প্রভাব, ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব খাটাতে পারেন, তিনিও এই সংজ্ঞার মধ্যে পড়েন। তাঁর যুক্তি, ঘটনাকালীন কুলদীপ সিং সেঙ্গার ছিলেন একজন ক্ষমতাবান এমএলএ, তাই তিনি স্পষ্টভাবেই এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, কুলদীপ সেঙ্গারের পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, একজন নির্বাচিত বিধায়ককে কোনওভাবেই ‘পাবলিক সার্ভেন্ট’ বলা যায় না, তাই তাঁর বিরুদ্ধে পকসোর (POCSO Act) কঠোর ধারাগুলি প্রযোজ্য হওয়ার কথা নয়।
এনিয়ে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানায়, যদি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এই সংজ্ঞার বাইরে রাখা হয়, অথচ নিম্নস্তরের সরকারি কর্মচারীদের এর মধ্যে ধরা হয়, তাহলে তা হবে 'অস্বাভাবিক' এবং আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে বেমানান। আদালতের মতে, কোনও ব্যক্তি যদি নাবালিকার উপর প্রভাব খাটানোর মতো শক্তিশালী অবস্থানে থাকেন, তবে তিনি সরকারি কর্মচারী হোন বা জনপ্রতিনিধি- পকসোর ধারা দু’ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে।