
নারাইন সিং চৌরা
শেষ আপডেট: 4 December 2024 11:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিখ ধর্ম অবমাননার শাস্তিভোগ করছিলেন পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাই ভাঙা পায়ে প্লাস্টার নিয়ে হুইল চেয়ারে বসে ঠায় দুদিন চৌকিদারের কাজ করছিলেন স্বর্ণমন্দিরে। জেড প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা বলয় ভেঙে তাঁর উপরেই হামলা চালাল খলিস্তানপন্থী প্রাক্তন জঙ্গি। বুধবার সকালের এই ঘটনায় ফের একবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ভারতের বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রণ করা খলিস্তানি আন্দোলনের কলকাঠি নাড়ানোর আশঙ্কা।
গতকাল, মঙ্গলবারের মতো এদিনও সকাল থেকে স্বর্ণমন্দিরে ঢোকার একটি দরজায় পাহারার কাজ করছিলেন সুখবীর ও তাঁর দলের সঙ্গীসাথিরা। এই সময় এক ব্যক্তি এগিয়ে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে যায়। সেই সময় হেয়ারলাইন ফ্র্যাকচারে পায়ে প্লাস্টার বাঁধা হুইল চেয়ারে বসা সুখবীরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক সেবাদার ওই ব্যক্তিকে জাপটে ধরে তার হাত উপর দিকে করে দেন। তাতে গুলি ছিটকে গিয়ে লাগে স্বর্ণমন্দিরের গায়ে।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিরোমণি অকালি দল। দলের এক নেতা দলজিৎ সিং চিমা বলেন, গুরু নানকের কৃপায় উনি বেঁচে গিয়েছেন। গুরমুখী ভাষায় বলেন, জাকো রাখে সাইয়াঁ, মার সাকে না কোয় (রাখে হরি মারে কে)। সেবকরা এখানে সেবা দান করেন। আমাদের নেতা গুরু রাম দাস দ্বারের পাশে বসেছিলেন সেবা করছিলেন। চৌকিদার হিসাবে দ্বাররক্ষীর প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে কেউ যেন মাথায় আচ্ছাদন না দিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করতে না পারে। গুরু নানকজিকে প্রণাম, উনি নিজেই তাঁর সেবকের প্রাণ রক্ষা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এটা একটা বিরাট ঘটনা। পাঞ্জাবকে কোন যুগে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, প্রশ্ন তোলেন তিনি। আমি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জবাব চাই, আপনি পাঞ্জাবকে কোনদিকে নিয়ে যেতে চান। হামলাকারী এখানেই পাকড়াও হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছেন চিমা। তবে ঘটনার পরেও সুখবীর বাদল সহ তাঁর সতীর্থরা চৌকিদারির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটির সভাপতি হরজিন্দর সিং ধামি বলেন, আমরা আমাদের সূত্র মারফত তদন্ত করে দেখছি। গুরু রাম দাস সুখবীর বাদলকে রক্ষা করেছেন। আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছি। অমৃতসরের পুলিশ কমিশনার গুরপ্রিত সিং ভুল্লার বলেন, হামলাকারীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
কে হামলাকারী নারাইন সিং চৌরা
নারাইন সিং হল প্রাক্তন জঙ্গি। খলিস্তান লিবারেশন আর্মি নামে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি সংগঠন গড়ে তোলায় কুখ্যাত হয়েছিল। পৃথক রাষ্ট্র খলিস্তান গঠনের পিছনে সে সক্রিয় কাজ করায় তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ ছিল। নারাইনের বাড়ি চৌরা গ্রামে। পাঞ্জাবে বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলায় সে অভিযুক্ত।
১৯৮৪ সালে নারাইন পাকিস্তানে চলে যায় এবং বিপুল পরিমাণে অস্ত্র ও বারুদ পাচার করে আনে। দুবছর পর ভারতে ফিরে এসে আবার পাকিস্তানে ঘাপটি মারে। এবং শেষমেশ ১৯৮৯ সালে পাকাপাকিভাবে দেশে ফিরে আসে। ২০০৪ সালে বুরাইল জেল ভাঙার অন্যতম চক্রী ছিল নারাইন। জেলের ভিতর সুড়ঙ্গ খুঁড়ে বব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনালের বেশ কয়েকজন কুখ্যাত জঙ্গি সেবার পালিয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু নারাইন সিং নিজে জেলের পাঁচিলের গায়ে বন্দুক সহ ধরা পড়ে। তাকে জামিনে মুক্ত করা হয় ২০০৫ সালে। কিন্তু, জামিনের শর্ত হিসাবে সে আদালতে হাজিরা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। বারবার তলব করেও তাকে না মেলায় ফের মামলা শুরু হয়। এখনও সে পাঞ্জাবে অস্ত্র পাচারের কাজ করে চলেছে। ২০১৩ সালে সে ফের গ্রেফতার হয়। তার সঙ্গে বাজেয়াপ্ত হয় প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র ও বারুদ।