
শেষ আপডেট: 3 December 2023 18:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বিশ বছর ধরে রাজস্থানে একটা রেওয়াজ চলছে। পাঁচ বছর অন্তর মরু রাজ্যের মানুষ সরকার বদলে দেয়। এবারও সম্ভবত অন্যথা হবে না রাজস্থানে।
রবিবার সকাল থেকে চার রাজ্যের ভোট গণনা শুরু হয়ে গিয়েছে। বেলা ১২টা নাগাদ যে ট্রেন্ড তাতে দেখা যাচ্ছে, রাজস্থানে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছে বিজেপি। দুপুর ঠিক ১২টায় দেখা যাচ্ছে, রাজস্থান বিধানসভায় ১৯৯টি আসনের মধ্যে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ১১২টি আসনে। কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে মাত্র ৬৭টি আসনে।
অথচ রাজস্থানে এবার ক্ষমতা ধরে রাখার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন অশোক গেহলট। ছোটবেলা থেকে গেহলেটর শখ ছিল ম্যাজিক দেখানো। এক সময়ে দশ নম্বর জনপথে গিয়ে রাহুল-প্রিয়ঙ্কাকেও ম্যাজিক দেখাতেন ‘অশোক আঙ্কল’। কিন্তু যে ফর্মুলায় মধ্যপ্রদেশে ক্ষমতায় টিকে থাকল বিজেপি, সেই সূত্র কাজে লাগিয়েও গেহলটের ম্যাজিক এবার চলল না।
রাজস্থানে প্রচুর জনমুখী প্রকল্প বাস্তবায়িত করেছিলেন গেহলট। এমনকি গরিব পরিবারকে ৫০০ টাকায় রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার দিচ্ছিল তাঁর সরকার। অর্থাৎ চারশ টাকার বেশি ভরতুকি দিচ্ছিল। কিন্তু শহরাঞ্চলে একে তো ধর্মীয় মেরুকরণ তীব্র করে তুলেছিল বিজেপি। সেই সঙ্গে একটি লাল ডায়েরির কেচ্ছা সামনে এনে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল গেহলট সরকারের বিরুদ্ধে।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, রাজস্থানে এবার বিজেপির ঘর ছিল বেশ অগোছালো। মোদী-অমিত শাহরা মনে করছিলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়ার মুখ আর চলবে না। তাঁর বিরুদ্ধেই দলের মধ্যে ও বাইরে অসন্তোষ রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই রাজস্থান প্রচারে মুখ করেছিল বিজেপি। হয়তো সেটাই কাজে লেগেছে।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, রাজস্থানে কংগ্রেসের এই বিপর্যয়ের পর সাবেক দলের মধ্যে কোন্দল ও কাদা ছোড়াছুড়ি বাড়তে পারে। মরুরাজ্যে কংগ্রেসের মধ্যে কোন্দলের কথা সুবিদিত ছিল। রাজ্যের একদা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শচীন পাইলট খোলাখুলিই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন গেহলটের বিরুদ্ধে। শেষে ভোটের আগে অনেক বুঝিয়ে শচীন পাইলটকে গেহলটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে রাজি করিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। অনেকের মতে, এই ফলাফলের পর রাজস্থানে গেহলট জমানার ইতি ঘটল ঠিকই। কিন্তু শচীন পাইলটেরও হয়তো ভাল হল না। এর ফলে লোকসভা ভোটে রাজস্থানে বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যেতে পারে কংগ্রেস। সেই চ্যালেঞ্জ শচীন সামলাতে পারবেন কিনা, এমনকী নিজে দাঁড়ালেও জিততে পারবেন কিনা সেই সংশয় রয়ে গেল।