
ট্রেনের মধ্যে ভিড়ের ছবি
শেষ আপডেট: 30 January 2025 19:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। মহাকুম্ভে পদপিষ্টের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা এখনও অবধি ৪০। আহতের সংখ্যাটাও বহু। স্বজনহারাদের খুঁজে পেতে হাসপাতালের মর্গের বাইরে ভিড় জমিয়েছেন পুণ্যার্থীরা।
এরকমই আতঙ্কে চোখের পাতা এক করতে পারছেন না জিতেন্দ্র সাহু। মহাবিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁর কাকিমা শকুন্তলা দেবীকে হন্যে হয়ে খুঁজে চলেছেন তিনি। গোয়ালিয়র থেকে ১৫ জন মিলে পুণ্যস্নানে এসে যে এরকম ভয়ংকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে, এখনও যেন ভাবতে পারছেন না তিনি।
সংবাদ সংস্থাকে জিতেন্দ্র জানান, “কাকিমার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করতে পারিনি আমরা। তাঁর গলায় পরিচয়পত্র ঝোলানো ছিল। বারবার ফোন করলেও পাওয়া যাচ্ছে না। কী যে করব কিচ্ছু বুঝতে পারছি না।”
জিতেন্দ্রর মতোই তাঁদের হারিয়ে যাওয়া পরিজনদের হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেন বহু পুণ্যার্থী। সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, যাঁরা হারিয়ে গিয়েছেন তাঁদের বেশিরভাগই মহিলা।
সংবাদসংস্থা রয়টার্স অবশ্য জানিয়েছে,
• রাজ্য পুলিশ মৃতের সংখ্যা ৩০ জন বলে জানিয়েছে।
• পুলিশের তিনটি সূত্র জানিয়েছে যে প্রায় ৪০টি মৃতদেহ মর্গে আনা হয়েছে পদপিষ্টের ঘটনার পর।
• মৃতদের মধ্যে কিছুজন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, এমনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
যারা যারা এই মহা বিপর্যয়ের সাক্ষী থেকেছেন, তাঁদের একটাই আর্তি, পুণ্যার্থীরা যেন আপাতত মহাকুম্ভে আসার কথা না ভাবেন। কিন্তু বাস্তব ছবিটা একেবারেই আলাদা।
একথা বলার কারণ, সম্প্রতি এক ট্রেনের কামরার ভেতরের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা গিয়েছে, পুণ্যার্থীদের মহাকুম্ভে আসার যা হিড়িক, তাতে সামান্য দাঁড়ানোর পর্যন্ত জায়গা নেই। কেউ কেউ আপার বার্থে পা ঝুলিয়ে কোনও রকমে বসে রয়েছেন। কেউ ট্রেনের মেঝেতেই আশ্রয় নিয়েছেন।
View this post on Instagram
আর এই ভিডিও নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেরই মতে, এরকম পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পরও কোন সাহসে তাঁরা প্রাণের তোয়াক্কা না করে পুণ্যস্নানে যাচ্ছেন? কেউ কেউ বলছেন, মানুষ নিজে সাবধান না হলে এরকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
বস্তুত, অমৃত স্নানের জন্য সারা দেশ থেকে কোটি কোটি পুণ্যার্থী প্রয়াগরাজ পৌঁছেছেন। ভিড় সামলাতে রেলপথ মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রয়াগরাজের বিভিন্ন স্টেশন থেকে ৩৬০টিরও বেশি ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত, কোনও বিশেষ ট্রেন বাতিল করার পরিকল্পনা নেই। তাতেও এই বিপত্তি।