শাসকদলে তলায় তলায় তৎপরতা শুরু হয়ে গেলেও বিরোধী জোট এখনও প্রার্থী নিয়ে কোনও আলাপ-আলোচনা শুরুই করেনি।

জগদীপ ধনকড় ৩৪৬ ভোটে জিতেছিলেন।
শেষ আপডেট: 25 July 2025 11:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপরাষ্ট্রপতি ভোটের বিজ্ঞপ্তি যে কোনও সময় দিতে পারে নির্বাচন কমিশন। শাসকদলে তলায় তলায় তৎপরতা শুরু হয়ে গেলেও বিরোধী জোট এখনও প্রার্থী নিয়ে কোনও আলাপ-আলোচনা শুরুই করেনি। তবে ফোনাফুনির মাধ্যমে বিরোধীরা যে বিষয়টিতে একমত হয়েছে, তা হল এবার ২০২২ সালের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চায় না ইন্ডিয়া জোট। ফলে, বিহার বিধানসভা ভোটের আগে ফের একবার এনডিএ বনাম ইন্ডিয়া জোট শক্তি পরীক্ষার মুখোমুখি হতে চলেছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে সকলের মতামতের তোয়াক্কা করে কংগ্রেস প্রবীণ নেত্রী তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মার্গারেট আলভাকে প্রার্থী করে দেয়। ফলে তৃণমূল কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি সেই ভোটদানে বিরত থাকে। এই দুই দল আলভা কিংবা জগদীপ ধনকড় কাউকেই ভোট দেয়নি। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, কাউকে যদি বিরোধী ঐক্য বজায় রাখতে হয়, তাহলে তাদের ভাবমূর্তি ও নিজস্ব স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। মোট ৫৫ জন সদস্য উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানে বিরত ছিলেন। যাতে জগদীপ ধনকড় ৩৪৬ ভোটে জিতেছিলেন।
সে কারণে এবার আর অতীতের ভুল না করে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট মোটামুটি একমত হয়েছে যে, যৌথ প্রার্থী দেওয়া হবে। সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার বিদেশ সফর সেরে ফিরে আসলেই এনডিএ প্রার্থী নিয়ে পুরোদমে আলোচনা শুরু হয়ে যাবে। অন্যদিকে, এনডিএ প্রার্থী ঘোষণা করলেই ইন্ডিয়া জোটও তৎপরতা শুরু করবে। ফলে দু-একদিনে মধ্যেই ইন্ডিয়া জোটের আনুষ্ঠানিক বৈঠকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রার্থী নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।
উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী নিয়ে প্রবীণ এক কংগ্রেস নেতা জানান, মার্গারেট আলভাকে নিয়ে ইন্ডিয়া ব্লকের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। তবে এবারে আমরা আর গত নির্বাচনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চাই না। দুই কক্ষেই আমাদের উপস্থিতি ৪০-৬০ আনুপাতিক হারে আছে। আমরা লড়াই করব। কংগ্রেস অন্যান্য দলের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ তৈরি করছে। আমাদের লক্ষ্য সকলের সম্মতিতে একজন বিরোধী প্রার্থী দাঁড় করানো। আগে সরকার প্রার্থী ঘোষণা করুক। তারপরেই আমরা বিরোধী প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম জানাব।
তৃণমূলের এক নেতাও জানান, এবার আমরা পরিষ্কার। জোট সদস্য নেতারা আলোচনায় আছেন। সম্মিলিত প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে এবার ভুল হবে না। উল্লেখ্য, লোকসভায় ইন্ডিয়া জোটের সদস্য সংখ্যা ২৩৫ এবং রাজ্যসভায় ৭৮। ফলে উপরাষ্ট্রপতি পদে বিরোধী জোটের হার নিশ্চিত হলেও তারা একটি লড়াইতে জেতে চাইছে।
যদিও অ-কংগ্রেসি দলগুলি ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, বড় শরিক বলে কংগ্রেস যেন তাদের প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করে। এবারেও তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়ে দিয়েছে, কংগ্রেস যেন কেবল নিজের প্রার্থীর কথা চিন্তা না করে। অ-কংগ্রেসি মুখের কথা ভাবা হয়। অ-কংগ্রেসি প্রার্থী হলেই বিরোধী জোট দোদুল্যমান ভোট পেতে পারে। কংগ্রেসের এক নেতাও বলেছেন, ঐক্য যাতে চিড় না ধরে তার চেষ্টা করা হবে এবার।