গয়া থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের পাথরা, হেরহঞ্জ ও কেওয়ালদিহ গ্রামের বাসিন্দারা ৭৭ বছর ধরে অপেক্ষা করছেন মহোরহার নদীর উপর একটি সেতুর। বর্ষায় বুকসমান জল পেরিয়ে চলাচল, হাসপাতালে পৌঁছতে না পেরে মৃত্যু, তাই ভোট বয়কট করছেন তাঁরা।

ওই তিন গ্রামের বাসিন্দারা এভাবেই নদী পার হচ্ছেন এতবছর ধরে
শেষ আপডেট: 9 November 2025 12:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, যুবসমাজ- বিহারের (Bihar) চলতি বিধানসভা নির্বাচনের মূল ইস্যু এগুলিই। কিন্তু গয়া (Gaya) থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের তিনটি গ্রাম—পাথরা (Pathra), হেরহাঞ্জ (Herhanj) ও কেওয়ালদিহ (Kewaldih)—আজও উন্নয়নের স্বপ্ন থেকে অনেক দূরে। এখানকার প্রায় ৮,০০০ গ্রামবাসীর একটিই দাবি, একটিই স্লোগান, “পুল না হলে ভোট নয়”।
এই তিন গ্রামকে রাজ্যের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করে একমাত্র মহোরহার নদী (Mhorhar river)। কিন্তু নদীর উপর এখনও পর্যন্ত একটি সেতুও তৈরি হয়নি। স্থানীয়দের কথায়, এই নদীই তাদের ‘অসহায়তা’। বর্ষাকালে জলস্তর কাঁধ পর্যন্ত উঠে যায়। তখন গ্রামগুলি কার্যত রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
প্রায় চার মাস ধরে এমন অবস্থা চলতে থাকে। স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় শিশুদের, কৃষকরা ফসল বিক্রি করতে পারেন না, বাজারে পৌঁছনো কঠিন হয়, অসুস্থদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। এক গ্রামবাসীর কথায়, ‘প্রতিবছর চার মাস আমরা বাইরের জগত থেকে সম্পূর্ণ কেটে যাই। কীভাবে বাঁচি, সেটা কেবল আমরা জানি।’
মহিলারাই এই অঞ্চলের ভোটব্যবস্থার মেরুদণ্ড। অথচ তারাই বঞ্চিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে। পাঠরার বাসিন্দা সুনীল বিশ্বকর্মা (Sunil Vishwakarma) এমনই এক ভুক্তভোগী। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছতে পারেননি, মারা যান নদীর ধারে। তাঁর মা বলেন, ‘অ্যাম্বুল্যান্স ছিল না, প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করতে হয়েছিল। কিন্তু গাড়ি ছিল নদীর ওপারে। আসার আগেই শেষ।’
গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রেও এই বিপদ স্থায়ী। স্থানীয়দের দাবি, বর্ষার সময় প্রায়ই প্রাণহানি ঘটে। এক মহিলার কথায়, ‘প্রতিবছর অন্তত দু’জন মানুষ মারা যান। চারপাশে বন আর নদী, এই অবস্থায় টিকে থাকা কঠিন।’
রাজনৈতিক নেতারা আসেন, প্রতিশ্রুতি দেন কিন্তু ৭৭ বছরেও পরিস্থিতি বদলায়নি। স্থানীয়দের দাবি আজ একটাই, মহোরহার নদীর উপর একটি সেতু। তবেই ভোট মিলবে।
বর্তমানে বিহারে ভোট হচ্ছে দুই দফায়। প্রথম দফা শেষ হয়েছে ৬ নভেম্বর, দ্বিতীয় দফা ১১-এ। ফল ঘোষণা হবে ১৪ নভেম্বর। কিন্তু এই তিন গ্রামবাসীর কাছে ভোট মানে একটাই শর্ত, ‘পুল হবে, তবেই ভোট।’