অজিতের কাকা শরদ পাওয়ারের এনসিপি (শরদ)-এর সঙ্গে মূল এনসিপির মিশে যাওয়ার বিষয়ে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি কথা হতে পারে দু'দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে।

শেষ আপডেট: 30 January 2026 08:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের মন্ত্রিসভায় অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar) শূন্যস্থান পূরণে তাঁর স্ত্রী সুনেত্রাকে (Sunetra Pawar) উপমুখ্যমন্ত্রী (Deputy CM) হিসেবে চাইছে এনসিপি (NCP)-র শীর্ষ নেতৃত্ব। তিনি বর্তমানে রাজ্যসভার সদস্য। তাঁকে রাজ্য রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে চাইছে দল। বৃহস্পতিবার রাতে অজিত পত্নীর সঙ্গে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে এই বিষয়ে এক প্রস্থ কথা হয়েছে। তাঁকেই উপমুখ্যমন্ত্রী হতে দল আর্জি জানিয়েছে।
এদিকে অজিতের কাকা শরদ পাওয়ারের (Sharad Pawar) এনসিপি (শরদ)-এর সঙ্গে মূল এনসিপির মিশে যাওয়ার বিষয়ে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি কথা হতে পারে দু'দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে। ওইদিন সন্ধ্যায় মুম্বইয়ে শরদ পাওয়ারের বাড়িতে এই বৈঠক হওয়ার কথা। যদিও অজিতের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের নেতারা এখনই দুই দলের মিলন চাইছেন না বলে খবর। তাঁরা চাইছেন অজিতের শূন্যস্থান পূরণের ধাক্কা আগে সামলে নিতে।
অজিত ঘনিষ্ঠদের এই ভাবনার পিছনে কাজ করছে রাজ্য রাজনীতির দুটি সমীকরণ। দুই এনসিপি মিশে গেলে ক্ষমতার রাশ কোন পক্ষের হাতে থাকবে তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা চলছে। মূল দলের প্রতিষ্ঠাতা বর্ষীয়ান নেতা তথা অজিতের কাকা শরদ পাওয়ারকে সামনে রেখে তাঁর মেয়ে সুপ্রিয়া ও ঘনিষ্ঠরা দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারেন, এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না সদ্যপ্রয়াত নেতার ঘনিষ্ঠরা। দ্বিতীয় বিষয়টি হল একনাথ শিন্ধের শিবসেনা। অজিত পাওয়ারের অকাল প্রয়াণে মন্ত্রিসভায় আর এক উপমুখ্যমন্ত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিন্ধের গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়ণবিশের সঙ্গে অজিতের বোঝাপড়া তুলনামূলকভাবে ভাল ছিল। বিজেপি নেতৃত্বও সেই কারণে চাইছে অজিত পত্নী সুনেত্রা উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় যোগ দিন। তিনি শুধু অজিত পত্নী এবং রাজ্যসভার সদস্য তাই নন, বিয়ের আগে থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
আসলে বিমান দুর্ঘটনায় সদ্যপ্রয়াত এনসিপি সুপ্রিমো অজিতের গোটা পরিবারই রাজনীতিতে যুক্ত। স্ত্রী সুরেত্রা ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে বারামতীতে প্রার্থী হয়েছিলেন ননদ সুপ্রিয়া সুলের বিরুদ্ধে। নির্বাচনী হেরে যাওয়ার পর সুনেত্রা রাজ্যসভার সদস্য হন।
অন্যদিকে, অজিতের দুই পুত্র পার্থ এবং জয়ও রাজনীতিতে সক্রিয়। বড় ছেলে পার্থ ২০১৯ এ লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। তিনি মূলত মুম্বই কেন্দ্রিক রাজনীতিতে যুক্ত।
অন্যদিকে ছোট ছেলে জয়কে অজিত বারামতীর রাজনীতি সামলানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সেই কাজে জয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন বলে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে। তাদের ভাবনা অজিত পত্নী সুনেত্রাকে বিধান পরিষদের সদস্য করা হবে যাতে তিনি উপ মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারেন। অন্যদিকে বারামতী বিধানসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী করা হবে অজিতের ছোট ছেলে জয়কে।
বৃহস্পতিবার রাতে মুম্বইয়ের বাড়িতে সুনেত্রা সঙ্গে দেখা করেন এনসিপির কার্যনির্বাহী সভাপতি প্রফুল প্যাটেল, প্রবীণ নেতা তথা মন্ত্রিসভার সদস্য ছগন ভুজবল-সহ একাধিক নেতা মন্ত্রী। সেখানেই সুনেত্রটাকে উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এদিকে অজিতের মৃত্যুতে দুই এনসিপির মিলন নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। দু'দলের তরফ থেকেই দাবি করা হচ্ছে অজিত মারা যাওয়ার আগেই এনসিপির দুই শিবিরের মিলনের বিষয়ে কাকা শরদের সঙ্গে তার কয়েক দফা বৈঠক হয়েছিল। সেই আলোচনা সূত্র ধরেই দুই এনসিপির মিলন নিয়ে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি কথা হতে পারে।