২০ বছর আগে গোয়ালিওরের এক অনাথ আশ্রম থেকে ঊষা দেবী এবং তাঁর স্বামী ভূবেন্দ্র পাচৌরি দীপককে দত্তক নিয়েছিলেন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 July 2025 14:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মায়ের ৩২ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিটের ওপর নজর ছিল ছেলের। তা আত্মৎ করার লোভে মাকে খুন করে দেওয়ালে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের ঘোষণা করল মধ্যপ্রদেশের শেওপুর ট্রায়াল কোর্ট। জানা গিয়েছে, বহু বছর আগে এই ছেলেকেই দত্তক নিয়েছিলেন ওই মহিলা।
কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ভারতীয় ঐতিহ্য বলে, মা ভগবানের সমান। সেই মাকেই খুন করার কোনও ‘অজুহাত’ই গ্রাহ্য নয়। বুধবার এমনটাই জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী।
অ্যাডিশনাল সেশন বিচারক এল ডি সোলাঙ্কি, গত বছর মা ঊষা দেবীকে খুন করার অপরাধে শেওপুর রেলওয়ে কলোনির বাসিন্দা দীপক পাচৌরির মৃত্যুদণ্ডের ঘোষণা করেন।
বিশেষ সরকারি আইনজীবীর কথায়, ২০২৪ সালের ৮ মে শেওপুর কোতওয়ালি থানায় মায়ের নামে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু তার বয়ানে অসংগতি লক্ষ্য করে সন্দেহ হয় পুলিশের। পরে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন নিজেই মায়ের খুনের কথা স্বীকার করে নেয় দীপক।
সুপারিন্টেনডেন্ট অফ পুলিশ জানিয়েছেন, ২০ বছর আগে গোয়ালিওরের এক অনাথ আশ্রম থেকে ঊষা দেবী এবং তাঁর স্বামী ভূবেন্দ্র পাচৌরি দীপককে দত্তক নিয়েছিলেন। ২০২১ সালে বাবার মৃত্যুর পর দীপক তাঁর রেখে যাওয়া ফিক্সড ডিপোজিট থেকে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা তুলে নিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করা। সেই মতো ১৪ লক্ষ টাকা সে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করে বাকি টাকা উড়িয়ে দেয়।
মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে দীপকের নজর পড়ে মায়ের ৩২ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিটের ওপর। সরকারি আইনজীবী জানান, যেহেতু দীপক একমাত্র নমিনি ছিল এই টাকার, তাই সেই টাকা তাড়াতাড়ি নিজের হাতে নিয়ে আসাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
কিন্তু ঊষা দেবী ছেলেকে সেই টাকা দিতে রাজি না হওয়ায়, ঠান্ডা মাথায় মায়ের খুনের পরিকল্পনা করে দীপক। প্ল্যান অনুযায়ী, ৬ মে সিঁড়ি থেকে ঠেলে ফেলে দেয় মাকে। তাতেও ঊষা দেবীর মৃত্যু না হওয়ায়, লোহার রড দিয়ে চেপে ধরে দীপক। দমবন্ধ হয়ে যাওয়ায় মৃত্যু হয় তাঁর।
এখানেই শেষ নয়, লাল কাপড়ে মুড়ে সিঁড়ির নীচের টয়লেটের দেওয়াল ভেঙে মায়ের দেহ পুঁতে সিল করে দেয় দীপক।
জিজ্ঞাসাবাদের পর, পুলিশ সেখান থেকে দেহ খুঁজে বার করে। লোহার রডটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়। যথারীতি ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হয়। যাবতীয় প্রমাণ এবং তথ্যের ভিত্তিতে এরপরই দীপকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ।