মাত্র ১০ টাকার গরমিলের অভিযোগে ২০০২ সালে চাকরি খুইয়েছিলেন রেলকর্মী নারায়ণ নায়ার। দীর্ঘ ২১ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে মিলল ন্যায়বিচার।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 13 April 2026 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ১০ টাকার গরমিলের অভিযোগে চাকরি খোয়াতে হয়েছিল এক রেলকর্মীকে। দীর্ঘ ২১ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে তাঁর সম্মান ফিরিয়ে দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট (Madhya Pradesh High Court)। আদালতের স্পষ্ট মন্তব্য, গোটা ঘটনায় প্রমাণের অভাব এবং তদন্তে গুরুতর গাফিলতি ছিল।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে নারায়ণ নায়ার। ২০০২ সালের ৪ জানুয়ারি, শ্রীধাম রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে ডিউটিতে ছিলেন তিনি। সেই সময় ভিড়ের মধ্যে আচমকা হাজির হয় ভিজিল্যান্স দল। তাঁদেরই এক ছদ্মযাত্রী অভিযোগ করেন, ৩১ টাকার বদলে ২১ টাকা ফেরত দিয়েছেন নায়ার অর্থাৎ ১০ টাকার গরমিল।
নায়ার বারবার জানান, ভিড়ের চাপে ভুল হয়ে থাকতে পারে কিন্তু সেই যুক্তি শোনার সুযোগই দেওয়া হয়নি। যথাযথ শুনানি ছাড়া তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। বহু বছরের কর্মজীবন মুহূর্তে শেষ হয়ে যায়।
অভিযোগ এখানেই থামেনি। তাঁর কাছে ৪৫০ টাকা পাওয়া গিয়েছিল বলে দাবি করে ভিজিল্যান্স দল। নায়ারের বক্তব্য ছিল, অসুস্থ স্ত্রীর ওষুধ কেনার জন্য ওই টাকা আলাদা করে রাখা ছিল। কিন্তু সেই ব্যাখ্যাও গুরুত্ব পায়নি।
এর পাশাপাশি কাউন্টারে একটি টিকিটের গুচ্ছ পাওয়া যায় বলে অভিযোগ তোলা হয়। নায়ারের দাবি, সেটি মেঝেতে পড়ে ছিল এবং তিনি সে বিষয়ে কিছু জানতেন না। তবুও অভিযোগে তা যোগ করা হয়।
এক্ষেত্রে অঙ্কের হিসাবও বারবার বদলেছে। প্রথমে ৭৭৮ টাকার গরমিলের কথা বলা হলেও, পরে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৭ টাকায়। কিন্তু তত দিনে চাকরি হারিয়েছেন নায়ার।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৬ সালে এই মামলার নিষ্পত্তি হয়। আদালত জানায়, ১০ টাকার অভিযোগ প্রমাণের মতো কোনও স্বাধীন সাক্ষী নেই। অভিযোগ এসেছে শুধুমাত্র ভিজিল্যান্স দলের পক্ষ থেকেই। কোনও যাত্রীর অভিযোগও মেলেনি।
সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হিসেবে আদালত তুলে ধরে, তদন্তকারী আধিকারিকই একই সঙ্গে অভিযোগকারী এবং বিচারকের ভূমিকায় ছিলেন। আদালতের মন্তব্য, “সম্ভাবনার নিরিখেও অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।”
শেষে ট্রাইবুনালের রায় বহাল রেখে রেল কর্তৃপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। একই সঙ্গে জানানো হয়, এমন সামান্য অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা ছিল অত্যন্ত কঠোর এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
নারায়ণ নায়ারের জন্য এই রায় নিঃসন্দেহে স্বস্তির। তবে ২১ বছর পর পাওয়া এই ন্যায়বিচার তাঁর জীবনের হারানো সময় আর ফিরিয়ে দিতে পারবে না।